kalerkantho

26th march banner

আ. লীগ নেতাকর্মীরা নিরাপত্তাহীনতায়!

আবু দাউদ, খাগড়াছড়ি   

৩১ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



পৌরসভা নির্বাচনপরবর্তী সহিংসতা থামছেই না খাগড়াছড়িতে। গত সোমবার রাতে জেলা আওয়ামী লীগের এক নেতার বাড়িতে ফের হামলার ঘটনা ঘটেছে। তাই নিজের ও পরিবারের সদস্যদের জীবন এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা চেয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন তিন নেতা। তাঁরা হলেন জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি কল্যাণ মিত্র বড়ুয়া, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নির্মলেন্দু চৌধুরী এবং গত পৌর নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী শানে আলম। এছাড়া হামলার ভয়ে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের অনেক নেতাকর্মী উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন। তাঁদের অনেকে রাত কাটাচ্ছেন গোপন স্থানে।

গত বছরের ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হয় খাগড়াছড়ি পৌরসভা নির্বাচন। এতে মেয়র নির্বাচিত হন স্বতন্ত্র প্রার্থী রফিকুল আলম। তিনি জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক (বর্তমানে সাময়িক বহিষ্কৃত) জাহেদুল আলমের ছোটভাই। ওই নির্বাচনের পর থেকে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী ও সমর্থক এবং তাঁদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে একের পর এক হামলার ঘটনা ঘটে। সর্বশেষ গত শনি ও রবিবার হামলায় আওয়ামী লীগের পাঁচ নেতাকর্মী আহত এবং তাঁদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা হয়। সোমবার রাতে জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নির্মলেন্দু চৌধুরীর বাসভবনে হামলা হয়েছে।

একই রাতে বাসায় ফেরার পথে শহরের ভাঙাব্রিজ এলাকায় জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মনির হোসেন খানের ওপর হামলা চালায় অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা। তাঁকে টেনে হেচড়ে পাশের ঠিকাদার সমিতি কার্যালয়ের সামনে নিয়ে মারধর করা হয়। তাঁর মোবাইল সেটও কেড়ে নিয়ে যায় সন্ত্রাসীরা।

মনির হোসেন খান অভিযোগ করেন, ‘পৌরসভার মেয়র রফিকুল আলমের ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসীরা আমার ওপর হামলা চালিয়েছে। ’

এদিকে গেল পৌর নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী মো. শানে আলম তাঁর জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে গত মঙ্গলবার সদর থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন। এতে তিনি অভিযোগ করেন, মেয়র রফিকুল আলম তাঁকে সরাসরি হত্যার হুমকি দিয়েছেন। এছাড়া বাসাবাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ এনে সোমবার রাতে সাধারণ ডায়েরি করেছেন জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি কল্যাণ মিত্র বড়ুয়া ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নির্মলেন্দু চৌধুরী। দুটি জিডিতেই দুর্বৃত্তদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এর আগে খাগড়াছড়িতে এস এ টিভির প্রতিনিধি নুরুল আজম ও বাংলানিউজ২৪.কমের স্টাফ করেসপনডেন্ট অপু দত্ত জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে সাধারণ ডায়রি করেছিলেন। সেখানে খাগড়াছড়ির মেয়র রফিকুল আলমের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন তিনি।

তবে কাউকে হুমকি-ধমকি দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মেয়র রফিকুল আলম। তিনি বলেন, ‘এসব অভিযোগ সত্য নয়। ’

সহকারী পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) রইছ উদ্দিন বলেন, ‘পুলিশ খুবই তৎপর রয়েছে। বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীরা আইনের হাত থেকে রক্ষা পাবে না। ’


মন্তব্য