kalerkantho


ঢাকা থেকে এক্সপ্রেসওয়ে চাই কক্সবাজার পর্যন্ত

আসিফ সিদ্দিকী   

৩১ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



ঢাকা থেকে এক্সপ্রেসওয়ে চাই কক্সবাজার পর্যন্ত

সরকার ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের পরিকল্পনা নিলেও ওই প্রকল্পে কক্সবাজার রাখা হয়নি। তবে কক্সবাজার পর্যন্ত এক্সপ্রেসওয়ে সম্প্রসারণের গুরুত্ব তুলে ধরেছে বিভিন্ন মহল।

জানা গেছে, ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে ঘণ্টায় ১০০ কিলোমিটার গতির এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ করবে সরকার। ইতোমধ্যে নকশা প্রণীত হয়েছে। ২০১৮ সালে নির্মাণকাজ শুরুর পরিকল্পনা নিয়ে কাজ চলছে। সড়কটি চালু হলে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় সড়কপথে মাত্র আড়াই ঘণ্টায় যাতায়াত সম্ভব হবে। কিন্তু এই পরিকল্পনায় যুক্ত করা হয়নি দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শহর কক্সবাজারকে।

শুধু পর্যটন শহর নয়, মহেশখালীতে ১০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র, সোনাদিয়ায় গভীর সমুদ্রবন্দর, গ্যাস সরবরাহে দেশের একমাত্র এলএনজি টার্মিনাল, টেকনাফের সাবরাংয়ে দেশের একমাত্র এক্সক্লুসিভ ট্যুরিস্ট জোন এবং বাংলাদেশ-চীন-ভারত-মিয়ানমার (বিসিআইএম) এর করিডর হিসেবে কক্সবাজার দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে ওঠেছে। আগামী কয়েক বছরের মধ্যে এসব কার্যক্রম শুরু হলে এই এলাকার ট্রাফিক বা পরিবহন ১০০ গুণ বাড়বে। নির্মিতব্য ঢাকা-চট্টগ্রাম এক্সপ্রেসওয়ের সাথে কক্সবাজারকে যুক্ত করা গেলে মাত্র সাড়ে তিন ঘণ্টায় একজন যাত্রী ঢাকা থেকে পর্যটননগরী কক্সবাজার পৌঁছতে পারবেন বলে বিশেষজ্ঞরা জানান।

দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রুট হলেও এখনো চট্টগ্রাম-কক্সবাজার সড়ক দেড় লেনের।

এই সড়ক দিয়ে চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার ১৫৮ কিলোমিটার পাড়ি দিতে সময় লাগছে পাঁচ ঘণ্টা। অবশ্য এরই মধ্যে সরকার ওই সড়ককে চার লেনে উন্নীত করার পরিকল্পনা নিয়েছে। কিন্তু তা কবে নাগাদ বাস্তবায়ন হবে তা ঠিক হয়নি। বর্তমানে কক্সবাজারের সাথে ঢাকার দ্রুততম যোগাযোগ মাধ্যম হচ্ছে বিমান। কক্সবাজার পর্যন্ত রেলপথ নেই। নৌপথেও আসার কোনো ব্যবস্থা নেই। এই অবস্থায় এক্সপ্রেসওয়ের সাথে কক্সবাজারকে যুক্ত করা হলে দ্রুততম যোগাযোগ নিশ্চিত হবে।

গত ২৩ মার্চ চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে ‘ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের এক্সপ্রেসওয়ের প্রস্তাবিত এলাইনমেন্ট এবং নকশা’ সম্পর্কিত মতবিনিময় সভায় চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার রুহুল আমিন এক্সপ্রেসওয়েকে কক্সবাজার পর্যন্ত সম্প্রসারণের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘পর্যটন সম্ভাবনা কাজে লাগাতে এবং ঢাকার সাথে এই অঞ্চলের যাতায়াত বাড়াতে এক্সপ্রেসওয়ের বিকল্প নেই। ’ তাঁর এই বক্তব্যের পর এক্সপ্রেসওয়ের প্রকল্প বাস্তবায়নে জড়িত কর্মকর্তারাও বিষয়টি আমলে নেন।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের সদস্য সচিব মাহবুব উল আলম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এখন পর্যন্ত এক্সপ্রেসওয়ের প্রণীত নকশায় কক্সবাজার পর্যন্ত সম্প্রসারণের বিষয়টি যুক্ত হয়নি। তবে সরকারি নির্দেশনা পেলে সেটিও সম্ভব। ’

তিনি আরো বলেন, ‘কর্ণফুলী নদীর তলদেশে টানেল চালু হওয়ার পর দক্ষিণ চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত ট্রাফিক বা গাড়ি চলাচল কেমন হবে সেই প্রজেকশনের ওপর নির্ভর করছে কক্সবাজার পর্যন্ত সম্প্রসারণ। চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার রুহুল আমিন কক্সবাজার পর্যন্ত সম্প্রসারণের বিষয়টি উত্থাপনের পর আমরা এ নিয়ে জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো অপারেশন এজেন্সি (জাইকা) প্রতিনিধির সঙ্গে আলাপ করেছি। জাইকা প্রতিনিধিও বলেছেন, একই সাথে চার লেন ও এক্সপ্রেসওয়ে নির্মিত হলে কন্ট্রাডিক্ট করবে। ’

জানা যায়, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার ১৫৮ কিলোমিটার দীর্ঘ সড়কটির কোথাও দেড় লেন আবার কোথাও দুই লেনের প্রশস্ত সড়ক। এই কারণে সড়কটি পাড়ি দিতে রাতে সময় লাগে প্রায় দুই ঘণ্টা আর দিনের বেলায় কমপক্ষে সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা। অর্থাৎ দিনে ট্রাফিক জ্যাম বেশি থাকায় তিনগুণ বেশি সময় লাগছে।

কক্সবাজার সড়ক ও জনপথ অধিপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী রানাপ্রিয় বড়ুয়া কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘১৫৮ কিলোমিটার সড়কের মধ্যে ৪০ কিলোমিটার দেড় লেন অর্থাৎ ৫ দশমিক ৫ মিটার। বাকিটা দুই লেনের। এই সড়কে প্রতি ঘন্টায় ১০ থেকে ১২ হাজার গাড়ি চলাচল করে। একই মাপের সড়ক না হওয়ায় গতি কোথাও বেশি আবার কোথাও কম। ’

তিনি জানান, সরকারের কক্সবাজারকেন্দ্রিক উন্নয়ন পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়িত হলে এবং এশিয়ান হাইওয়ের সাথে সংযুক্তি এবং বিসিআইএম প্রস্তাবিত সড়ক যোগাযোগ চালু হলে গাড়ি চলাচল অনেক বেড়ে যাবে। সেক্ষেত্রে চার লেন এবং আরো বড় পরিসরের সড়ক যোগাযোগের প্রয়োজন হবে।

জেলা প্রশাসন এবং সড়ক ও জনপথ অধিপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার পর্যন্ত চার লেন সড়কের নকশা তৈরির কাজ চলছে। এখনো প্রকল্পের ব্যয় নির্ধারণ করা হয়নি। আর নির্ধারিত হয়নি অর্থ বরাদ্দ প্রক্রিয়াও। এই অবস্থায় যদি কক্সবাজারকে এক্সপ্রেসওয়েতে যুক্ত করা যায় তাহলে দূরত্ব অন্তত ৫০ কিলোমিটার কমে আসবে। আর সময় লাগবে মাত্র এক ঘণ্টা।

চকরিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান জাফর আলম বলেন, ‘বর্তমান সরকার কক্সবাজার ঘিরে ব্যাপক উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে চার লেনের পাশাপাশি এখনই এক্সপ্রেসওয়ের সাথে কক্সবাজারকে যুক্ত করা দরকার। ’

উল্লেখ্য, বর্তমান সরকার ২১৭ কিলোমিটার দীর্ঘ ঢাকা-চট্টগ্রাম এক্সপ্রেসওয়ের জন্য ফিজিবিলিটি স্টাডি (সম্ভাব্যতা যাচাই) শেষ করেছে। সেই স্টাডি অনুযায়ী সম্পূর্ণ এলিভেটেড আকারে অর্থাৎ মাটির উপর দিয়ে সড়ক নির্মিত হলে খরচ হবে ৬৭ হাজার ৫৮৮ কোটি টাকা।

ঘণ্টায় ১০০ কিলোমিটার গতির এই সড়কের কাজ ২০১৮ সালে শুরু হয়ে ২০২২ সালে গাড়ি চলাচলের লক্ষ্য নিয়ে পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।


মন্তব্য