kalerkantho

রবিবার। ২২ জানুয়ারি ২০১৭ । ৯ মাঘ ১৪২৩। ২৩ রবিউস সানি ১৪৩৮।


সেই ১১ কিশোরীকে অভিভাবকের কাছে হস্তান্তর

নিজস্ব প্রতিবেদক, বান্দরবান   

২৪ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



মিয়ানমারে পাচার হওয়া ১১ মারমা কিশোরীকে তাদের মা-বাবার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বান্দরবান জেলা পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান তাঁর কার্যালয়ে গতকাল বুধবার বিকেলে হস্তান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন।

এ সময় পুলিশের পক্ষ থেকে পুনরায় স্কুলে ভর্তি হওয়ার জন্যে প্রত্যেককে পাঁচ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়। এর আগে বান্দরবান সদর হাসপাতাল ও চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে দুই দফায় স্বাস্থ্য পরীক্ষার পর বুধবার তাদেরকে বান্দরবান চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়। শুনানি শেষে আদালত তাদেরকে বৈধ অভিভাবকের জিম্মায় হস্তান্তরের নির্দেশ দেন।

জানা গেছে, বিনা খরচে পড়ানোর নাম করে বান্দরবানের রোয়াংছড়ি উপজেলা এবং রাঙামাটির বিভিন্ন গ্রাম থেকে বেশ কয়েকজন কিশোরীকে জানুয়ারির বিভিন্ন সময়ে কাপ্তাই উপজেলার মিতিঙ্গ্যাছড়ি বৌদ্ধ বিহারে নিয়ে আসা হয়। গত ২৬ ফেব্রুয়ারি তাদের পিতামাতার অজান্তে এদের মধ্য থেকে ১৩ কিশোরীকে অবৈধ পথে মিয়ানমার পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

এদিকে মেয়ের সন্ধান না পেয়ে একজন কিশোরীর অভিভাবক ১১ মার্চ মিতিঙ্গ্যাছড়ি বৌদ্ধ বিহারের ভিক্ষু উ স্ব রি ভান্তেকে অভিযুক্ত করে বান্দরবানের রোয়াংছড়ি থানায় একটি মামলা করেন। মামলার পরপরই কিশোরী পাচারের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ উ স্ব রি ভান্তেকে গ্রেপ্তার করে।

বান্দরবান গোয়েন্দা পুলিশের ওসি মনজুর আলম জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে উ স্ব রি ভান্তে ওইসব কিশোরীকে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার উ শৈ থোয়াই মারমার সহযোগিতায় মিয়ানমার পাঠিয়ে দেওয়ার কথা স্বীকার করেন। এই তথ্যের ভিত্তিতে নাইক্ষ্যংছড়ি থেকে অপর অভিযুক্ত উ শৈ থোয়াইকে আটক করে তাঁর মাধ্যমে যোগাযোগ করে ২০ মার্চ পাচারকৃতদের মধ্য থেকে ১১ কিশোরীকে ফিরিয়ে আনা হয়।

স্থানীয় সূত্র জানায়, বান্দরবানের বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রায়ই এ ধরনের কিশোরী ও শিশু পাচারের ঘটনা ঘটছে। আদিবাসীদের দারিদ্র্যতার সুযোগ নিয়ে বৌদ্ধভিক্ষু নামধারী কিছু সংখ্যক অসাধু ব্যক্তি এই পাচার কাজে জড়িত রয়েছেন।


মন্তব্য