kalerkantho


স্বাধীনতা দিবস উদ্যাপনের নামে চাঁদাবাজি!

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৪ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



স্বাধীনতা দিবস উদ্যাপনের নামে চাঁদাবাজি!

মহান স্বাধীনতা দিবস উদ্যাপনের নামে চাঁদাবাজিতে নেমেছে নাবিক ও প্রবাসী শ্রমিককল্যাণ পরিদপ্তর! দিবসটি উদ্যাপনের জন্য সরকারি বরাদ্দ রয়েছে ৬০ হাজার টাকা। তবু চট্টগ্রামে নাবিক নিয়োগকারী বিভিন্ন সংস্থা (মেনিং এজেন্ট) এবং বেসরকারি মেরিন একাডেমির মালিকদের কাছ থেকে চাঁদা নেওয়ার অভিযোগ ওঠেছে পরিদপ্তরের কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। তবে এ ঘটনাকে ‘চাঁদাবাজি’ বলতে নারাজ সংশ্লিষ্টরা।

এ প্রসঙ্গে নাবিক ও প্রবাসী শ্রমিক কল্যাণ পরিদপ্তরের পরিচালক নুরুল আলম নিজামী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এটাকে  চাঁদাবাজি কেন বলছেন? অনুষ্ঠান সফল করতে স্পন্সর নেওয়া হয়েছে মাত্র। কারো কাছ থেকে নগদ টাকা নেওয়া হচ্ছে না। একটি মেনিং এজেন্ট নাবিক হোস্টেলের নাবিকদের জন্য দুপুরের খাবার আয়োজন করে দিচ্ছে। অন্য একটি বেসরকারি মেরিন একাডেমি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান স্পন্সর করছে। ’

জানা গেছে, আসছে স্বাধীনতা দিবস উদ্যাপনের জন্য সরকারি ৬০ হাজার টাকা বরাদ্দ থাকা সত্ত্বেও বেসরকারি নাবিক নিয়োগকারী সংস্থা ‘খান এন্ড সন্স’ এবং ‘মাস মেরিন একাডেমি’ নামের দুটি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে চাঁদা আদায়ে পরিদপ্তরের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাঝে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

তাঁরা বলছেন, স্বাধীনতা দিবস উদ্যাপনে সরকার ৬০ হাজার টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। এই টাকা দিয়ে অনুষ্ঠান সুন্দরভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব। এর পরও  বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে অনুদান নেওয়া অপমানজনক। এভাবে টাকা আদায়ে সরকারি প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হওয়ার পাশাপাশি দুর্নীতি বাড়বে। এছাড়া ওই প্রতিষ্ঠানগুলো পরবর্তীতে অন্যায়ভাবে প্রতিদান চাইলেও কিছু বলার থাকবে না।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি পরিদপ্তরের পরিচালকের কার্যালয়ে স্বাধীনতা দিবস উদ্যাপন বিষয়ে এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন পরিচালক নুরুল আলম নিজামী। এতে স্বাধীনতা দিবস উদ্যাপনে সাতটি খাতে এক লাখ ১৮ হাজার ৮০০ টাকা বাজেট উপস্থাপন করেন নাবিক হোস্টেলের উপ-পরিচালক  মো. নজরুল ইসলাম। যেসব খাতে খরচ দেখানো হয়েছে সেগুলো হলো দাওয়াত কার্ড বাবদ ৩ হাজার, মিলাদ মাহফিল ৪ হাজার, সাজসজ্জা ২১ হাজার, পুরস্কারসামগ্রী ক্রয় ২৫ হাজার, দুপুরের খাবার ৫০ হাজার, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ১০ হাজার এবং বিবিধ খরচ দেখানো হয়েছে ৫ হাজার টাকা।

নুরুল আলম নিজামী বলেন, ‘প্রতিবছর ২৬ মার্চ উদ্যাপনে ৬০ হাজার টাকা সরকারি বরাদ্দ থাকে। যথাযোগ্য মর্যাদায় দিবসটি উদ্যাপনে দাওয়াত কার্ড, মিলাদ মাহফিল, সাজসজ্জা ও পুরস্কারসামগ্রী ক্রয় বাবদ ৬০ হাজার টাকায় সংকুলান করা যাবে। দুপুরের খাবার, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও অন্যান্য খরচের বিষয়ে নাবিকদের তিনটি ইউনিয়নের নেতা ও মেনিং এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সহায়তা চাওয়া হয়েছে। ’

সরকারি বিভিন্ন অনুষ্ঠানে চাঁদা দিতে দিতে বিরক্ত নাবিক নিয়োগ সংস্থা ও বেসরকারি মেরিন একাডেমিগুলো। জানা গেছে, হক এন্ড সন্স ৫০ হাজার টাকা দেওয়ার বিষয়ে সম্মত হলেও অন্য প্রতিষ্ঠানগুলো এখনো তাদের সিদ্ধান্ত জানায়নি। এ বিষয়ে মাস মেরিন একাডেমির স্বত্বাধিকারী মনির চৌধুরী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমাদের প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে নাবিক কল্যাণ পরিদপ্তরকে কোনো সহায়তা করা হয়নি। ’

নাবিক কল্যাণ পরিদপ্তর থেকে কোনো সহায়তা চাওয়া হয়েছিল কি না? এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান।

চাঁদা দাবির বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মেনিং এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের এক নেতা বলেন, ‘বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছে অনুদান চাওয়া হচ্ছে। তবে এখনো অনেকে সাড়া দেননি। মেনিং এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের আবদুল গাফফার, বাংলাদেশ সীফ্যারার্স অ্যাসোসিয়েশনের আবদুল মাবুদসহ কয়েকজন নেতা স্পন্সর খুঁজছেন। ’


মন্তব্য