kalerkantho

শনিবার । ২১ জানুয়ারি ২০১৭ । ৮ মাঘ ১৪২৩। ২২ রবিউস সানি ১৪৩৮।


চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে সওজের আট ‘প্রতিবন্ধক’

আসিফ সিদ্দিকী   

২৪ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে সওজের আট ‘প্রতিবন্ধক’

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মহাসড়কে ইট দিয়ে মেরামত করা অংশে যানবাহন চলছে ঝুঁকি নিয়ে। ছবি : কালের কণ্ঠ

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের আট স্থানে সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তরের ‘প্রতিবন্ধক’ রয়েছে। গত বর্ষায় মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় ধরনের গর্তের সৃষ্টি হওয়ায় সওজ অধিদপ্তর কার্পেটিংয়ের বদলে ইট দিয়ে সড়কের ওই অংশ মেরামত করে দেয়। সেই ইটের সড়ক এখন গাড়ি চলাচলে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করছে। ঘটছে দুর্ঘটনাও। বিকল হচ্ছে গাড়ি। আগামী বর্ষার আগে এগুলো মেরামত না করলে যান চলাচলে ঝুঁকি আরো বাড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে দোহাজারী সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী তোফাইল মিয়া কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বিষয়টির গুরুত্ব উপলব্ধি করে কার্পেটিং করতে আমরা আগেভাগে দরপত্র আহ্বান করে ঠিকাদারও চূড়ান্ত করে রেখেছি। কিন্তু প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ না পাওয়ায় কাজ শুরু করা যাচ্ছে না। দুই কোটি টাকা বরাদ্দ পেলে তিন সপ্তাহের মধ্যে কার্পেটিং করা সম্ভব হবে। ’

জানা গেছে, পর্যটন নগরী কক্সবাজারের সঙ্গে যোগাযোগের একমাত্র সড়ক চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে গত বছর ব্যাপক ও অবিরাম বর্ষণে বিভিন্ন স্থানে ছোট-বড় অনেক গর্তের সৃষ্টি হয়। কার্পেটিং ওঠে গিয়ে পানি জমে যানবাহন চলাচলে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হয়। এই অবস্থায় সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে কার্পেটিং তুলে সড়ক ইট-বালি দিয়ে উঁচু করে দেয়। একটি গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কে কার্পেটিংয়ের বদলে ওই ধরনের ইটের সড়ক নির্মাণের ঘটনা বিরল হলেও সাময়িক ব্যবস্থা হিসেবে সেটি তখন কাজ দিয়েছিল। আগের তুলনায় গাড়িগুলো মোটামুটি ভালোই চলছিল।

বর্ষা শেষ হওয়ার পর সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর পাঁচ কোটি টাকা ব্যয়ে চট্টগ্রাম থেকে দোহাজারী পর্যন্ত মহাসড়ক কার্পেটিং করে যান চলাচল নির্বিঘ্ন করে দেয়। কিন্তু নির্মিত ইটের সড়কের কোনো ধরনের মেরামত কাজ করেনি। ফলে এগুলো নতুন করে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করছে। সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এই গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়ক দিয়ে একাধিকবার চলাচল করলেও বিষয়টি নিয়ে তাঁর কোনো পদক্ষেপ দেখা যায়নি।

চট্টগ্রাম জেলা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সভাপতি কফিল উদ্দিন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘মহাসড়ক থেকে অপেক্ষাকৃত উঁচুতে ইটের সড়ক নির্মাণ করায় সেগুলো যান চলাচলে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করছে। বিশেষ করে অন্য জেলা থেকে আসা গাড়িগুলো ওই পথ দিয়ে চলতে গিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। ’

গাড়িচালক আমিনুর রশীদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘নির্দিষ্ট গতিতে গাড়ি চলছে, কিন্তু সেখানে গিয়েই থেমে যেতে হচ্ছে। অন্য জেলা থেকে আসা গাড়ি চালকরা হঠাৎ এই ধরনের ব্যারিকেড দেখে হতভম্ব হয়ে পড়েন। আর গতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে না পারলেই ঘটে দুর্ঘটনা। গাড়ি চলাচলে এগুলো প্রতিবন্ধকতা হিসেবে কাজ করছে। সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর যেন নিজেই ব্যারিকেড বানিয়ে রেখেছে। ’

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত আট স্থানে এই ধরনের ইটের সড়ক রয়েছে। যার মোট দৈর্ঘ্য ৯০০ মিটার। এর বেশির ভাগই দোহাজারী সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের আওতাধীন। মাত্র দুটির অবস্থান কক্সবাজার সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের চকরিয়া অংশে।

এদিকে ৯০০ মিটার দীর্ঘ ইটের সড়ক কার্পেটিং করতে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে দুই কোটি টাকা। ইতোমধ্যে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর ওই কাজের দরপত্র আহ্বান করেছে। ঠিকাদারও ঠিক করে রাখা হয়েছে। কাজের বরাদ্দ কেন মিলছে না জানতে চট্টগ্রাম বিভাগীয় সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী বিধান চন্দ্র ধরকে একাধিকবার ফোন করা হয়। কিন্তু তিনি ফোন ধরেননি।


মন্তব্য