kalerkantho


চকরিয়ার শীর্ষ জনপ্রতিনিধিরা একই এলাকার বাসিন্দা

আসিফ সিদ্দিকী   

২২ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



চকরিয়ার শীর্ষ জনপ্রতিনিধিরা একই এলাকার বাসিন্দা

বাম থেকে : সংসদ সদস্য মৌলভী ইলিয়াছ, উপজেলা চেয়ারম্যান জাফর আলম ও পৌরসভার মেয়র আলমগীর চৌধুরী।

চকরিয়ার শীর্ষ তিন জনপ্রতিনিধি সংসদ সদস্য, উপজেলা চেয়ারম্যান ও পৌরসভার মেয়র একই এলাকার বাসিন্দা। সংসদ সদস্য মৌলভী মোহাম্মদ ইলিয়াছ জাতীয় পার্টি থেকে নির্বাচিত হয়েছেন।

আর উপজেলা চেয়ারম্যান জাফর আলম ও পৌরসভার নবনির্বাচিত মেয়র আলমগীর চৌধুরী নির্বাচিত হন আওয়ামী লীগের টিকিটে। তাঁরা তিনজন আবার ঘনিষ্ঠ বন্ধুও। তাঁদের মাঝে রয়েছে সুসম্পর্ক।

গত রবিবার অনুষ্ঠিত চকরিয়া পৌরসভা নির্বাচনে আলমগীর চৌধুরী মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর ওই এলাকার মানুষ ‘গর্ব’ করে বলছেন, তাঁরা ‘পরম সৌভাগ্যবান’। জনপ্রতিনিধিদের সর্বোচ্চ তিন পদ এখন তাঁদের হাতে। এটি একটি রেকর্ডও বটে!

বিগত সংসদ নির্বাচনে চকরিয়া পৌরসভার পাঁচ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মৌলভী মোহাম্মদ ইলিয়াছ প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। রবিবারের পৌর নির্বাচনে প্রথমবার মেয়র হয়েছেন একই ওয়ার্ডের বাসিন্দা আলমগীর চৌধুরী। তবে এর আগে জাতীয় পার্টির আমলে ওই এলাকা থেকে উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন মোহাম্মদ হোছাইন। পৌরসভার সাত নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা চকরিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জাফর আলম এখন উপজেলা চেয়ারম্যান।

এর আগে তিনি চকরিয়া পৌরসভার মেয়র ছিলেন।

এ প্রসঙ্গে উপজেলা চেয়ারম্যান জাফর আলম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বিষয়টি কাকতালীয়ভাবেই হয়েছে। কারণ সব পদেই দলের শীর্ষ পর্যায় থেকে মনোনয়ন দেওয়া হয়। এখানে আঞ্চলিকতার কোনো বিষয় স্থান পায়নি। ’

তবে তিনি নিশ্চিত করেন, ‘উন্নয়নের ক্ষেত্রে পুরো চকরিয়াকে সমানভাবে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে এবং সামনেও হবে। কারণ পুরো চকরিয়ার অভিভাবক আমি, সবার ভোটেই আমি চেয়ারম্যান হয়েছি। ’

একই কথা বললেন চকরিয়া-পেকুয়া আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য মৌলভী ইলিয়াছ। তিনি বলেন, ‘উন্নয়নের ক্ষেত্রে আমি দলীয় ও আঞ্চলিকতাকে প্রাধান্য দিই না। অগ্রাধিকার নির্ধারণ করি গুরুত্ব বিবেচনায়। ফলে সমভাবেই উন্নয়নকাজ হচ্ছে। ’

নতুন পৌর মেয়র আলমগীর চৌধুরী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘উন্নয়নে সবার উদ্দেশ্য এক ও অভিন্ন। যিনি যে এলাকা থেকে নির্বাচিত হয়েছেন তার পুরোটার অভিভাবক তিনি। তাই গুরুত্ব বিবেচনায় উন্নয়ন অবকাঠামো নির্মাণে অর্থ বরাদ্দ হবে, এটা নিশ্চিত করে বলতে পারি। এখানে আঞ্চলিকতার কোনো স্থান নেই। ’

চকরিয়া কেন্দ্রীয় হাইস্কুল পরিচালনা পরিষদের সভাপতি সিরাজ আহমেদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘শীর্ষ তিন জনপ্রতিনিধি একই এলাকার বাসিন্দা হওয়া আমাদের জন্য শুধু সৌভাগ্য নয়, গর্বের বিষয়। চকরিয়ার আপামর জনগণ জনপ্রতিনিধি নির্বাচনে আমাদের এলাকাকে বেছে নিয়েছেন-এ জন্য সবার প্রতি কৃতজ্ঞ। ’

সরেজমিনে দেখা যায়, চকরিয়ার ৯টি ওয়ার্ডের মধ্যে যোগাযোগ ক্ষেত্রে উন্নয়ন হয়েছে নির্দিষ্ট কিছু এলাকায়। এর কারণ হিসেবে অনেকে বলছেন, এর আগে চকরিয়ার প্রথম ও তৃতীয় পৌর মেয়র হয়েছিলেন চকরিয়া স্টেশনের কাছাকাছি এলাকার। ফলে তাঁদের ওয়ার্ডেই উন্নয়নকাজ হয়েছে বেশি। অন্য বেশির ভাগ এলাকা উন্নয়নবঞ্চিত ছিল। তবে পাঁচ ও সাত নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দারা আশা করছেন, এবার তাঁদের এলাকার উন্নয়নে পিছিয়ে পড়ার হার কিছুটা হলেও কমবে।

 


মন্তব্য