kalerkantho


‘নেতাদের এক হওয়ার ফসল আ. লীগ প্রার্থীর বিজয়’

ছোটন কান্তি নাথ, চকরিয়া

২২ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



‘নেতাদের এক হওয়ার ফসল আ. লীগ প্রার্থীর বিজয়’

চকরিয়া পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে আওয়ামী লীগের বিজয় দলের স্থানীয় নেতাদের এককাতারে শামিল হওয়ার ফসল বলে মনে করছেন নেতাকর্মীরা। আলমগীর চৌধুরী নৌকা প্রতীকে পান ২৩ হাজার ৩৫২ ভোট। ধানের শীষ প্রতীকে নুরুল ইসলাম হায়দার পেয়েছেন ৮ হাজার ৮৪৫ ভোট।

নবনির্বাচিত মেয়র আলমগীর চৌধুরী গতকাল সোমবার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘দলের সব নেতা একসঙ্গে নির্বাচনী মাঠে থাকায় নৌকার বিজয় এসেছে। ঐক্যের কারণেই সবার ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হয়েছে। ’ ভোটারদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘দায়িত্ব নেওয়ার পর ব্যাপকভাবে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড শুরু করা হবে। আগামী বন্যার আগেই শহর রক্ষাবাঁধ নির্মাণ করে বন্যার অভিশাপ থেকে পৌরবাসীকে মুক্ত করতে। এই বাঁধ নির্মাণ করতে প্রয়োজনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গেও দেখা করব। ’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতা বলেন, এবারের পৌরসভা নির্বাচনে ডজন খানেক নেতা মেয়র পদে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন। এতে সিনিয়র নেতারাও বিভক্ত হয়ে পড়েন। শেষ মুহূর্তে দলের প্রধান শেখ হাসিনার মনোনয়ন পান উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আলমগীর চৌধুরী। এর ফলে নেতারা অনেকটা বাধ্য হন দলের প্রার্থীর পক্ষে মাঠে নামতে। ফলশ্রুতিতে চূড়ান্ত বিজয়ও এসেছে আওয়ামী লীগের ঘরে। তবে পৌরসভার দুই নম্বর ওয়ার্ডের দুটি কেন্দ্রে নৌকা অপেক্ষাকৃত কম ভোট পাওয়ায় নানা গুঞ্জনও চলছে।

ওই ওয়ার্ডের বাসিন্দা চকরিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও দলের মনোনয়ন প্রত্যাশী ফজলুল করিম সাঈদী বলেন, ‘আসলে আমার ওয়ার্ড বিএনপি-জামায়াত অধ্যুষিত এলাকা। দলের প্রার্থী আলমগীর চৌধুরীকে বিজয়ী করতে চেষ্টার কমতি ছিল না আমার। গত তিন পৌর নির্বাচনে একেবারে কম সংখ্যক (১০০ থেকে ১৫০) ভোট পেয়েছিলেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী। সেখানে এবার একটি কেন্দ্রে ৬২১ এবং অন্য কেন্দ্রে ৩৪৬ ভোট পেয়েছেন আমাদের প্রার্থী। ’

চকরিয়া পৌরসভা আওয়ামী লীগের সভাপতি জাহেদুল ইসলাম লিটু বলেন, ‘আমিও দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলাম। শেষ পর্যন্ত নেত্রী যাঁকে মনোনয়ন দিয়েছেন, তাঁর পক্ষেই দিন-রাত পরিশ্রম করে বিজয় ঘরে এনেছি। দলের সিনিয়র নেতারাও কম পরিশ্রম করেননি। এক্ষেত্রে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জাফর আলমের প্রচেষ্টা ছিল বেশি। মূলত তাঁর নির্বাচনী ক্যারিশমাতেই আওয়ামী লীগ প্রার্থীর বিজয় সম্ভব হয়েছে। ’

চকরিয়া উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক কাউছার উদ্দিন কছির, উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি এ এম আরিফুল ইসলাম চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন মিঠু ও সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ মজনু বলেন, দলের সিনিয়র নেতারা ঐক্যবদ্ধ হলেই যেকোনো নির্বাচনে বিজয় ঘরে আনা অসম্ভব নয়। এবার তা-ই প্রমাণিত হল। প্রতিটি সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরাও দলের প্রার্থীকে বিজয়ী করতে নিরবচ্ছিন্ন পরিশ্রম করেছেন।

তাঁরা মনে করেন, দলের নেতাদের এই ঐক্য ধরে রাখতে হবে। কোনো অবস্থাতেই সিনিয়র নেতাদের মধ্যে আর দলাদলি আমরা দেখতে চাই না। অনৈক্য থাকলে এর সুযোগ নেয় বিরোধীরা।

কক্সবাজার জেলা যুবলীগের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ও পৌরসভা আওয়ামী লীগের সদস্য আমিনুর রশীদ দুলাল বলেন, ‘দলের সিনিয়র নেতাদের এই ঐক্য যদি ধরে রাখা যায়, তাহলে সামনের প্রতিটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিজয় সুনিশ্চিত। ’


মন্তব্য