kalerkantho

চার ইউনিয়নে সহিংসতার আশঙ্কা

টেকনাফ

নিজস্ব প্রতিবেদক, কক্সবাজার   

২০ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



সীমান্ত উপজেলা টেকনাফের চার ইউনিয়নে নির্বাচনে ব্যাপক সহিংসতার আশঙ্কা রয়েছে। ঘটছে আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঘটনা।

জনমনে দেখা দিয়েছে উদ্বেগ-উত্কণ্ঠা। সাবরাং, টেকনাফ সদর ও বাহারছড়া ইউনিয়নে নির্বাচন ২২ মার্চ। হ্নীলায় ভোটগ্রহণ ২৭ মার্চ।

সর্বশেষ যোগ হয়েছে স্থানীয় সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদির ‘তত্পরতা’। অভিযোগ ওঠেছে, এমপি বদি টেকনাফের ছয় ইউনিয়নের মধ্যে কেবল হ্নীলায় আওয়ামী লীগের এইচ কে আনোয়ার ছাড়া অন্য সব চেয়ারম্যান প্রার্থীর বিরুদ্ধে নীরবে কাজ করছেন। দলীয় এমপির এ রকম ‘নেতিবাচক’ ঘটনায় পুরো উপজেলায় মারাত্মক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।

এদিকে কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগেও আবদুর রহমান বদির কার্যক্রমে কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়ার ব্যাপারে দলীয় কর্মীদের চাপ বাড়ছে। জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান চেয়ারম্যান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘বদি একজন দলীয় সংসদ সদস্য। তাই হুট করে দলীয় কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় না।

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শফিউল আলম গত মঙ্গলবার প্রার্থীদের সঙ্গে বৈঠক করে আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিষয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। তিনি বলেন, ‘সবাইকে জানিয়ে দিয়েছি, এখানে প্রভাব প্রতিপত্তি দেখিয়ে আইন লঙ্ঘন করা চলবে না। ’

কক্সবাজারের পুলিশ সুপার শ্যামল কুমার নাথ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘নির্বাচনে সহিংসতার কথা কেউ মাথায় রাখলে ভুল করবে। এ রকম সুযোগ কেউ পাবে না। ’

নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে, ততই টেকনাফের সাবরাং ইউনিয়নের পরিবেশ সহিংসতার দিকে এগোচ্ছে। এখানে আট চেয়ারম্যান এবং ৭৪ জন মেম্বার প্রার্থী। চেয়ারম্যান পদে ‘আলোচিত প্রার্থী’ পাঁচজন। এর মধ্যে ক্ষমতাসীন দলের সোনা আলী ও বহিষ্কৃত যুবলীগ নেতা নুর হোসেন এবং বিএনপির সোলতান আহমদ ও ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী মোহাম্মদ ইসমাঈল মেম্বারের মধ্যে ‘রেষারেষি’ এখন তুঙ্গে। তাঁদের সঙ্গে লড়ছেন বর্তমান চেয়ারম্যান হামিদুর রহমান। এছাড়া ইউনিয়নের শাহপরীর দ্বীপ ১, ২ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডে একাধিক ইয়াবা ব্যবসায়ীর ‘দাপট’ চলছে সমানে।

সাবরাং ইউনিয়নে মোট ভোটার ৩০ হাজারের বেশি। শাহপরীর দ্বীপের তিন ওয়ার্ডে আছে ১১ হাজার ভোটার। এসব ভোটার নিয়ে ‘কাড়াকাড়ি’ চলছে এলাকার তিন চেয়ারম্যান প্রার্থী সোনা আলী, হামিদুর রহমান ও ইসমাঈল মেম্বারের মধ্যে। অপরদিকে সাবরাং এলাকার ছয় ওয়ার্ডে ভোটার ১৬ হাজার। বিপুলসংখ্যক ভোটারের ওই এলাকায় আছেন দুই চেয়ারম্যান প্রার্থী বিএনপির সুলতান আহমদ ও যুব লীগের নুর হোসেন।

টেকনাফ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অধ্যাপক মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘চেয়ারম্যান প্রার্থী টেকনাফ উপজেলা যুবলীগ সভাপতি নুর হোসেন ইয়াবা ব্যবসায়ী হিসেবে তালিকাভুক্ত হওয়ায় তাকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হয়নি। ’

কিন্তু এলাকার লোকজন বলছেন, নুর হোসেনের জনপ্রিয়তা থাকায় এবং গত কয়েক বছরের প্রভাব প্রতিপত্তির কারণে তাঁর প্রচার রীতিমতো চোখে পড়ার মতো।

নুর হোসেনের বড়ভাই সাবরাং ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি জাহেদ হোসেনের অভিযোগ, ‘আমার ভাই জীবনেও ইয়াবার সাথে সম্পৃক্ত ছিল না। মূলত এখানে নিরপেক্ষ নির্বাচনের পরিবেশ নষ্ট করা হচ্ছে। দলীয় এমপিসহ অন্য নেতৃবৃন্দের নামে ভোট প্রার্থনার মাধ্যমে লঙ্ঘন করা হচ্ছে আচরণবিধিও। এমনকি দলীয় নেতৃবৃন্দের সংবর্ধনার নামে পরিবেশ উত্তপ্ত করারও প্রয়াস চালানো হচ্ছে। ’

টেকনাফ সদর ইউনিয়নে সাত চেয়ারম্যান এবং ৬৩ জন মেম্বার প্রার্থী। চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের নুরুল আলম, বিএনপির জিয়াউর রহমান এবং শ্রমিক লীগের উপজেলা সভাপতি (বহিষ্কৃত) মো. শাহজাহানের মধ্যে ত্রিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতার সম্ভাবনা রয়েছে। এই তিন প্রার্থী বলতে গেলে রাজনীতি এবং অর্থের প্রভাবে সমানে সমান। এ কারণে নির্বাচনে হানাহানির শঙ্কাও বেশি।

বাহারছড়া ইউনিয়নে একজন নারীসহ ৯ চেয়ারম্যান প্রার্থী রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে মাঠে রয়েছেন আওয়ামী লীগের মৌলানা আজিজ উদ্দিন, জামায়াত সমর্থিত রফিকুল্লাহ, বর্তমান চেয়ারম্যান মৌলানা হাবিবুল্লাহ এবং বিএনপির সেকান্দর। মৌলানা আজিজ উদ্দিনের বিরুদ্ধে রয়েছে জঙ্গিবাদে সম্পৃক্ততার অভিযোগ। এছাড়া এখানে রয়েছে রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীদের আনাগোনাও।

হ্নীলা ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী চারজন। এখানে আওয়ামী লীগের এইচ কে আনোয়ার এবং বিএনপির জাফর আলম ও বিএনপি নেতা স্ব্বতন্ত্র প্রার্থী অধ্যাপক জহির আহমদের মধ্যে ত্রিমুখী লড়াই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে চেয়ারম্যান প্রার্থীর চেয়ে মেম্বার প্রার্থীদের মধ্যে সহিংস ঘটনার আশঙ্কা বেশি। এলাকার লোকজনের অভিযোগ, ইয়াবার গডফাদাররা কোটি কোটি টাকা নিয়ে ভোটের মাঠে নেমে কোনো কিছুকে তোয়াক্কা করছে না। মানা হচ্ছে না আচরণবিধি।


মন্তব্য