kalerkantho


চকরিয়া ও মহেশখালীতে ভোট, নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা

তোফায়েল আহমদ, কক্সবাজার ও ছোটন কান্তি নাথ, চকরিয়া   

২০ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



চকরিয়া ও মহেশখালীতে ভোট, নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা

কক্সবাজারের চকরিয়া ও মহেশখালী পৌরসভার নির্বাচন আজ রবিবার। নির্বাচন সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য ও শান্তিপূর্ণ করতে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে স্থানীয় প্রশাসন।

জোরদার করা হয়েছে সার্বিক নিরাপত্তা।

মহেশখালীতে মেয়র পদে তিনজন প্রার্থী থাকলেও লড়াই হতে পারে আওয়ামী লীগের সঙ্গে আওয়ামী লীগের! এখানে দলটির ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী মাঠে রয়েছেন।

আর চকরিয়ায় আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী আলমগীর চৌধুরীর সঙ্গে ভোটযুদ্ধে আছেন বর্তমান মেয়র বিএনপির নুরুল ইসলাম হায়দার।

মহেশখালী : পৌরসভাটির প্রথম নির্বাচিত চেয়ারম্যান সরওয়ার আজম। দ্বিতীয় নির্বাচনে মেয়র হন মকসুদ মিয়া। এবারের তৃতীয় নির্বাচনে আবারও ওই দুজন মুখোমুখী। তবে নির্বাচনী মাঠে রয়েছেন তিন মেয়র পদপ্রার্থী। কিন্তু বিএনপি প্রার্থী মহিউদ্দিন বাঁশির তেমন প্রচার চোখে পড়েনি। আর আওয়ামী লীগের প্রার্থী মকসুদ মিয়া এবং আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কৃত ‘বিদ্রোহী’ সরওয়ার আজম দুজনই ‘যুদ্ধাপরাধী পরিবারের’ সন্তান বলে অভিযোগ করেছেন দলীয় নেতারা।

কক্সবাজার মুক্তিযোদ্ধা সংসদের ডেপুটি কমান্ডার মোহাম্মদ শাহজাহান বলেন, ‘দুঃখের সাথেই বলতে হয় মহেশখালীর যুদ্ধাপরাধী পরিবারের সন্তানরাই আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে মেয়র পদে প্রার্থী হয়েছেন। এসব যুদ্ধাপরাধীর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালে মামলা বিচারাধীন রয়েছে। ’ মুক্তিযোদ্ধা শাহজাহান বলেন, ‘আওয়ামী লীগের প্রার্থী মকসুদ মিয়া মরহুম হাশেম সিকদার ওরফে বড় মোহাম্মদের ছেলে। মরহুম হাশেম সিকদার ছিলেন মহেশখালীর শান্তি কমিটির তত্কালীন সভাপতি। আর আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী সরওয়ার আজম একই এলাকার শান্তি কমিটির আরেক সদস্য মরহুম মোজাহের মিয়ার ছেলে। তারা (মরহুম দুজন) দুজন মহেশখালীর যুদ্ধাপরাধী মামলার তালিকায় ছিলেন। ’

মহেশখালী পৌরসভার সাবেক ভারপ্রাপ্ত মেয়র পূর্ণ চন্দ্র দে বলেন, ‘আমি যুদ্ধাপরাধীর সন্তান মকসুদ মিয়াকে দলীয় মনোনয়ন না দেওয়ার জন্য আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় ও জেলা কমিটির নেতৃবৃন্দের কাছে আইনি নোটিশ দিয়েছিলাম। কিন্তু তাঁরা এসব আমলে না নিয়ে মনোনয়ন দিয়েছেন। ’

কক্সবাজার জেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, মহেশখালী পৌরসভায় মোট ভোটার ১৭ হাজার ৯৬০। পুরুষ ৯ হাজার ৪১৭ ও নারী ৮ হাজার ৫৪৩। ৯ ওয়ার্ডে ৯টি ভোটকেন্দ্র এবং বুথের সংখ্যা ৪২। প্রতিটি কেন্দ্রে ২২ জন করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার সদস্য থাকবেন। আরো থাকবেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত এবং এক প্লাটুন বিজিবি ও র্যাব সদস্য।

চকরিয়া : এবার অনুষ্ঠিত হচ্ছে পৌরসভার চতুর্থ নির্বাচন। শনিবার বিকেলে নির্বাচনী সরঞ্জাম নিয়ে স্ব স্ব কেন্দ্রে চলে যান নির্বাচনী কর্মকর্তা ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। সন্ধ্যার পর থেকে এলাকায় বাড়ানো হয়েছে নিরাপত্তা। প্রশাসন বলছে, প্রতিটি ভোটকেন্দ্র এবং আশপাশে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে। কেউ অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটানোর চেষ্টা করলে তা কঠোরভাবে দমন করা হবে। অপরাধের ধরন দেখে তাত্ক্ষণিক সাজাও দেওয়া হবে। এখানে মোট ভোটার ৪২ হাজার ৩০৬ জন।

বিএনপির মেয়র পদপ্রার্থী নুরুল ইসলাম হায়দারের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক ও উপজেলা বিএনপির সভাপতি মিজানুর রহমান চৌধুরী খোকন মিয়া বলেন, ‘গত দুদিন ধরে সরকারি দলের প্রার্থীর লোকজন বিএনপি প্রার্থীর এজেন্টদের নানাভাবে হুমকি দিচ্ছেন। শেষপর্যন্ত সুষ্ঠুভাবে ভোটগ্রহণ হবে কী-না তা নিয়ে সন্দেহ দেখা দিয়েছে। সুষ্ঠুভাবে ভোট হলে ধানের শীষ জিতবে। ’

আওয়ামী লীগের মেয়র পদপ্রার্থী আলমগীর চৌধুরী বলেন, ‘ভোটারেরা অধীর অপেক্ষায় আছেন উন্নয়নের প্রতীক নৌকায় ভোট দিতে। এবারের নিরাপত্তা ব্যবস্থা চোখে পড়ার মতো। ’

চকরিয়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. কামরুল আজম জানান, পৌর এলাকায় নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা গ্রহণ করা হয়েছে। থানার ওসি মো. জহিরুল ইসলাম খান বলেন, ‘যেসব কেন্দ্রে গোলযোগ সৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে সেসব কেন্দ্রে সার্বক্ষণিক পুলিশ ও আনসার সদস্যের পাশাপাশি বিজিবি ও র্যাব সদস্যরা সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করবেন। বিশেষ করে দুই নম্বর ওয়ার্ডের দুটি ভোটকেন্দ্রের দিকে নজর রয়েছে বেশি। ’

সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘শনিবার বিকেলের মধ্যে ১৮ ভোটকেন্দ্রের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছেন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। ’ রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. মেছবাহ উদ্দিন বলেন, ‘সকাল আটটা থেকে বিকেল চারটা পর্যন্ত সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ’

 


মন্তব্য