kalerkantho


ময়লা সংগ্রহে ঘরে ঘরে যাবেন সেবক

নূপুর দেব   

২০ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



ময়লা সংগ্রহে ঘরে ঘরে যাবেন সেবক

চট্টগ্রাম মহানগরকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে এবার ‘ডোর টু ডোর’ ময়লা-আবর্জনা সংগ্রহ করার পরিকল্পনা নিয়েছে সিটি করপোরেশন। বাসা-বাড়ি, দোকানপাট ও প্রতিষ্ঠানের ময়লা সংগ্রহ করতে করপোরেশনের পরিচ্ছন্ন কর্মীরা (সেবক) যাবেন ঘরে ঘরে।

প্রাথমিক পর্যায়ে চলতি মাসে নগরের ৪১ ওয়ার্ডের সাতটিতে এই কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। আর বাকি ওয়ার্ডে শুরু হবে আগামী ছয় মাসের মধ্যেই। এর আগে গত বছরের ১ সেপ্টেম্বর থেকে দিনের পরিবর্তে রাত ১১টা থেকে ভোর হওয়ার আগেই ময়লা অপসারণ কার্যক্রম শুরু হয়।

পরিচ্ছন্ন নগর গড়তে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন আরো নানা পরিকল্পনা গ্রহণ করছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান। এদিকে আজ রবিবার বা আগামীকাল সোমবারের মধ্যে গণমাধ্যমে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে নগরবাসীকে বিষয়টি অবহিত করা হবে। এছাড়া ওই কার্যক্রমে অর্থ সহায়তাদানে ইচ্ছুক ব্যক্তি বা শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মালিকদেরও এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হবে বলে জানান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা স্ট্যান্ডিং কমিটির সভাপতি কাউন্সিলর শৈবাল দাশ সুমন।

জানা যায়, পাইলট প্রকল্পের আওতায় ৭ নম্বর পশ্চিম ষোলশহর, ৮ নম্বর শুলকবহর, ২২ নম্বর এনায়েত বাজার, ২৩ নম্বর উত্তর পাঠানটুলী, ৩১ নম্বর আলকরণ ওয়ার্ড, ৩৬ নম্বর গোসাইলডাঙা এবং ১৫ নম্বর বাগমনিরাম ওয়ার্ডে ‘ডোর টু ডোর’ কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। এর মধ্যে বাগমনিরাম ওয়ার্ড ছাড়া অপর ছয় ওয়ার্ডে বাসা-বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ১ লাখ ৩৩ হাজার ৫৯৫। ওয়ার্ডগুলোর জনসংখ্যা প্রায় ১০ লাখ।

এসব ওয়ার্ডে প্রকল্পটি চালু করার জন্য ইতোমধ্যে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা স্ট্যান্ডিং কমিটি উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। গত মঙ্গলবার চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাধারণ সভায় ‘ডোর টু ডোর’ বর্জ্য অপসারণ কর্মসূচি অনুমোদন করা হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘প্রাথমিক পর্যায়ে এই সাত ওয়ার্ডে ‘ডোর টু ডোর’ ময়লা-আবর্জনা সংগ্রহ করতে যাচ্ছি। পরবর্তীতে করপোরেশনের আওতাধীন সব ওয়ার্ডেও কার্যক্রম শুরু হবে। চট্টগ্রামকে ক্লিন গ্রিন সিটিতে রূপান্তরিত করা ছিল আমার নির্বাচনী অঙ্গীকার। একে একে বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে তা বাস্তবায়নের কাজ চলছে। ’

বর্জ্য ব্যবস্থাপনা স্ট্যান্ডিং কমিটির সভাপতি কাউন্সিলর শৈবাল দাশ সুমন গতকাল শনিবার বিকেলে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ইতোমধ্যে বাগমনিরাম ছাড়া অপর ছয় ওয়ার্ডে জরিপ চালিয়ে দেখা গেছে, ওয়ার্ডগুলোর বাসা-বাড়ি ও দোকানে গিয়ে ময়লা-আবর্জনা সংগ্রহ করতে ৩৮৪টি ভ্যানগাড়ি লাগবে। এসব গাড়িতে পচন ও অপচনশীল ময়লা সংগ্রহ করে আমাদের নির্ধারিত স্থানে রাখা বড় গাড়িতে নিয়ে ডাম্পিং স্টেশনে ফেলা হবে। ভ্যান গাড়িগুলো তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। এতে লোকবল প্রয়োজন ৭৬৮ জন। করপোরেশনে পরিচ্ছন্ন কার্যক্রমে বর্তমানে যে লোকবল আছে তা থেকে এসব ওয়ার্ডে আরো ৬০০ জনের মতো অস্থায়ী দৈনিক ভিত্তিতে লোক নিয়োগ দেওয়া হবে। ’

করপোরেশন সূত্র জানায়, গত বছরের ১ সেপ্টেম্বর থেকে নগরীর ৪১ ওয়ার্ডে দিনের পরিবর্তে রাত ১০টা থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত বর্জ্য সংগ্রহ করে তা অপসারণ করা হচ্ছে। নগরজুড়ে বর্তমানে ১৩৫০টি ডাস্টবিন রয়েছে। এসব ডাস্টবিনে প্রায় ৬০ লাখ নগরবাসীর ময়লা-আবর্জনা ফেলা হচ্ছে। ডাস্টবিনগুলো খাল-নালার পাশে, ফুটপাত ও সড়কের একাংশে রয়েছে। প্রতিরাতে ৩০০ ছোট-বড় ট্রাকে আবর্জনা সংগ্রহের কাজ করছেন প্রায় ১৮০০ সেবক। ওই কার্যক্রমে এবার যুক্ত হচ্ছে ‘ডোর-টু-ডোর’ বর্জ্য সংগ্রহ ও অপসারণ কার্যক্রম।

বর্তমানে বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম জোরালো করার পরও নগরের বিভিন্ন এলাকায় ময়লা-আবর্জনা ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকছে। ১ জানুয়ারি থেকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে যত্রতত্র ময়লা ফেললে জরিমানা করা হচ্ছে। এরপরও বেশ কয়েকটি ওয়ার্ডে তা মানা হচ্ছে না। এ অবস্থায় বর্জ্য স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্যরা ৪১ ওয়ার্ডের কাউন্সিলরদের মাধ্যমে বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে প্রাথমিক পর্যায়ে সাত ওয়ার্ডকে বেছে নিয়েছেন। এসব ওয়ার্ডে ঘরে ঘরে গিয়ে ময়লা সংগ্রহ করবেন পরিচ্ছন্ন কর্মীরা। সেই সাথে প্রত্যেকটি বাসা ও দোকানে দুটি করে ঝুড়ি দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ঝুড়িগুলোতে ময়লা রাখতে হবে। পরিচ্ছন্নকর্মীরা ময়লাগুলো সংগ্রহ করবেন প্রতিদিন দুপুর ২টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত। এদিকে পরিবেশ অধিদপ্তর এডিবি প্রকল্পের আওতায় সিটি করপোরেশনকে ২০০ ভ্যানগাড়ি দিচ্ছে বলে জানা গেছে।


মন্তব্য