kalerkantho

বুধবার । ১৮ জানুয়ারি ২০১৭ । ৫ মাঘ ১৪২৩। ১৯ রবিউস সানি ১৪৩৮।


বান্দরবানের ১৩ কিশোরীর খোঁজ মিলেনি এখনো

নিজস্ব প্রতিবেদক, বান্দরবান   

১৫ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



উচ্চ শিক্ষার কথা বলে বান্দরবানের রোয়াংছড়ি উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম থেকে বৌদ্ধ বিহারে নিয়ে যাওয়া ১৩ কিশোরীর সন্ধান এখনো মিলেনি। তাদেরকে পাচারের অভিযোগে পুলিশ রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলার মিতিঙ্গাছড়ি বৌদ্ধ বিহারের ভিক্ষু উ স্বি রি ভান্তেকে আটক করেছে। রবিবার তাঁকে বান্দরবান চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড চায় পুলিশ। সোমবার শুনানি শেষে আদালত চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে।

রোয়াংছড়ি থানার উপ-পরিদর্শক গোলাম মোস্তফা বলেন, ‘প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে উ স্বি রি ভান্তে কিশোরীদের পাচারের অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠানে যোগ দিতে তাদেরকে মিয়ানমারে পাঠানো হয়েছে। ’

তিনি জানান, অভিযুক্ত ভান্তে একেকবার একেক ধরনের কথা বলছেন। রিমান্ডে এনে ধারাবাহিক জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তাঁর কাছ থেকে আরো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে।

নিখোঁজ কিশোরীদের অভিভাবকরা জানান, পাচারের পর কিশোরীদের মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশের মংডু শহরতলীর নেজাদো বৌদ্ধ মন্দিরের অনাথালয়ে রাখা হয়েছে বলে তাঁরা জানতে পেরেছেন। তবে কোনো সূত্র থেকে এ খবরের সত্যতা নিশ্চিত করা যায়নি।

এদিকে কিশোরীদের কোনো সন্ধান না পেয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন তাদের অভিভাবকেরা। তাঁরা নিখোঁজ সন্তানের খবর পেতে বিভিন্ন সরকারি অফিস ও জনপ্রতিনিধিদের কাছে ধর্না দিচ্ছেন।

স্থানীয় সূত্র জানায়, এসব কিশোরীকে বিনা খরচে লেখাপড়া, খাওয়া ও পোশাক দেওয়ার কথা বলে জানুয়ারির বিভিন্ন সময়ে মিতিঙ্গাছড়ি বৌদ্ধ বিহারে নিয়ে আসা হয়। কিছুদিন ওই বিহারে রাখার পর গত ২৬ ফেব্রুয়ারি তাদেরকে স্থলপথে মিয়ানমার পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

নিখোঁজ ১৩ কিশোরীর মধ্যে ছয় জনের পরিচয় পাওয়া গেছে। এরা হল ডলুছড়ি পাড়ার ম্যা সিং নু মারমা (১৪), হেপিগ্যো পাড়ার নুং ক্য ঞো মারমা (১২), নোয়াপাড়ার ম্য থুই চিং মারমা (১২), একই পাড়ার ম্যাকিয়া চিং মারমা (১২), থুই ঞো মা মারমা (১৩) ও পাই নু চিং মারমা (১৩)।

ম্যা সিং নু মারমার বাবা উ চ নু মারমা বলেন, ‘বিনা খরচে লেখাপড়া করানোর কথা বলে আমার মেয়েকে উ স্বি রি ভান্তে গ্রাম থেকে নিয়ে আসেন। এরপর যতবার আমি তাঁর সাথে কথা বলতে চেয়েছি, ততবারই মেয়ের সাথে পরে কথা বলতে দেওয়া হবে বলে সময় পার করতে থাকেন। সম্প্রতি তিনি আমাকে জানান, আরো উন্নত শিক্ষার জন্য তাকে বিদেশ পাঠানো হয়েছে। এতে আমার সন্দেহ হলে আমি খোঁজ নিতে শুরু করি। এর ফলে আমি আরো কয়েকজন কিশোরী নিখোঁজ থাকার খবর পাই। এ অবস্থায় বিষয়টি পুলিশকে অবহিত করতে আমি বাধ্য হই। ’

কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘যেকোনো মূল্যে আমি আমার মেয়েকে ফেরত চাই। ’


মন্তব্য