kalerkantho

বুধবার । ২৫ জানুয়ারি ২০১৭ । ১২ মাঘ ১৪২৩। ২৬ রবিউস সানি ১৪৩৮।


ঘর পেল বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত চকরিয়ার ৮০ পরিবার

ছোটন কান্তি নাথ, চকরিয়া   

১৫ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



বন্যায় গৃহহারা চকরিয়ার তিন ইউনিয়নের ৮০ পরিবার ঘর পেয়েছে। ইউএনডিপির আরলি রিকভারি ফ্যাসিলিটি ও কানাডিয়ান বৈদেশিক বিষয়ক বাণিজ্যের উন্নয়ন বিভাগের অর্থায়নে বেসরকারি সংস্থা ক্রিশ্চিয়ান এইড ও মুক্তি যৌথভাবে ‘বিল্ড ব্যাক বেটার’ নামের ওই প্রকল্প বাস্তবায়ন করে।

বিএমচর ইউনিয়নের খঞ্জনীপাড়ায় রবিবার আয়োজিত মতবিনিময় সভা ও ঘরের চাবি হস্তান্তর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. শাহ কামাল। বিশেষ অতিথি ছিলেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের পরিচালক রিয়াজ আহমদ, কানাডিয়ান হাইকমিশনের কর্মসূচি প্রধান মিস্টার ডেনিয়েল লোটফি, ইউএনডিপির কান্ট্রি ডিরেক্টর পৌলিন ট্যামেসিস, ক্রিশ্চিয়ান এইডের কান্ট্রি ডিরেক্টর সাবিক নবী, ইউএনডিপির আরলি রিকভারি ফ্যাসিলিটির প্রধান তানজিবা আবেরিন হক। উপস্থিত ছিলেন চকরিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান জাফর আলম, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাহেদুল ইসলাম, মুক্তি কক্সবাজারের চিফ এক্সিকিউটিভ বিমল চন্দ্র দে সরকার, অ্যাসিসট্যান্ট কো-অর্ডিনেটর আহমেদ শরীফ, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম আজাদ ও শাফিয়া বেগম শম্পা, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক গিয়াস উদ্দিন চৌধুরী, থানার ওসি মো. জহিরুল হক খান, বিএমচর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান বদিউল আলম, কোনাখালী ইউনিয়ন চেয়ারম্যান দিদারুল হক সিকদার প্রমুখ।

মুক্তির প্রধান নির্বাহী বিমল চন্দ্র দে সরকার বলেন, ‘ফ্লাড রেজিলিয়েন্ট রিকভারি ইন চকরিয়া উপজেলা প্রকল্পের আওতায় স্যানিটেশন, বসতঘর ও বিকল্প আয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে উপকারভোগী উপজেলার বিএমচর ইউনিয়নের ৩০টি, কৈয়ারবিল ও কাকারার ২৫টি করে মোট ৮০টি পরিবারে। প্রতিটি পরিবারকে বন্যাসহিষ্ণু বাসস্থান নির্মাণ করে দেওয়ার বিপরীতে খরচ হয়েছে ৭৬ হাজার টাকা। আয়বর্ধনমূলক বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণের পর দেওয়া হয় ২৫০০ টাকা করে। এই টাকা দিয়ে উপকারভোগীরা হাঁস, মুরগি ও ছাগল পালন করে প্রতিষ্ঠিত হবেন। এছাড়া প্রতিটি বাসস্থানের সামনে ৬টি করে ফলদ গাছের চারা রোপণ ও শাক-সবজি আবাদেরও ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়েছে। ’

উপকারভোগী ফরিদা ইয়াছমিন বলেন, ‘প্রতিবছর বন্যার সময় ভয়ে ভয়ে দিন কাটাতে হয়। খড়ের ছাউনির বেড়ার ঘরে বানের পানি ঢুকে সবকিছু ভাসিয়ে নিয়ে যেত। গতবারের বন্যায় সন্তান-সন্ততিদের নিয়ে কী যে কষ্টে ছিলাম তা বলে শেষ করতে পারব না। এখন উঁচু ভিটির ওপর টিনের মজবুত ছাউনি ও বেড়ার নিচে পাকা মেঝেতে ভালোই কাটবে আমাদের সময়। বন্যার সময় আর এদিক-ওদিক ছোটাছুটি করতে হবে না। ’

এর আগে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সুধীসমাজ ও সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন দুর্যোগ ও ত্রাণ সচিব শাহ কামাল। তিনি বলেন, ‘চকরিয়ার মানুষ যাতে পরবর্তী বন্যায় আবারও ক্ষতিগ্রস্ত না হন সেজন্য হাতে নেওয়া প্রকল্পের কাজ দ্রুতগতিতে বাস্তবায়ন করা হবে। ’


মন্তব্য