kalerkantho

ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান

নজর এবার আইসক্রিমে

এস এম রানা   

১৫ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



নজর এবার আইসক্রিমে

অভিযান পরিচালনা করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রুহুল আমিন।

সামপ্রতিককালে ভেজালবিরোধী অভিযান নিয়ে আলোচিত চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রুহুল আমিন এবার নজর দিয়েছেন  আইসক্রিমে। এর আগে তিনি ভেজাল ওষুধ ও বেকারিসহ খাদ্য উত্পাদন প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। রবিবার থেকে নগরের আইসক্রিম তৈরির কারখানায় অভিযান শুরু হয়েছে।

গত দুই দিনে তিনটি আইসক্রিম তৈরির কারখানা পরিদর্শন করে ম্যাজিস্ট্রেট রুহুল আমিন কোনো কারখানায় এক ছটাক চিনিও পাননি! মিলেছে আমদানি নিষিদ্ধ ঘনচিনি। স্বল্প মূল্যের ৫০০ গ্রাম ঘনচিনি সমান সাত কেজি চিনি। অর্থাৎ সাত কেজি চিনি দিয়ে যে পরিমাণ আইসক্রিম তৈরি করা যায়, সেই পরিমাণ আইসক্রিম তৈরিতে ঘনচিনি ব্যবহার করতে হয় মাত্র ৫০০ গ্রাম। ওই কারণে কতিপয় ব্যবসায়ী শিশু-কিশোরের জীবন বিপন্ন হওয়ার মতো মারাত্মক শঙ্কা থাকা সত্ত্বেও ঘনচিনি, কাঠে ব্যবহূত রংসহ ক্ষতিকর উপাদান দিয়ে তৈরি করছেন আইসক্রিম। বিভিন্ন স্কুল মোড়সহ অলিগলিতে আইসক্রিমগুলো বিক্রি হচ্ছে দৃষ্টিনন্দন মোড়কে।

আইসক্রিম কারখানায় অভিযানের বিষয়ে জানতে চাইলে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রুহুল আমিন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘রবিবার ও সোমবার তিনটি আইসক্রিম কারখানায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। এসব কারখানায় এক ছটাক চিনিও পাওয়া যায়নি! তবু সেখানে মজাদার আইসক্রিম তৈরি হচ্ছে। নানা রঙের আইসক্রিমে মিশানো হয় কাঠে ব্যবহূত রং। ’

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘নগরীর স্কুলগুলোর মোড়ে মোড়ে যেসব আইসক্রিম বিক্রি হয়, এর অধিকাংশ ভেজাল। এসব আইসক্রিম কাঠে ব্যবহূত রং দিয়ে রঙিন করা হয়। আর ঘনচিনিসহ নানা ধরনের ক্ষতিকর কেমিক্যাল ব্যবহার করা হয়। এছাড়া বরফ তৈরির অনুমোদন নিয়ে তৈরি করা হচ্ছে আইসক্রিম। কিন্তু বিএসটিআইয়ের অনুমোদন নেওয়া হয়নি। ’

ভ্রাম্যমাণ আদালতের আইন অনুযায়ী এখন থেকে যেসব আইসক্রিম কারখানায় এ ধরনের ভেজাল পাওয়া যাবে, সেসব কারখানা মালিককে সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন রুহুল আমিন।

তিনি আরো বলেন, ‘সোমবারও একটি কারখানায় অভিযান চালানো হয়। চান্দগাঁও থানার বহদ্দারহাটের বারৈপাড়া এলাকার ডলফিন আইসবার (তৃপ্তি আইসক্রিম) নামের ওই কারখানায় উত্পাদিত এক হাজার আইসক্রিম এবং বিপুল পরিমাণ রং ও স্যাকারিন জব্দের পর ধ্বংস করা হয়েছে। ’

চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ ও ফার্মাকোলজি বিভাগের প্রধান ডা. সেলিম মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর বলেন, ‘কাঠে ব্যবহূত রং মানব দেহের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকারক। এসব রং মানবদেহে প্রবেশ করলে বা খেলে কিডনি ও লিভার অকার্যকর হয়ে যেতে পারে। বিভিন্ন ধরনের ক্যান্সারেরও আশঙ্কা রয়েছে। তাই এসব রং থেকে সচেতনভাবে দূরে থাকতে হবে। ’

চট্টগ্রামের অভিজাত এক মিষ্টি ব্যবসায়ী জানান, চিনির বদলে ঘনচিনি ব্যবহারের প্রধান কারণ হচ্ছে খরচ সাশ্রয় করা। কারণ এক কেজি ‘আসল ঘনচিনি’ দিয়ে যে পরিমাণ মিষ্টি তৈরি সম্ভব, ৫০ কেজি চিনি দিয়ে সমপরিমাণ মিষ্টি তৈরি করা যায়। অর্থাৎ ২ হাজার টাকার খরচ মাত্র ২৩০ টাকায় নেমে আসবে। ঘনচিনি দিয়ে মিষ্টান্ন খাবার ছাড়াও আইসক্রিম তৈরি হয়।

খাবারের রঙের পরিবর্তে কাঠে ব্যবহূত রং মেশানোর কারণ বলতে গিয়ে একজন ব্যবসায়ী জানান, খাবারের রঙের দাম বেশি। আর ফার্নিচার রং সস্তা। তাই বেশি মুনাফার আশায় ব্যবসায়ীরা খাবারের রঙের পরিবর্তে আইসক্রিমসহ অন্য খাবার পণ্যের সঙ্গে ফার্নিচারের রং ব্যবহার করছেন। যা মানবদেহের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।


মন্তব্য