kalerkantho

শুক্রবার । ৯ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


কাউন্সিলর প্রার্থীদের কাদা ছোড়াছুড়ি

ছোটন কান্তি নাথ, চকরিয়া   

১৩ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



কাউন্সিলর প্রার্থীদের কাদা ছোড়াছুড়ি

চকরিয়া পৌরসভা নির্বাচনে অনেক কাউন্সিলর প্রার্থীর পাল্টাপাল্টি মন্তব্য, গণসংযোগে বাধা এবং পোস্টার ছিঁড়ে ফেলাসহ নানা ঘটনায় উত্তাপ ছড়িয়ে পড়ছে। এসব কাদা ছোড়াছুড়িতে যেকোনো সময় নির্বাচনের পরিবেশ অশান্ত হয়ে ওঠতে পারে।

গতকাল শনিবার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী মো. হাসান উল্লাহ কাইছার অভিযোগ করেছেন, তাঁর নির্বাচনী কার্যালয় ভাঙচুর ও পোস্টার ছিঁড়ে ফেলেছেন প্রতিদ্বন্দ্বী এক প্রার্থী। এমনকি তাঁকে গণসংযোগে বাধা দেওয়া হচ্ছে।

এর আগে দুই নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী রেজাউল করিম বলেন, ‘মনোনয়নপত্র দাখিলের পর থেকে এলাকায় গণসংযোগের পাশাপাশি আমার কর্মীরা পাড়ায় পাড়ায় ভোট চাইছেন। কিন্তু প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী আবুল কালাম ও তাঁর বড় ভাই গোলাম কাদের গণসংযোগে বাধা দিচ্ছেন। ’

রেজাউল বলেন, ‘এ ধরনের বাধা প্রদান এবং হুমকি দেওয়ার ঘটনা নির্বাচনী আচরণবিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। আমি এ ব্যাপারে রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করেছি। ’ তবে অভিযোগ সত্য নয় বলে দাবি করেছেন কাউন্সিলর প্রার্থী আবুল কালাম। তিনি বলেন, ‘উদ্দেশ্যমূলকভাবে রেজাউল করিম ওই অভিযোগ করেছেন। ’

তিন নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী আক্কাস আহমদ সওদাগর বলেন, ‘নাথপাড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর লোকজন আমার জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে বার বার পোস্টার ছিঁড়ে ফেলছে। এ ঘটনায় আমি সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে অভিযোগও করেছি। কিন্তু কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ’ তিনি জানান, খুব শান্তিপূর্ণভাবে এতদিন ধরে নির্বাচনী প্রচার চললেও প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর কর্মীদের এমন আচরণে শেষ পর্যন্ত অশান্ত হয়ে ওঠতে পারে পরিবেশ। এতে ভোট গ্রহণের দিন পর্যন্ত সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় থাকবে কি-না সংশয় দেখা দিয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, একইভাবে অন্য ওয়ার্ডেও সাধারণ কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদে অনেক প্রার্থী ও তাঁদের লোকজন একে অপরের বিরুদ্ধে নানা কুৎসা রটাচ্ছেন। এ ব্যাপারে প্রশাসনের দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। নইলে নির্বাচনে অশান্ত পরিবেশের সৃষ্টি হতে পারে।

রিটার্নিং কর্মকর্তা ও কক্সবাজার জেলা নির্বাচনী কর্মকর্তা মো. মেছবাহ উদ্দিন বলেন, ‘ইতোমধ্যে আমার কাছে কয়েকজন কাউন্সিলর প্রার্থী এ ধরনের অভিযোগ করেছেন। এসব অভিযোগ তদন্ত করে অভিযোগ প্রমাণিত হলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ’

বিএনপির মেয়র প্রার্থী ও চার কাউন্সিলর প্রার্থীর অর্থদণ্ড : আচরণবিধি লঙ্ঘন করে দেয়ালে নির্বাচনী পোস্টার লাগানোর অপরাধে এক মেয়র প্রার্থীসহ চার কাউন্সিলর প্রার্থীর কর্মীকে আটক করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। পরে এসব প্রার্থীর কাছ থেকে ৪৩ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। জরিমানা পরিশোধের পর মুচলেকা দিয়ে ছাড়া পান সবাই। গত মঙ্গলবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় ঝটিকা অভিযান চালান ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. রফিকুল হক।

ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্র জানায়, নগদ ১৫ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয় মেয়র পদে বিএনপির প্রার্থী নুরুল ইসলাম হায়দারের কাছ থেকে। এছাড়া কাউন্সিলর পদে এক নম্বর ওয়ার্ডের নুর হোসেনকে ১০ হাজার, দুই নম্বর ওয়ার্ডের মিজবাউল হককে ৩ হাজার এবং আবুল কালামকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এর আগে একই অপরাধে সাত নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী হেলাল উদ্দিনকে নগদ ১০ হাজার টাকা জরিমানা করে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রফিকুল হক বলেন, ‘আচরণবিধি না মেনে দেয়ালে নির্বাচনী পোস্টার লাগানোর অপরাধে হাতেনাতে তাঁদের আটক করা হয়। পরে প্রার্থীরা এসে জরিমানা পরিশোধ করে তাঁদের কর্মীকে মুক্ত করে নিয়ে যান। আচরণবিধি যাতে কেউ ভঙ্গ করতে না পারে সেজন্য অভিযান অব্যাহত থাকবে। ’

 


মন্তব্য