kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


একাধিক ইউনিয়নে বড় দুই দলের ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী

তোফায়েল আহমদ, কক্সবাজার   

১৩ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



একাধিক ইউনিয়নে বড় দুই দলের ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী

কক্সবাজারে ইউপি নির্বাচনে একাধিক ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী রয়েছেন। এতে দলীয় প্রার্থীরা পড়েছেন বিপাকে।

কক্সবাজারে জমে ওঠেছে ২৬ ইউনিয়ন পরিষদ এবং দুটি পৌরসভার নির্বাচন। আগামী ২০ মার্চ মহেশখালী ও চকরিয়া পৌর নির্বাচন। এর দুদিন পর টেকনাফ, মহেশখালী ও কুতুবদিয়ার ১৭ ইউনিয়নের নির্বাচন। ২৭ মার্চ টেকনাফের হোয়াইক্যং ও হ্নীলা ইউনিয়নে হবে নির্বাচন। আর পেকুয়ার সাত ইউনিয়নের নির্বাচন ৩১ মার্চ।

দীর্ঘদিন পর নৌকা ও ধানের শীষের লড়াই বেশ জমে ওঠেছে গ্রামে-গঞ্জে। তবে দুই দলেই বেশ কয়েকটি ইউনিয়নে ‘বিদ্রোহী প্রার্থী’ থাকায় দলীয় প্রার্থীরা রয়েছেন বিপাকে।

পৌরসভার মধ্যে মহেশখালীতে বর্তমান মেয়র ও আওয়ামী লীগ প্রার্থী মকছুদ মিয়ার সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে সাবেক মেয়র ও আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কৃত সরওয়ার আলমের। আর চকরিয়ায় আওয়ামী লীগ প্রার্থী আলমগীর চৌধুরীর সঙ্গে বিএনপি প্রার্থী ও বর্তমান মেয়র নুরুল ইসলাম হায়দারের হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে বলে স্থানীয়দের ধারণা।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, পেকুয়া উপজেলার সাত ইউনিয়নের মধ্যে তিনটিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকবে না আওয়ামী লীগ ও বিএনপি। অভিযোগ ওঠেছে, টৈটং ইউনিয়নে ‘জনপ্রিয়তাকে অগ্রাহ্য’ করে দলীয় প্রার্থী মনোনীত করায় আওয়ামী লীগ ও বিএনপির কেউ প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকবেন না! এক্ষেত্রে আওয়ামী লীগের ‘বিদ্রোহী প্রার্থী’ শহিদুল্লাহ ও জামায়াত সমর্থিত হাসান শরীফ চৌধুরীর মধ্যে লড়াই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। মগনামা ইউনিয়নেও আওয়ামী লীগ ও বিএনপির ‘জনপ্রিয়’ প্রার্থী নেই। বারবাকিয়া ইউনিয়নে নৌকা প্রতীকের ‘মোটামুটি ভালো’ প্রার্থী থাকলেও ধানের শীষের ‘জনপ্রিয়’ প্রার্থী নেই। পেকুয়া সদর ইউনিয়নে ত্রিমুখী লড়াই হলেও আওয়ামী লীগ-বিএনপির প্রার্থীকে টপকিয়ে নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে তৃতীয় একজনের।

টেকনাফ উপজেলার ছয় ইউনিয়নের কয়েকটিতে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নামলেও দুয়েকটিতে আওয়ামী লীগের ‘বিদ্রোহী’ ও জামায়াত সমর্থিত প্রার্থীরা মূল লড়াইয়ে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। এর মধ্যে সেন্টমার্টিন ইউনিয়নে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী, আওয়ামী লীগের ‘বিদ্রোহী’ এবং বিএনপির মধ্যে ত্রিমুখী লড়াই হবে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। সাবরাং ইউনিয়নে বড় দুই দলে ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী রয়েছেন। এখানে চতুর্মুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতার সম্ভাবনা আছে। হোয়াইক্যং ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের সঙ্গে বর্তমান চেয়ারম্যান জামায়াত নেতা ও এক স্বতন্ত্র প্রার্থীর লড়াই হতে পারে। বাহারছড়া ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির প্রার্থী যাচাইয়ে তৃণমূলকে ‘গুরুত্ব’ না দেওয়ার অভিযোগ ওঠেছে। এ কারণে এখানে আওয়ামী লীগ প্রার্থী ও ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থীসহ অপর দুই স্বতন্ত্র প্রার্থীর মধ্যে চতুর্মুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতার সম্ভাবনা রয়েছে। এখানে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর বিরুদ্ধে ইয়াবা ব্যবসাসহ জঙ্গি সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। অপরদিকে, বিএনপির প্রার্থী মধ্যপ্রাচ্য প্রবাসী হওয়ায় ‘মৌসুমি প্রার্থী’ হিসেবে রব তুলেছেন প্রতিপক্ষরা।

মহেশখালীর আট ইউনিয়নের বেশ কয়েকটিতে আওয়ামী লীগ-বিএনপির মধ্যে সরাসরি লড়াই হলেও দুয়েকটিতে সুবিধা করতে পারবে না বড় দলগুলো। এর মধ্যে আওয়ামী লীগের ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থীরাই এগিয়ে আছেন। মাতারবাড়ি ইউনিয়নে জনগণ ও তৃণমূলের মতামত ‘উপেক্ষা’ করে দলীয় প্রার্থী ঠিক করায় ‘সুবিধাজনক’ অবস্থানে নেই নৌকার প্রার্থী। বিএনপিতেও ‘শক্ত’ প্রার্থী নেই। বড় মহেশখালীতে ধানের শীষের কোনো প্রার্থী নেই। এখানে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে আওয়ামী লীগের শরিফ বাদশা ও স্বতন্ত্র প্রার্থী এনায়েত উল্লাহ বাবুলের মধ্যে। আর কুতুবদিয়া উপজেলার ছয় ইউনিয়নের সবকটিতে আওয়ামী লীগ-বিএনপির মধ্যে লড়াই হবে।


মন্তব্য