kalerkantho

মঙ্গলবার । ৬ ডিসেম্বর ২০১৬। ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


‘সবুজে সাজবে চট্টগ্রাম’

নূপুর দেব   

১৩ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



‘সবুজে সাজবে চট্টগ্রাম’

জামালখান ওয়ার্ডের সড়ক বিভাজনে লাগানো হচ্ছে বাহারি গাছ। ছবিটি চেরাগীর মোড়ের মোমিন রোড থেকে গতকাল তোলা। ছবি : কালের কণ্ঠ

‘সবুজে সাজবে চট্টগ্রাম’ এ স্লোগানে ‘সবুজ চট্টগ্রাম’ গড়তে কাজ শুরু করেছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন। ‘হেলদি ওয়ার্ড’ খ্যাত জামালখানে দুই কোটি টাকা ব্যয়ে ওই প্রকল্পের কাজ চলছে।

পর্যায়ক্রমে নগরের সবকটি ওয়ার্ডে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে।

এক বর্গকিলোমিটারের জামালখান ওয়ার্ডে ইতোমধ্যে ৩০টি ক্লোজ সার্কিট (সিসি) ক্যামেরা বসানো হয়েছে। আট স্থানে বিনা মূল্যে মিলছে ওয়াইফাই সুবিধা। এক যুগ আগে করপোরেশন ঘোষিত ‘হেলদি ওয়ার্ড’ ‘ডিজিটালাইজড’ করতে গত সাত মাস ধরে একের পর এক প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ‘সবুজে সাজবে চট্টগ্রাম’ স্লোগানে দুই মাস ধরে পুরো ওয়ার্ড সবুজে ‘পরিণত’ করার কাজ চলছে।

সমপ্রতি প্রকল্পটির অধীনে জামালখানের দুটি স্থানে কাজ শেষে তা সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন উদ্বোধন করেন। চলতি বছরের মধ্যে সৌন্দর্যবর্ধন প্রকল্পের বাকি কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

এ প্রসঙ্গে ২১ নম্বর জামালখান ওয়ার্ডের কাউন্সিলর শৈবাল দাশ সুমন গতকাল শনিবার দুপুরে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘প্রকৃত হেলদি ওয়ার্ড বাস্তবায়নে কাজ শুরু করেছি। হেলদির পাশাপাশি সবুজ ও ডিজিটালাইজড করার লক্ষ্যে ওয়ার্ডজুড়ে বিভিন্ন কাজ চলছে। ইতোমধ্যে আমি নিজ খরচে সাড়ে ৮ লাখ টাকায় ৩০টি সিসি ক্যামেরা ও ৬ লাখ টাকায় ৮টি ফ্রি ওয়াইফাই জোন করেছি। আর পুরো ওয়ার্ডে সবুজের সমারোহ করতে বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠান, ব্যক্তির অর্থ সহায়তায় প্রায় দুই কোটি টাকা ব্যয়ে বিভিন্ন প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। ’

সরেজমিন দেখা গেছে, সেন্টার পয়েন্ট হাসপাতালের সামনে থেকে কদম মোবারক পর্যন্ত, চেরাগীর মোড় বাইপাস সড়কের পাশে এবং ডিভাইডারে সবুজ বেষ্টনীর কাজ শেষ হয়েছে। ওই দুটি প্রকল্প ইতোমধ্যে উদ্বোধন করা হয়েছে। এছাড়া ডা. খাস্তগীর স্কুলের মোড় থেকে চেরাগী পাহাড় অংশে প্রায় আধা কিলোমিটার সড়ক বিভাজনে গড়ে তোলা হচ্ছে সবুজ বেষ্টনী। এখানে ১২ ফুট লম্বা ও ৩ ফুট প্রশস্ত ৮টি পিলার তৈরি করা হচ্ছে। এসব পিলারের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। পিলারগুলো করা হয়েছে টাইলস দিয়ে। এসব পিলারে চট্টগ্রামের বিভিন্ন ঐতিহ্য ও ইতিহাস তুলে ধরা হবে। রাতেও যাতে দৃষ্টিনন্দন হয় সেজন্য বিদ্যুতের ব্যবস্থা করা হবে। পিলারের পাশাপাশি ওই এলাকার ডিভাইডারে বিভিন্ন আকারের টব তৈরি করে সেখানে নানাজাতের গাছ-গাছালি এবং সবুজ ঘাসও লাগানো হচ্ছে।

ওয়ার্ড কাউন্সিলর শৈবাল দাশ জানান, সবুজ বেষ্টনীর আওতায় ডা. খাস্তগীর স্কুলের সামনে গোল চত্বরে ঝর্না তৈরি করা হবে। এছাড়া শত বছরের চট্টগ্রামের ঐতিহ্য চেরাগী পাহাড়ের গম্বুজটিরও সংস্কার করা হবে। সেখানে দৃষ্টিনন্দন চারটি দেয়াল ঘড়ি, গম্বুজের চূড়ায় একটি মশাল রাতের বেলায় জ্বলবে। চূড়া থেকে একটি লাইট চতুর্দিকে ঘোরবে যা লোকজনকে বিমোহিত করবে। এর বাইরে আসকারদিঘির পাড়, হেমসেন লেন চত্বর, কাজির দেউড়ি গোল চত্বর, লাভলেন মোড় এবং কাজির দেউড়ি থেকে লাভলেন সড়কের ডিভাইডারেও সবুজ বেষ্টনী গড়ে তোলা হবে। এসব কাজ চলতি বছরের মধ্যে শেষ হবে।

এদিকে আগামী ১৭ মার্চ উদ্বোধন হচ্ছে ওয়ার্ডের অনলাইনে সনদ বিতরণ কার্যক্রম। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ৪১টি ওয়ার্ডের মধ্যে প্রথমবারের মতো ২১ নম্বর জামালখান ওয়ার্ডে চালু হতে যাচ্ছে অনলাইন সনদ বিতরণ। এর আওতায় জাতীয় সনদ, মৃত্যু সনদ, ওয়ারিশান সনদ, জন্ম নিবন্ধনসহ বিভিন্ন সনদপত্র মিলবে অনলাইনে। শৈবালদাশসুমন.কম থেকে এসব সনদ পাওয়া যাবে বলে কাউন্সিলর জানান। জন্মনিবন্ধনে করপোরেশনের নির্ধারিত ফি ছাড়া অন্য সনদগুলো বিনা মূল্যে পাওয়া যাবে। শুধু তাই নয়, বাসায় বসে অনলাইনে কেউ আবেদন করলে তাঁরা যদি নিজেদের বাসায় ওয়ার্ডের সনদপত্র পেতে চান সেক্ষেত্রে যাতায়াত খরচ হিসেবে ৫০ টাকা ফি লাগবে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রথমবার কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়ে শৈবাল দাশ সুমন কুসুমকুমারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে সাড়ে পাঁচ লাখ টাকা ব্যয়ে ছাত্রীদের জন্য ফিঙ্গার প্রিন্ট চালু করেছেন। এর মাধ্যমে প্রায় ১১০০ ছাত্রী স্কুলে প্রবেশ ও বাইরের পাশাপাশি বিভিন্ন খবরাখবর ক্ষুদে বার্তার মাধ্যমে অভিভাবকরা জানতে পারছেন। সিসি ক্যামেরায় মনিটরিং করা হচ্ছে ওই ওয়ার্ড কার্যালয় থেকে। ওয়ার্ডের বিভিন্ন সড়ক, গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে লাগানো এসব ক্যামেরা দিয়ে ইতোমধ্যে কয়েকজন অপরাধীকেও শনাক্ত করা হয়েছে।

এসব ক্যামেরার কারণে ইভটিজিংও কমে গেছে। প্রায় ৯০ হাজার লোকসংখ্যার এ ওয়ার্ডে কাউন্সিলরের ব্যক্তিগত উদ্যোগে বিনা মূল্যে চিকিৎসা ক্যাম্প চালু রয়েছে।

 


মন্তব্য