অসৎ কর্মচারী ন্যায়বিচার ব্যবস্থার-334234 | দ্বিতীয় রাজধানী | কালের কণ্ঠ | kalerkantho

kalerkantho

সোমবার । ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৬। ১১ আশ্বিন ১৪২৩ । ২৩ জিলহজ ১৪৩৭


জেলা ও দায়রা জজ বললেন

অসৎ কর্মচারী ন্যায়বিচার ব্যবস্থার অন্তরায়

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১০ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



অসৎ কর্মচারী দক্ষ হলেও সুষ্ঠু ও ন্যায়বিচার ব্যবস্থার অন্তরায় বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম জেলা ও দায়রা জজ মো. নূরুল হদা। তিনি বলেন, ‘আদালতের কর্মচারীদের কর্মদক্ষতার পাশাপাশি পরিপূর্ণ সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্বপালন করতে হবে। কারণ দক্ষ ও সৎ কর্মচারী বিচার ব্যবস্থার অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাঁরাই দ্রুত ন্যায় বিচার নিশ্চিতকরণে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেন।’

গতকাল বুধবার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের কনফারেন্স রুমে কর্মচারী প্রশিক্ষণ কর্মশালার সমাপনী ও সনদ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। চট্টগ্রামের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মুন্সী মো. মশিয়র রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অতিথি ছিলেন অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আ স ম শহীদুল্লাহ কায়সার, সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম, মাহমুদুল হাসান, মোসাদ্দেক মিনহাজ, ফারহানা ইয়াসমিন, আবু ইউছুফ, শিপলু কুমার দে, কোর্ট পুলিশ পরিদর্শক মশিউর রহমান। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাহমুদুল হাসান।

চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মুন্সী মো. মশিয়র রহমান বলেন, ‘প্রশিক্ষণের মাধ্যমে লঘু বা ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থার জন্য ভয়ানক ভুলত্রুটি সহজে দূরীভূত করা সম্ভব। তাই প্রশিক্ষণের কোনো বিকল্প নেই।’ তিনি ভুলত্রুটির উদাহরণ টেনে বলেন, ‘আদালতে দাখিলি দরখাস্ত যথাযথভাবে নথিতে সংযুক্ত করে বিচারকের সামনে উপস্থাপন করতে হয়। কিন্তু অনেক সময় বেঞ্চ সহকারী দরখাস্তগুলো যথাযথভাবে নথিতে সংযুক্ত করেন না। ফলে গুরুত্বপূর্ণ দরখাস্ত আদেশ ছাড়াই অনিষ্পত্তিকৃত অবস্থায় থাকে। এতে বিচার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হন।’ তিনি আরো বলেন, ‘প্রশিক্ষণের মাধ্যমেই যথাযথভাবে সমন জারি, ফৌজদারি মামলার রেকর্ডের শ্রেণিবিন্যাস, প্রসেস ইস্যু, সাক্ষ্যগ্রহণ ও প্রদর্শনী চিহ্নিতকরণ, নকল সংক্রান্ত বিধানাবলী, নকল শাখা ও রেকর্ড শাখায় নথি প্রেরণ ও ফেরত ইত্যাদি সংক্রান্ত কার্যকর জ্ঞান কর্মচারীদের মধ্যে বিতরণ সম্ভব। এছাড়া পুলিশ ফাইলে জিআরওদের ছোটখাটো ভুলের কারণে মামলার পক্ষগণ ক্ষতির সম্মুখীন হন।’

প্রশিক্ষণার্থী কর্মচারীদের মধ্যে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বেঞ্চ সহকারী জয়নাল আবেদীন বলেন, ‘এ প্রশিক্ষণের ফলে আমাদের মধ্যে অধিক আত্মবিশ্বাস সঞ্চারিত হয়েছে। কাজকর্মে অনেক ভুল ছিল, যা এ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দূরীভূত হয়েছে।’

উল্লেখ্য, চট্টগ্রাম চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে কর্মরত কর্মচারী এবং কোর্ট পুলিশের জিআরওদের দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে ৭ মার্চ পর্যন্ত ১৩ দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও ম্যাজিস্ট্রেটরা এতে প্রশিক্ষণ দেন।

মন্তব্য