আচরণবিধি মানছেন না প্রার্থীরা-333430 | দ্বিতীয় রাজধানী | কালের কণ্ঠ | kalerkantho

kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২৯ সেপ্টেম্বর ২০১৬। ১৪ আশ্বিন ১৪২৩ । ২৬ জিলহজ ১৪৩৭


আচরণবিধি মানছেন না প্রার্থীরা

ছোটন কান্তি নাথ, চকরিয়া   

৮ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



আচরণবিধি মানছেন না প্রার্থীরা

দেয়ালে লাগানো হয়েছে নির্বাচনী পোস্টার। ছবি : কালের কণ্ঠ

কক্সবাজারের চকরিয়া পৌরসভা নির্বাচনে আচরণবিধি অমান্য করে প্রচার চালাচ্ছেন অনেক প্রার্থী। যেখানে সেখানে লাগানো হয়েছে পোস্টার। এছাড়া দুপুর দুটা থেকে রাত আটটা পর্যন্ত মাইকে প্রচার চালানোর নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দেওয়া হলেও প্রচার চলছে ভোর থেকে গভীর রাত অবধি। এতে শব্দ দূষণের যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ পৌরবাসী। অভিযোগ ওঠেছে, রিটার্নিং কর্মকর্তাসহ স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা এসব নিয়ে নীরব রয়েছেন।

গত ৫ মার্চ প্রতীক বরাদ্দ পেয়েই নির্বাচনী প্রচারে নেমে পড়েন মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীরা। এখানে মেয়র পদে দুজন, নারী কাউন্সিলরে ২০ জন এবং সাধারণ কাউন্সিলর পদে ৪৬ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাঁদের অনেকে বিপুলসংখ্যক দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থক নিয়ে পাড়ায় পাড়ায় গণসংযোগ করছেন। যা অনেকটা দেখতে মিছিলের মতো। আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী প্রচার শুরুর তিনদিন পেরিয়ে গেলেও আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে কোথাও কোনো প্রার্থী বা তাঁদের কর্মী-সমর্থকদের বিরুদ্ধে কোনো আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

পৌরশহর চিরিঙ্গা ও বিভিন্ন ওয়ার্ডের অলিগলি ঘুরে দেখা গেছে, নির্বাচনী পোস্টার সাঁটানো হচ্ছে বৈদ্যুতিক খুঁটি, দেয়াল ও ধর্মীয়সহ বিভিন্ন স্থাপনায়ও। এমনকি উপজেলা পরিষদ ভবন, ভূমি অফিস, থানা ভবনের দেয়ালসহ সরকারি প্রতিষ্ঠানের দেয়ালে দেয়ালেও প্রার্থীদের পোস্টার শোভা পাচ্ছে। যা নির্বাচন কমিশন ঘোষিত আচরণ বিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।

বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকেরা কালের কণ্ঠকে বলেন, এসএসসি পরীক্ষা চলছে। সামনে স্কুলে সাময়িক পরীক্ষাও। কিন্তু ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত মাইকে চালানো হচ্ছে প্রচার। এতে সৃষ্টি হচ্ছে শব্দদূষণ। এই অবস্থায় পড়ালেখার কী হবে তা নিয়ে শঙ্কিত শিক্ষার্থী ও অভিভাবক।

এ প্রসঙ্গে কয়েকজন কাউন্সিলর প্রার্থী বলেন, নির্বাচনে পোস্টার দেয়ালে সাঁটানো হয়। যা আমরা ছোটকাল থেকেই দেখে আসছি। দেয়াল বা বৈদ্যুতিক খুঁটিতে পোস্টার লাগালে আচরণবিধি যে লঙ্ঘন হয়, তা আমাদের জানা নেই।

বিএনপির মেয়র প্রার্থী নুরুল ইসলাম হায়দার বলেন, ‘আমি শুরু থেকেই নির্বাচন কমিশনের আচরণবিধি মেনে প্রচার চালাচ্ছি। তবে সরকারি দলের প্রার্থী তফসিল ঘোষণার পর পরই আচরণবিধি লঙ্ঘন করে শত শত মানুষ নিয়ে প্রচার চালাচ্ছেন।’

তবে তিনি বলেন, ‘দু-এক জায়গায় অতি উৎসাহী কর্মীরা তাঁদের বাড়ির সামনে ও দেয়ালে পোস্টার সাঁটিয়েছেন বলে জানতে পেরেছি। এসব পোস্টার দ্রুত তুলে নিতে বলেছি কর্মীদের।’

আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী আলমগীর চৌধুরী দাবি করেন, তিনি আচরণবিধি মেনেই নির্বাচনী প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন। পাড়ায় পাড়ায় দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকেরা উৎসবমুখর পরিবেশে প্রচার চালাচ্ছেন।

দেয়াল, সরকারি ভবন, বৈদ্যুতিক খুঁটিতে পোস্টার সাঁটানো আচরণবিধি লঙ্ঘন কি-না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘হয়তো দলীয় নেতাকর্মীরা আগ বাড়িয়ে এসব স্থাপনায় পোস্টার সাঁটিয়েছেন। তবে তা দ্রুত সরিয়ে নিতে নির্দেশ দিয়েছি।’

সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও চকরিয়া উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘আজ (গতকাল সোমবার) থেকে একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে অভিযানে নেমেছেন। আচরণবিধি লঙ্ঘনের প্রমাণ হাতেনাতে পেলেই আইনগত ব্যবস্থা নিচ্ছেন। ইতোমধ্যে সাত নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী হেলাল উদ্দিনকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে ফাঁকা দেয়ালে পোস্টার সাঁটানোর দায়ে।’

রিটার্নিং কর্মকর্তা ও কক্সবাজার জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. মেছবাহ উদ্দিন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘দুপুর দুটা থেকে রাত আটটা পর্যন্ত প্রচার চালাতে পারবেন প্রার্থীরা। নির্দিষ্ট ওই সময় না মেনে কেউ প্রচার চালালে তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া দেয়াল, বৈদ্যুতিক খুঁটিসহ বিভিন্ন স্থাপনায় যেসব প্রার্থী পোস্টার সাঁটিয়েছেন তাঁদেরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে পোস্টার অপসারণ করতে। দু-একদিনের মধ্যে এই নির্দেশ যাঁরা মানবেন না, তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

মন্তব্য