জনশক্তি রপ্তানিতে নারীর অংশগ্রহণ-333427 | দ্বিতীয় রাজধানী | কালের কণ্ঠ | kalerkantho

kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২৯ সেপ্টেম্বর ২০১৬। ১৪ আশ্বিন ১৪২৩ । ২৬ জিলহজ ১৪৩৭


জনশক্তি রপ্তানিতে নারীর অংশগ্রহণ বাড়ছে

আসিফ সিদ্দিকী   

৮ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



জনশক্তি রপ্তানিতে নারীর অংশগ্রহণ বাড়ছে

নারীর এই অক্লান্ত পরিশ্রমে ন্যাড়া পাহাড় ভরে ওঠবে সবুজে। পাহাড়ি জনপদ হাসবে ফল-ফসলের প্রাচুর্যে। পার্বত্য বান্দরবান জেলার নাইক্ষ্যংছড়ির বাইশারি এলাকা থেকে ছবিটি তুলেছেন কালের কণ্ঠের কক্সবাজারের নিজস্ব প্রতিবেদক তোফায়েল আহমদ।

জনশক্তি রপ্তানিতে সারা দেশে চট্টগ্রাম জেলার অবস্থান শীর্ষে থাকলেও নারীর অংশগ্রহণ ছিল নগণ্য। সেখানে একচেটিয়া ‘দাপট’ পুরুষের। কিন্তু গত পাঁচ বছরে একটু একটু করে সেই চিত্র বদলে গেছে। জনশক্তি রপ্তানিতেও ‘দাপট’ বাড়ছে এখানকার নারীর।

জনশক্তি রপ্তানির চিত্র বলছে, ২০১১ সালে বিদেশে চট্টগ্রাম জেলা থেকে নারীকর্মী গেছেন মাত্র ১২২ জন। আর গত বছর গেছেন ১৩৯০ জন। যা এযাবতকালের রেকর্ড। এত বিপুলসংখ্যক নারীকর্মী বিদেশে যাওয়ার পেছনে চট্টগ্রাম জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর প্রচারও বেশ কাজ দিয়েছে।

এ প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম জেলা জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর সহকারী পরিচালক জহিরুল আলম মজুমদার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘জনশক্তি রপ্তানিতে চট্টগ্রামের অবদান শীর্ষে থাকলেও নারীকর্মীর সংখ্যা একেবারে কম ছিল। চট্টগ্রামের নারীরা বিদেশবিমুখ ছিলেন। কুসংস্কার ও অপপ্রচারও এর জন্য অনেকটা দায়ী।’

তবে সেই চিত্র বদলে যাচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘নারীকর্মী প্রেরণে আমাদের ধারাবাহিক প্রচার-প্রচারণা বেশ সুফল দিয়েছে। এখন যে গতি এসেছে তাতে আশা করছি নারীকর্মী প্রেরণে চট্টগ্রামে নতুন মাইলফলক হবে।’

তবে জনশক্তি রপ্তানি কাজে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নারীকর্মী প্রেরণে ইতিবাচক প্রচারের চেয়ে নেতিবাচকই বেশি হচ্ছে। এ বিষয়ে জহিরুল আলম বলেন, ‘ছোটখাটো ঘটনাকে বড় করে নেতিবাচকভাবে তুলে ধরায় লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে আমাদের বেশ বেগ পেতে হয়েছে। তবে ইদানীং শিক্ষিত নারীরা চাকরি নিয়ে বিদেশ যাওয়ায় ধারণা পাল্টাচ্ছে।’

জনশক্তি রপ্তানিকারকরা জানান, সৌদি আরব বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শ্রমবাজার। প্রায় আট বছর পর গত বছর বাংলাদেশ থেকে সৌদি আরবে নারীকর্মী পাঠানোর মাধ্যমে বন্ধ দুয়ার খুলে যায়। আগে প্রতিটি নারীকর্মী যেতে ৮ থেকে ১০ লাখ টাকা খরচ করতে হলেও সরকার মাত্র ৩০০ টাকায় নিবন্ধন করে সৌদি আরবে চাকরির সুযোগ দেয়। কিন্তু সৌদি আরবে নারীকর্মী প্রেরণে সরকারি প্রচার ততটা ছিল না, যতটা দেখা গেছে মালয়েশিয়ার ক্ষেত্রে। এ কারণে চট্টগ্রাম থেকে নারীকর্মী নিবন্ধনের হার ছিল একেবারে কম। তবে চট্টগ্রাম থেকে সৌদি আরবে যেতে নারীর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। সেই সুযোগ কাজে লাগালে নারীকর্মী রপ্তানিতে চট্টগ্রামের সম্ভাবনা কাজে লাগানো সম্ভব হবে।

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, ২০১১ সালে চট্টগ্রাম থেকে বিদেশে নারীকর্মী গেছেন ১২২ জন। এর পরের বছর ২৮৮ জন, ২০১৩ সালে ৩৭৩, পরের বছর ৮৬৩ এবং গত বছর তা বেড়ে ১৩৯০ জনে উন্নীত হয়েছে। ২০১৫ সালে চট্টগ্রাম জেলা থেকে জনশক্তি রপ্তানি হয় সাড়ে ৩২ হাজার। এর মধ্যে নারীকর্মী ১৩৯০ জন। শতাংশের হিসাবে তা প্রায় সাড়ে চার শতাংশ।

মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, ২০১০ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত নারীকর্মী রপ্তানিতে ঢাকা জেলা শীর্ষে রয়েছে। ঢাকা থেকে কর্মী গেছেন ৩৭ হাজার ৬২৫ জন। মানিকগঞ্জ জেলা দ্বিতীয় স্থানে ২৪ হাজার ৬৭৮ জন এবং তৃতীয় কুমিল্লা জেলা ১১ হাজার ৫৪৩ জন। কক্সবাজার জেলা নারীকর্মী প্রেরণে অনেক পিছিয়ে। ২০১০ সাল থেকে ২০১৫ পর্যন্ত কক্সবাজার থেকে গেছেন মাত্র ১৪৩৫ জন। ২০১৫ সালে দেশ থেকে নারীকর্মী প্রেরণ অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়েছে। যা সংখ্যায় ১ লাখ ৩ হাজার জন। সবচেয়ে বেশি কর্মী গেছেন সংযুক্ত আরব আমিরাতে। আর জর্ডান দ্বিতীয় এবং সৌদি আরব তৃতীয় স্থানে।

 

মন্তব্য