‘লবণ মাঠের’ সোনার কিশোর-331653 | দ্বিতীয় রাজধানী | কালের কণ্ঠ | kalerkantho

kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২৯ সেপ্টেম্বর ২০১৬। ১৪ আশ্বিন ১৪২৩ । ২৬ জিলহজ ১৪৩৭


‘লবণ মাঠের’ সোনার কিশোর

তোফায়েল আহমদ, কক্সবাজার   

৩ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



‘লবণ মাঠের’ সোনার কিশোর

বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ প্রাথমিক বিদ্যালয় ফুটবল টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন হয় পেকুয়ার রাজাখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। গতকাল খেলোয়াড়দেরকে সংবর্ধনা দেয় কক্সবাজার জেলা প্রশাসন। ছবি : কালের কণ্ঠ

একেই বলে অন্ধকারে আলো! যোগাযোগের ভালো ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি এখনো। খেলাধুলার মাঠের বড়োই অভাব। নেই কোনো আধুনিক সুযোগ সুবিধা। এমন একটি অজপাড়া গাঁর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্ররা ছিনিয়ে এনেছে বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ প্রাথমিক বিদ্যালয় ফুটবল টুর্নামেন্ট ২০১৫। সারা দেশের ৬০ হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে সেরা প্রতিষ্ঠানটি হচ্ছে কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার রাজাখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। গতকাল বুধবার খেলোয়াড়দের সংবর্ধনা দিয়েছে জেলা প্রশাসন। এর আগের টুর্নামেন্টেও রানার্স আপ হয়েছে ওই উপজেলার রাজাখালী ফয়জুন্নেছা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

সরকার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ক্রীড়ামুখী করতে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চালু করে বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট। ২০১৫ সালের টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত হয় গত ১৬ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ নুরুচ্ছাফাহ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বলতে লজ্জা নেই, লবণ মাঠে কাজ করেই স্কুলে আসা দীনহীন পরিবারের কিশোরগুলো সোনার কাপ জিতেছে। দেশের হাজার হাজার স্কুলের মধ্যে আমার সোনার ছেলেরা নিয়ে এসেছে জাতীয় পর্যা য়ের এই গৌরব।’

তিনি আরো বলেন, ‘বুধবার জেলা প্রশাসনের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার জন্য বিজয়ী শিক্ষার্থী ১৭ খেলোয়াড়কে একত্রিত করতে গিয়েও আমার মাথায় বাজ পড়ার অবস্থা! কেননা তাদের অনেকে তখন লবণ মাঠে কাজ করছিল। বাবার সাথে মাঠে কাজ না করলে ওরা খাবে কীভাবে? তাদের অনেকে পাহাড়ে ও ক্ষেত-খামারে কাজ করে।’

স্থানীয় ক্রীড়ামোদী সিরাজুল কবির বলেন, ‘এসব কিশোর খেলোয়াড়ের প্রশিক্ষণের জন্য কোনো কোচ ছিল না। আমি প্রতিযোগিতার আগে মাত্র তিন-চার মাস তাদের প্রশিক্ষণ দিয়েছিলাম।’

এমন বিজয়ে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী ওই বিদ্যালয়ের দল থেকে হুমায়ুন কবির রিয়াজ ও শাহীন আলম নামের দুজনকে বিকেএসপিতে ভর্তি করার ব্যাপারে আশ্বাস দিয়েছেন। এ প্রসঙ্গে দরিদ্র পরিবারের সন্তান শাহীন আলম বলেছে, ‘আমি আজও (বুধবার) বাবার সঙ্গে লবণ মাঠে কাজ করতে গিয়েছিলাম। হেডস্যার আমাকে ডেকে কক্সবাজার এনেছেন। আমি যদি বিকেএসপিতে ভর্তি হতে পারি তাহলে আল্লাহর রহমতে ভালো খেলতে পারব।’

ফাইনাল খেলায় উপস্থিত ছিলেন পেকুয়া উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান সাফায়াত আজিজ রাজু। তিনি বলেন, ‘চমৎকার খেলা উপহার দিয়েছিল সেদিন আমাদের কিশোর সোনার ছেলেরা।’

জেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা) আনোয়ারুল নাসের। প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক মো. আলী হোসেন। স্থানীয় সরকারের

উপ-পরিচালক আবুল ফয়েজ মো. আলাউদ্দিন খান, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট সিরাজুল মোস্তফা, মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ শাহজাহান, পেকুয়া উপজেলা চেয়ারম্যান সাফায়াত আজিজ রাজু, জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক অনুপ বড়ূয়া অপু, রাজাখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি মোকতার আহমদ প্রমুখ বক্তব্য দেন।

অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়টির খেলার মাঠের করুণদশার কথা শুনে জেলা প্রশাসক মাঠ সংস্কারের জন্য ২০ মেট্রিক টন গম বরাদ্দ দেওয়ার ঘোষণা দেন।

জানা গেছে, পেকুয়া উপজেলা সদর থেকে ৮ কিলোমিটার দূরে রাজাখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি স্থাপিত হয় ১৯৪০ সালে। চট্টগ্রামের আনোয়ারার জমিদার ও রাজনীতিক মরহুম আতাউর রহমান খান কায়সারের বাবা মরহুম ইয়ার আলী খান চৌধুরী এটিসহ পার্শ্ববর্তী একটি উচ্চ বিদ্যালয় এবং আরো অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেন।

মন্তব্য