যমুনায় ‘চাঁদাবাজি’-331523 | দ্বিতীয় রাজধানী | কালের কণ্ঠ | kalerkantho

kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৭ সেপ্টেম্বর ২০১৬। ১২ আশ্বিন ১৪২৩ । ২৪ জিলহজ ১৪৩৭

যমুনায় ‘চাঁদাবাজি’

শিমুল নজরুল   

৩ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



যমুনায় ‘চাঁদাবাজি’

যমুনা অয়েল কম্পানির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সম্প্রতি পাঁচ শতাংশ লভ্যাংশ পেয়েছেন। তবে কম্পানির নিয়ম অনুযায়ী ওই লভ্যাংশ পান না কম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক। তাই ব্যবস্থাপনা পরিচালককে খুশি করতে যমুনা অয়েল কম্পানি অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশন নেতারা সদস্যদের কাছ থেকে প্রায় সাত লাখ টাকা সংগ্রহে ‘চাঁদাবাজি’ শুরু করেছেন।

একই অভিযোগ রয়েছে কর্মচারী ইউনিয়নের (সিবিএ) নেতাদের বিরুদ্ধেও। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

এ প্রসঙ্গে যমুনা অয়েল কম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মাসুদুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘অফিসার্স অ্যাসোশিয়েশন কি করছে তা জানি না। তবে চাঁদাবাজির যে অভিযোগ ওঠেছে তার প্রমাণ পেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

অফিসার্স অ্যাসোশিয়েশনের সভাপতি শামসুল আরেফিন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘এটি চাঁদাবাজি নয়। অ্যাসোসিয়েশনের তহবিল গঠনের জন্য সদস্যদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হচ্ছে। তবে কারো কাছ থেকে জোরপূর্বক টাকা আদায় করা হয়নি।’

তিনি আরো বলেন, ‘প্রতিবছর এই সময়ে (পাঁচ শতাংশ লভ্যাংশ পাওয়ার পর) কর্মকর্তাদের কাছ থেকে অ্যাসোসিয়েশনের তহবিল গঠনের জন্য টাকা সংগ্রহ করা হয়। এবারও তা-ই হচ্ছে।’

অভিযোগ প্রসঙ্গে কর্মচারী ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মো. ইয়াকুব কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সংগঠনের নাম ব্যবহার করে কোনো চাঁদা নেওয়া হচ্ছে না।’

যমুনা অয়েল কম্পানির কর্মকর্তারা জানান, কম্পানির অফিসার্স অ্যসোশিয়েশনের দেশব্যাপী সদস্য রয়েছে ১২১ জন। সব সদস্যের কাছে চিঠি দিয়ে জনপ্রতি ছয় হাজার টাকা করে চাঁদা তোলা হচ্ছে। চিঠিতে অ্যাসোশিয়েশনের তহবিল গঠনের জন্য স্বতঃস্ফূর্তভাবে ওই টাকা দিতে আহ্বান জানানো হয়েছে। একইভাবে কর্মচারী ইউনিয়নের নেতারা সংগঠনের সদস্যদের কাছ থেকে দুই হাজার টাকা রসিদ ছাড়াই আদায় করছেন বলে অভিযোগ ওঠেছে। যমুনা অয়েল কর্মচারী ইউনিয়নের সদস্য চার শতাধিক।

জানা গেছে, গত ২৭ ফেব্রুয়ারি যমুনা অয়েল কম্পানির বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় কম্পানির নিয়ম অনুযায়ী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য পাঁচ শতাংশ লভ্যাংশ অনুমোদন দেওয়া হয়। সেই হিসাবে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা জনপ্রতি প্রায় দুই লাখ ৭১ হাজার টাকা পাচ্ছেন। এর আগেই কম্পানিতে শুরু হয়েছে চাঁদাবাজির মহোৎসব!

কয়েকজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শামসুল আরেফিন ক্ষমতার অপব্যবহার করে এই ‘চাঁদাবাজি’ করছেন। অ্যসোশিয়েশন থেকে দেওয়া চিঠিতে স্বেচ্ছায় ছয় হাজার টাকা দেওয়ার আহ্বান জানালেও যাঁরা এই চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানান তাঁদের ওপর ‘চাপ’ সৃষ্টি করা হচ্ছে। বিশেষ করে ডিপো সুপারিনটেন্ডন্ট (ডিএস) পদের কর্মকর্তাদের ওপর চাপ বেশি।

অভিযোগ রয়েছে, ডিএস পদের কর্মকর্তাদের অন্যত্র বদলি করানোর হুমকি দিয়ে তাঁদের কাছ থেকে চাঁদা আদায় করছেন অফিসার্স অ্যসোসিয়েশন নেতারা। যমুনার উপ-মহাব্যবস্থাপক (অপারেশন) কাজী মঞ্জুর রহমানের গোপনীয় সচিব মো. শাহজাহান মিয়া এই চাঁদার টাকা কর্মকর্তাদের কাছ থেকে সংগ্রহ করছেন।

মন্তব্য