kalerkantho

শনিবার । ৩ ডিসেম্বর ২০১৬। ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ২ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।

বই আছে পাঠক নেই

আসাদুজ্জামান দারা, ফেনী   

১ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



বই আছে পাঠক নেই

ফেনী জেলা সরকারি গণগ্রন্থাগারের দুরবস্থা চলছে। পাঠকশূন্য থাকে প্রায়ই।

সরেজমিন দেখা যায়, গ্রন্থাগারের পাঠকক্ষে নেই পাঠকের উপস্থিতি। টেবিলে ‘নীরবতা পালন করুন’ লেখা নোটিশের মতো নীরব হয়ে আছে পুরো গণগ্রন্থাগার। তাকে সারি সারি সাজানো বইগুলো অপেক্ষার প্রহর গুনছে পাঠকের। শূন্য পাঠকক্ষে অলস সময় কাটান গ্রন্থাগার সহকারী মো. শামসুদ্দীন এবং তাঁর সহকারী।

জেলা সরকারি গণগ্রন্থাগারের পাঠকহীন দুরবস্থার কথা জানালেন গ্রন্থাগার সহকারী শামসুদ্দীন। বলেন, ‘বইয়ের প্রতি আগ্রহ নেই পাঠকের। এমনকি আজকাল পুরস্কার হিসেবে বই নিতে চায় না কেউ। পুরস্কারের অনেক বই পড়ে আছে পাঠাগারে। গ্রহণ করেননি সংশ্লিষ্টরা। ’ তিনি জানালেন গ্রন্থাগারের পাঠকহীনতার কথা। বলেন, ‘আজকাল গ্রন্থাগারে সময় কাটানোর মতো লোকজন নেই, তেমন আসেন না কেউ। বইয়ের প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন সবাই!’

জেলা শিল্পকলা একাডেমি সংলগ্ন এসএসকে রোডের ওয়াপদা মাঠের উত্তর পাশে জেলা সরকারি গণগ্রন্থাগার প্রায় পাঁচ বছর আগে নতুন নিজস্ব ভবনে স্থানান্তরিত করা হয় বলে জানান গ্রন্থাগারের দায়িত্বরত জুনিয়র লাইব্রেরিয়ান ফেরদৌস আক্তার।

তিনি জানান, ৫৬০০ বর্গফুট আয়তন বিশিষ্ট ওই পাঠাগারে আছে ২৬ হাজার বইয়ের বিশাল সমৃদ্ধ ভাণ্ডার। আছে বাংলা ও ইরেজি সব দৈনিক, ত্রৈমাসিক, সাপ্তাহিক, মাসিক পত্রিকাসহ জ্ঞান, বিজ্ঞান, সাহিত্য, উপন্যাস, সাময়িকী, প্রবন্ধ, কবিতা, ভ্রমণ ও নানা দুষ্প্রাপ্য মূল্যবান বইয়ের বিশাল সম্ভার। যা অনেকের কিনে পড়ার সাধ্য নেই। তবু পাঠক নেই এখানে।

এর কারণ হিসেবে তিনি দায়ী করলেন গ্রন্থাগারের দূরত্বকে। বলেন, ‘শহর থেকে কিছুটা দূরে হওয়ায় এখানে তেমন পাঠক আসতে চান না। আরো আছে প্রচার-প্রচারণার অভাব। এছাড়া নূতন সৃষ্ট লাইব্রেরিয়ান পদটিও খালি বহুদিন। ’

জানা গেছে, প্রতিবছর সরকার পাঠাগারের জন্য নতুন বই বরাদ্দ দিলেও পাঠকের অভাবে তা পড়ে থাকে বইয়ের তাকে মলিন অবস্থায়।

সর্বস্তরের জনসাধারণের পাঠাভ্যাস বৃদ্ধি এবং গ্রন্থাগারের প্রতি আকৃষ্ট করার জন্য গ্রন্থাগারে বিভিন্ন সমপ্রসারণমূলক কার্যক্রম যেমন- বিভিন্ন জাতীয় দিবস উপলক্ষে রচনা প্রতিযোগিতা, হাতের সুন্দর লেখা প্রতিযোগিতা, পাঠ প্রতিযোগিতা ইত্যাদি আয়োজন করা হলেও পাঠক বাড়ছে না কিছুতেই। যদিও আগের ট্রাংক রোডস্থ পুরাতন গ্রন্থাগারের তুলনায় নতুন ভবনের আয়তন বেড়েছে, বেড়েছে বই, বেড়েছে পাঠকক্ষের আয়তন। কিন্তু দূরত্ব কমিয়ে দিয়েছে পাঠকসংখ্যা। পূর্বের ট্রাংক রোডস্থ রাজাঝির দিঘির পাড়ে অবস্থিত গ্রন্থাগারে ব্যাপক পাঠক সমাগম উপস্থিতি লক্ষ করা যেত। শহরের মূল কেন্দ্রে হওয়ায় আশপাশের স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থীরা ভিড় জমাত পাঠাগারে। নতুন ভবনে একান্ত দরকার ছাড়া এখন কেউ আসে না আর।

গণগ্রন্থাগারের এক সময়ের নিয়মিত পাঠক বর্তমানে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কর্মরত এক শিক্ষিকা অভিযোগের সুরে বললেন, ‘শহর থেকে বাইরে হওয়ায় ও নিরাপত্তার সংকটে আমি যাই না সেখানে। আগের পাঠাগারে নিয়মিত সময় কাটাতাম। কিন্তু বর্তমানে দূরত্ব বেড়ে যাওয়ায় সম্ভব হয় না এতদূর এসে বই পড়ার। ’

ফেনী সরকারি পাইলট স্কুলের এক ছাত্র জানাল, অবসর সময়ে সে বই পড়তে ভালোবাসে। গ্রন্থাগারটি তার বাসা থেকে দূরে বলে সে ইচ্ছে থাকলেও আসতে পারে না। গ্রন্থাগার শহরের মধ্যস্থলে হলে ভালো হত বলে মনে করে সে।

গ্রন্থাগার থেকে বিভিন্ন রকম সেবা পেতে পারেন পাঠক। সেবাগুলো হচ্ছে পাঠক সেবা, রেফারেন্স সেবা, সাম্প্রতিক তথ্যজ্ঞাপন সেবা, পরামর্শ সেবা, নির্বাচিত তথ্য বিতরণ সেবা, তথ্য অনুসন্ধান সেবা, উপদেশমূলক সেবা, পুস্তক লেনদেন সেবা ও ফটোকপি সেবা।

এছাড়া পাঠক চাইলে গ্রন্থাগারের নির্দিষ্ট ফরমে আবেদন করে সদস্য হয়ে বই বাসায় নিয়েও পড়তে পারবেন বলে জানান জুনিয়র লাইব্রেরিয়ান ফেরদৌস আক্তার। বৃহসপতিবার ও শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটি, অন্যান্য সরকারি ছুটির দিন বন্ধ ছাড়া শনিবার থেকে বুধবার সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৬টা পর্যন্ত গ্রন্থাগার সবার জন্য উন্মুক্ত থাকে। এসব সেবা সত্ত্বেও পাঠক না থাকলে কোনো লাভ নেই বলে তিনি মন্তব্য করেন।

গণগ্রন্থাগারের পাঠক বাড়াতে বিরাজমান সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।


মন্তব্য