kalerkantho

শনিবার । ১০ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


পুলিশের ‘ক্যাশিয়ার’ এখনো অধরা

এস এম রানা   

১ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



পুলিশের ‘ক্যাশিয়ার’ এখনো অধরা

চট্টগ্রাম মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের নাম ভাঙিয়ে ‘ক্যাশিয়ার’ পরিচয়ে ‘টাকা আদায়ে’ অভিযুক্ত সেলিম হাওলাদারকে এখনো গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।

গত ৮ ফেব্রুয়ারি নগর পুলিশের মাসিক অপরাধবিষয়ক সভায় সেলিমকে গ্রেপ্তার করতে দ্বিতীয় দফা নির্দেশ দিয়েছিলেন পুলিশ কমিশনার।

ওই নির্দেশনার তিন সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও তাঁকে গ্রেপ্তার করেনি গোয়েন্দা পুলিশ!

এদিকে গতকাল সোমবাব বিকেলে কালের কণ্ঠের সঙ্গে মোবাইল ফোনে আলাপকালে সেলিম হাওলাদার বলেছেন, ‘পুলিশ কমিশনার কীসের ভিত্তিতে আমাকে গ্রেপ্তার করতে বললেন? তাঁর কাছে কি আমার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ আছে? নাকি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা আছে?’

তিনি নিজেকে ‘হৃদরোগী’ দাবি করে বলেন, ‘এখন ঢাকায় ডা. সুফিয়া রহমানের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন আছি। আমি গোয়েন্দা পুলিশের কোনো ক্যাশিয়ার নই। ’ পুলিশের অবসরপ্রাপ্ত এই কনস্টেবল আরো বলেন, ‘আমি চাকরিতে নেই। আর কারো অধীনেও নেই। তাই কারো কাছে জবাবদিহিতাও নেই। ’

নগর পুলিশ কমিশনার আবদুল জলিল মণ্ডল দুই দফা নির্দেশ দেওয়ার পরও কথিত ক্যাশিয়ার সেলিম হাওলাদার গ্রেপ্তার না হওয়া প্রসঙ্গে জানতে চাইলে নগর পুলিশের সহকারী কমিশনার (দক্ষিণ) মোহাম্মদ কামরুজ্জামান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সেলিম হাওলাদারকে গ্রেপ্তার করতে কমিশনার স্যার নির্দেশ দিয়েছেন। এরপর থেকেই তাকে গ্রেপ্তারের জন্য খোঁজা হচ্ছে। কিন্তু সে চট্টগ্রাম ছেড়ে পালিয়েছে। এই কারণে তাঁকে গ্রেপ্তার করা যাচ্ছে না। ’

গোয়েন্দা পুলিশের এই কর্মকর্তা ‘ক্যাশিয়ার’ সেলিম হাওলাদার চট্টগ্রাম ছেড়ে পালানোর কথা বললেও তাঁকে চট্টগ্রাম নগরীর কোতোয়ালী, পুলিশ সদরদপ্তর লালদিঘিরপাড় এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে দেখা গেছে বলে জানিয়েছেন গোয়েন্দা পুলিশের কয়েকজন কর্মকর্তা। তাঁরা জানান, সেলিম হাওলাদারকে গ্রেপ্তার করা নিয়ে নগর গোয়েন্দা পুলিশের পদস্থ কর্মকর্তাদের মধ্যে বিভক্তি তৈরি হয়েছে। ‘ক্যাশ’ নিয়ন্ত্রণকারী কর্মকর্তাদের একাংশ চাইছেন, কথিত ক্যাশিয়ার সেলিম হাওলাদার ওই পদে থাকুক। অন্যপক্ষ চাইছে, সেলিম হাওলাদারের পরিবর্তে অন্য কাউকে দায়িত্ব দিতে।

এদিকে চট্টগ্রামে অবস্থান বিষয়ে জানতে চাইলে সেলিম হাওলাদার গতকাল সোমবার বলেন, ‘চট্টগ্রামে আমার শ্বশুরবাড়ি, এ কারণে চট্টগ্রামে গিয়েছিলাম। ’

সোনা চোরাচালানের সঙ্গে তাঁর সংশ্লিষ্টতা নেই দাবি করে তিনি বলেন, ‘আমার শত্রু আছে, তারাই ষড়যন্ত্র করছে। ’ পুলিশ প্লাজার একটি সেলুনে চাঁদা দাবির অভিযোগ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘সেলুন ভাড়া দিয়ে বডি ম্যাসাজ করা হচ্ছে সেখানে। তাই কেউ হয়তো চাঁদা চেয়েছে। ওরাই আমার নাম বলে থাকতে পারে। আমি এসব কিছুই জানি না। ’

প্রতিবাদ : গত ৭ ও ১১ ফেব্রুয়ারি কালের কণ্ঠে ‘চট্টগ্রামে সোনা পাচারে বিমানের প্রকৌশলী ও পুলিশের ক্যাশিয়ার’ এবং ‘ক্যাশিয়ার রেখে গোয়েন্দা পুলিশের টাকা আদায়’ শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ জানিয়েছেন সেলিম হাওলাদার। প্রতিবাদলিপিতে তিনি বলেন, ‘প্রকাশিত সংবাদের মাধ্যমে আমার মর্যাদা ক্ষুণ্ন হয়েছে। ’

প্রতিবেদকের বক্তব্য : সংবাদ দুটিতে প্রকাশিত সব তথ্য সঠিক। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে তথ্য যাচাই-বাছাই করেই সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে। সেলিম হাওলাদার পুলিশের নামে ‘টাকা আদায়’ করছেন-এমন অভিযোগ পেয়ে তাঁকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে কালের কণ্ঠকে জানিয়েছিলেন নগর পুলিশ কমিশনার আবদুল জলিল মণ্ডল।

এর পর থেকে সেলিম হাওলাদারকে গ্রেপ্তারের জন্য খোঁজা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন নগর গোয়েন্দা পুলিশের সহকারী কমিশনার (দক্ষিণ) মোহাম্মদ কামরুজ্জামান।

 


মন্তব্য