kalerkantho


চবি শাটল ট্রেন বটতলী যায় না দেড় বছর

শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি

শাখাওয়াত হোসাইন, চবি   

১০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৫ ০০:০০



প্রায় দেড় বছর ধরে চট্টগ্রাম নগরীর বটতলী স্টেশন থেকে ছাড়া হচ্ছে না চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম শাটল ট্রেন। রেললাইন আধুনিকায়নের 'অজুহাতে' নগরীর ষোলশহরে রাখা হচ্ছে ট্রেনটি। এতে শিক্ষার্থীরা ভোগান্তি পোহালেও বিষয়টি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কোনো মাথাব্যথা নেই! গতকাল সোমবার সংবাদ সম্মেলন করে শাটল ট্রেন বটতলী থেকে ছাড়ার দাবি জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র ফেডারেশন।

জানা গেছে, ২০১৩ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর শুরু হয় চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশনের আধুনিকায়নের কাজ। আধুনিকায়নের জন্য দুই মাস শাটল ট্রেন বটতলী স্টেশনের পরিবর্তে ষোলশহর থেকে ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেয় রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। রেলওয়ের তৎকালীন প্রধান প্রকৌশলী মাহাবুব উল আলম চিঠি দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে বিষয়টি অবহিত করেন। দুই মাসের মধ্যে কাজ শেষ করে পুনরায় বটতলী থেকে শাটল ট্রেন চালু হবে বলে জানানো হয় ওই চিঠিতে।

চিঠি দেওয়ার পর ১৭ মাস গত হলেও বটতলী যাচ্ছে না ট্রেন। বিষয়টি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কোনো উদ্যোগ নেয়নি। এমনকি পুনরায় বটতলী থেকে শাটল ট্রেন চালু করতে একটি চিঠিও দেয়নি রেলওয়েকে। অথচ শাটল ট্রেনের ভাড়া বাবদ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ প্রতিমাসে ছয় লাখ টাকা পরিশোধ করে রেলওয়েকে। ক্যাম্পাস থেকে চট্টগ্রাম স্টেশনের দূরত্ব সাড়ে ২০ কিলোমিটার। আর ক্যাম্পাস থেকে ষোলশহরের দূরত্ব প্রায় ১৪ কিলোমিটার। বিগত ১৭ মাস ধরে শাটল ট্রেন সাড়ে ছয় কিলোমিটার কম চলাচল করলেও পুরো ছয় লাখ টাকা পরিশোধ করেছে বিশ্ববিদ্যালয়। অন্যদিকে বাণিজ্যিক ট্রেনের ভাড়া বাড়ানোর সাথে শাটল ট্রেনের ভাড়া বাড়ানোর জন্য রেল কর্তৃপক্ষ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে চাপ দিচ্ছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার প্রকৌশলী মো. আলমগীর হোসেন বলেন, 'শাটল ট্রেনের সেবার মান বাড়াতে এবং পুনরায় বটতলী স্টেশন পর্যন্ত ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক করতে আমাদের একটি সভা ছিল রেলওয়ের সাথে। কিন্তু চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে তা করা যায়নি।'

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রেলওয়ের একজন কর্মকর্তা বলেন, 'শাটল ট্রেনের জন্য নির্ধারিত লাইনের কাজ অনেক আগেই শেষ হয়েছে। শাটল ট্রেন বটতলী স্টেশনে এলে অনেক সময় শিক্ষার্থীরা ঝামেলা করেন। তাই শাটল ট্রেনকে বটতলী আনা হচ্ছে না।' তবে রেলওয়ের প্রধান প্রকৌশলী (পূর্ব) আহম্মদ উল্লাহ মিয়া বলেন, 'চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশনের রি-মডেলিং কাজ এখনো শেষ হয়নি। দুই মাসের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে দেরি হচ্ছে। আশা করছি মার্চের মধ্যেই শাটল ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হবে।'

জানা যায়, চট্টগ্রাম বটতলী রেলওয়ে স্টেশন থেকে ছেড়ে নগরীর ঝাউতলা স্টেশন হয়ে ষোলশহরে আসত শাটল ট্রেন। নগরীর এ কে খান, অলংকার, খুলশী, আকবর শাহ এলাকাসহ নগরীর পুরো পশ্চিমাঞ্চলের শিক্ষার্থীরা ঝাউতলা স্টেশনে উঠানামা করতেন। এছাড়া কোতোয়ালী, সদরঘাট, পাথরঘাটা, হালিশহর, আগ্রাবাদ ও পতেঙ্গাসহ পুরো দক্ষিণ চট্টগ্রামের শিক্ষার্থীরা যাতায়াত করতেন বটতলী থেকে।

 

 

 



মন্তব্য