kalerkantho

লৌহযুগের ২৬ নরকংকাল উদ্ধার ইংল্যান্ডে, অনেকে বলির শিকার

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৬ এপ্রিল, ২০১৯ ১৩:২৭ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



লৌহযুগের ২৬ নরকংকাল উদ্ধার ইংল্যান্ডে, অনেকে বলির শিকার

ইংল্যান্ডের অক্সফোর্ডশায়ারের একটি কনস্ট্রাকশন সাইটে মাটি খুঁড়তেই বেরিয়ে এসেছে সেই লৌহযুগের নরকংকাল। তাও একটি-দুটি নয়, মিলেছে ২৬টি কংকাল! পুরাতত্ত্ববিদদের ধারণা, ৩ হাজার বছর আগেকার এই কঙ্কালগুলোর কয়েকটি হয়তো বলির শিকার হয়েছে। 

অক্সফোর্ডশায়ারের ওই স্থানটিতে পাইপ বসানোর বড় একটি কাজ করছিল টেমন ওয়াটার কম্পানি। কিন্তু কেউ ধারণাও করেননি যে, তারা একটি প্রাচীন স্থাপনা এবং সংশ্লিষ্ট সমাধিস্থলের ওপর দাঁড়িয়ে কাজ করছেন। পরে ডাকা হয় কটসওল্ড আর্কিওলজির বিশেষজ্ঞদের। 

এসেই কাজ শুরু করে পুরাতত্ত্ববিদরা। একে একে বেরিয়ে আসে তৈজসপত্র, অগ্নিপ্রস্তর তৈরি যন্ত্রপাতি, পশুর হাড়, একটি কারুকাজ করা চিরুনির এবং এমন আরো অনেক জিনিসপত্র। সমাধিস্থলে মিলেছে ২৬টি কংকাল। এই সাইটটি চিলড্রে ওয়ারেন নামে পরিচিত। পরীক্ষায়ে দেখা গেছে, এই প্রাচীন স্থাপনার বয়স ৩ হাজার বছর। তখন ইংল্যান্ডে লৌহ যুগ বিরাজমান। এই স্থাপনা রোমানদের বিজয় অভিযানেরও আগেকার। 

সমাধিতে নারী-পুরুষ উভয়ের কংকাল পাওয়া গেছে। এদের কয়েকজন সম্ভবত মানববলির শিকার হয়েছিলেন। এমনটাই জানিয়েছেন কটসওল্ডের পুরাতত্ত্ববিদরা। এক নারীর একটি পা কাটা হয়েছে এবং একটি হাত পেছনে বেঁধে রাখা হয়েছিল। আরেকটি দেহের করোটি রাখা হয়েছে শিরশ্ছেদকৃত দেহের পায়ের কাছে। 

এর আগের আবিষ্কারে এমনই কিছু নমুনা পেয়েছিলেন বৃটিশ বিজ্ঞানীরা। ইংল্যান্ডের সাফল্কে বেরিয়ে আসে ১৭ শত বছর আগেকার একটি সাইট। সেখানে ছিল ৫০টির মতো কংকাল। এদের অনেকগুলোকে শিরশ্ছেদ করা হয়েছে। তবে এসব সাইটে শিরশ্ছেদের কারণ এখনো জানা যায়নি। তবে সাফোল্কের সাইটে পরীক্ষায় জানা গেছে, কিছু মানুষকে মারার পর তাদের মস্তক বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। 

সাধারণত এ ধরনের সমাধিগুলোকে 'বিপৎগামীদের গোরস্তান' বলা হয়। যেকোনো সংস্কৃতির গোরস্তানে তাদের সমাধি একটু আলাদাভাবেই করা হয়। 

সর্বসম্প্রতি পাওয়া অক্সফোর্ডশায়ারের এই কংকাল ও জিনিসপত্র নিয়ে বিস্তর গবেষণা করবেন বিজ্ঞানীরা। তারপর এদের সম্পর্কে পরিপূর্ণ তথ্য পাওয়া যাবে। কবরস্থ কিছু দেহ হয়তো রীতি পালনের জন্যে হত্যাকাণ্ডের শিকার। আবার কয়েকটির হয়তো শাস্তি হয়েছে। 

কটসওল্ড আর্কিওলজির চিফ এক্সিকিউটিভ বলেন, এই আবিষ্কারের মাধ্যমে আমরা ২ হাজার বা তারও বেশি আগেকার মানুষের বিশ্বাস ও সংস্কৃতি সম্পর্কে ধারণা দেবে। 

প্রজেক্ট কর্মকর্তা পাওলো গোয়ারিনো বলেন, এখন আমরা এমন এক জাতি সম্পর্কে জানবো যারা কেবল তাদের স্থাপত্যশিল্প দিয়েই সুপরিচিত হয়েছিল। তাদের সমাজব্যবস্থা বিষয়ে বিস্তর ধারণা দেবে এইসব তৈজসপত্র, প্রাণীর হাড় এবং মানবকংকাল। 

ইতোমধ্যে চিলড্রে ওয়ারেনন সাইট থেকে সবকিছু সংগ্রহ করে নিয়ে গেছেন বিজ্ঞানীদল। চলছে গবেষণা। এসব থেকে চমকপ্রদ তথ্য বের হয়ে আসবে আগামী মাস বা বছরগুলোতে। 
সূত্র: গিজমোডো

মন্তব্য