মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে চলমান সংঘাতের মধ্যে ইরানের হামলায় এখন পর্যন্ত কতজন মার্কিন সেনা হতাহত হয়েছেন, সে বিষয়ে তথ্য গোপন করার অভিযোগ উঠেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তরের বিরুদ্ধে। তবে এর জবাবে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করে হতাহত সৈন্যদের সংখ্যা প্রকাশ করেছে পেন্টাগন।
ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান বলছে, নতুন করে যুদ্ধ শুরুর পর মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ কংগ্রেসের আইন প্রণেতাদের সামনে হাজির হওয়ার আগেই হতাহতের সৈন্যদের খবর জানাল পেন্টাগন।
প্রতিবেদনে পেন্টাগনের প্রধান মুখপাত্র শন পারনেল জানান, গত ৭ জুলাই থেকে এখন পর্যন্ত ইরান যুদ্ধে ৩ সেনা নিহত, প্রায় ১০০ সেনা আহত হয়েছেন। আহত সেনাদের মধ্যে অধিকাংশই মাথায় সামান্য আঘাতজনিত সমস্যায় আক্রান্ত। তাদের ৯৬ শতাংশ ইতিমধ্যে আবারও দায়িত্বে ফিরে গেছেন।
গত সপ্তাহে জর্ডান ও ইরাকে দায়িত্ব পালনকালে ওই তিন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোর বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় ইরানের পাল্টা হামলা চালানোর কথাও জানিয়েছে পেন্টাগন।
ইরানি হামলায় সেনা হতাহতের তথ্য গোপন করার অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, ‘পেন্টাগন কোনো তথ্য আড়াল করেনি।’
এদিকে ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানায়, তারা বাহরাইন ও কুয়েতে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনা, বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং একটি রাডার স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।
এ ছাড়া হরমুজ প্রণালিতে একটি তেলবাহী জাহাজ অজ্ঞাত একটি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরে ওই জাহাজ থেকে নাবিকেরা সেটি ত্যাগ করে লাইফবোটে আশ্রয় নেন।
এদিকে কুয়েত, বাহরাইন ও জর্ডান জানিয়েছে, তারা হামলা প্রতিহত করতে নিজেদের প্রতিরক্ষাব্যবস্থা সক্রিয় করেছে।
এদিকে, যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও) জানিয়েছে, ওমান উপকূলের কাছে একটি তেলবাহী জাহাজ অজ্ঞাত একটি প্রজেক্টাইলের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার একাধিক প্রতিবেদন তারা পেয়েছে। জাহাজটির ক্রুরা নিরাপদে লাইফবোটে আশ্রয় নিয়েছেন এবং এখন পর্যন্ত কোনো পরিবেশগত ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।