• ই-পেপার

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগ

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা

যুক্তরাষ্ট্র ও উপসাগরীয় দেশগুলোকে ইরানের কঠোর হুঁশিয়ারি

অনলাইন ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্র ও উপসাগরীয় দেশগুলোকে ইরানের কঠোর হুঁশিয়ারি
ছবি : রয়টার্স

মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে বড় ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে এই যৌথ অভিযান চালায় ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। সম্প্রতি ইরানি ভূখণ্ডে মার্কিন হামলার জবাবে রবিবার (২৮ জুন) ভোরে তারা এই পাল্টা আঘাত হানে। আইআরজিসি-র নৌবাহিনী এক কঠোর বিবৃতিতে জানিয়েছে, মার্কিন হামলা হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণ দুর্বল করতে পারবে না। তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, আগামী দিনগুলোতে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো নরকীয় পরিস্থিতির সম্মুখীন হবে। এ ছাড়া ওয়াশিংটনের যেকোনো আগ্রাসনের জবাব দেওয়া হবে বলেও তারা ঘোষণা করেছে

এই ঘটনার পর দুই সপ্তাহের মাথায় দুই দেশের মধ্যকার ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি চুক্তিটি সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে তেহরানকে সতর্ক করেছেন যে, নতুন করে সংঘাত বাড়লে ইরানের অস্তিত্ব চিরতরে বিলুপ্ত হয়ে যেতে পারে। ইরানের আইআরজিসি জানিয়েছে, শনিবার (২৭ জুন) হরমুজ প্রণালির কাছে সিরিক দ্বীপে তাদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন মজুতকেন্দ্র এবং রাডার সাইটে মার্কিন হামলার প্রতিশোধ হিসেবেই তারা এই পদক্ষেপ নিয়েছে। অন্যদিকে ওয়াশিংটনের দাবি, হরমুজ প্রণালিতে ২০ লাখ ব্যারেল তেলবাহী একটি বাণিজ্যিক ট্যাঙ্কারে ইরানের ড্রোন হামলার জবাবেই তারা এই সামরিক অ্যাকশন নিয়েছিল। কুয়েতের সেনাবাহিনী নিশ্চিত করেছে যে, তাদের আকাশসীমায় প্রবেশ করা ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রগুলো তাদের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সফলভাবে প্রতিহত করছে। তবে মার্কিন ঘাঁটির ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের পরিমাণ এখনো নিশ্চিত করা হয়নি।

ডোনাল্ড ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ এক পোস্টে লেখেন, ‘যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘনের দায়ে মার্কিন বিমানগুলো আবারও ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সাইটগুলোতে হামলা চালিয়েছে। এমন একটা সময় আসতে পারে যখন আমরা আর যুক্তিসঙ্গত থাকতে পারব না এবং সামরিকভাবে কাজটি পুরোপুরি শেষ করতে বাধ্য হব। আর তেমনটা হলে, ইরানের ইসলামী প্রজাতন্ত্রের আর কোনো অস্তিত্ব থাকবে না!’ বিশ্লেষকদের মতে, দুই দেশের এই ধারাবাহিক পাল্টাপাল্টি হামলা মধ্যপ্রাচ্যকে এক দীর্ঘস্থায়ী ও ভয়াবহ যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

সোশ্যাল মিডিয়া নিষেধাজ্ঞা অমান্যে প্রযুক্তি সংস্থার জরিমানা দ্বিগুণ করছে অস্ট্রেলিয়া

অনলাইন ডেস্ক
সোশ্যাল মিডিয়া নিষেধাজ্ঞা অমান্যে প্রযুক্তি সংস্থার জরিমানা দ্বিগুণ করছে অস্ট্রেলিয়া
ছবি : রয়টার্স

কিশোর-কিশোরীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে ব্যর্থ হলে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর জরিমানা দ্বিগুণ করার ঘোষণা দিয়েছে অস্ট্রেলিয়া সরকার। কঠোর নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও শিশুরা সহজেই তা ফাঁকি দিয়ে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করছ—এমন প্রমাণ আসার পর শনিবার (২৭ জুন) এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।

নতুন এই নিয়ম অনুযায়ী, নিষেধাজ্ঞা মানতে ব্যর্থ হলে সর্বোচ্চ জরিমানা ৪৯.৫ মিলিয়ন অস্ট্রেলিয়ান ডলার থেকে বাড়িয়ে ৯৯ মিলিয়ন অস্ট্রেলিয়ান ডলার (প্রায় ৬৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার) করা হচ্ছে। অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি অ্যালবানিজ এক বিবৃতিতে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, বড় প্রযুক্তি সংস্থাগুলো আইনটি মেনে চলার জন্য যথেষ্ট পদক্ষেপ নিচ্ছে না।

দেশটির ইন্টারনেট নিয়ন্ত্রক সংস্থা ‘ই-সেফটি কমিশনার’ মেটা-র ইনস্টাগ্রাম ও ফেসবুক, গুগলের ইউটিউব, স্ন্যাপচ্যাট ও টিকটক—এই পাঁচটি বড় প্ল্যাটফর্মের নিয়ম লঙ্ঘনের বিষয়টি সক্রিয়ভাবে তদন্ত করছে। সংস্থাগুলোর নজরদারি এবং তথ্য সংগ্রহের ক্ষমতা আরো জোরদার করছে সরকার, যেন তারা নির্দিষ্ট বয়সের নিচের শিশুদের অ্যাকাউন্ট খোলা বন্ধে কী ব্যবস্থা নিয়েছে তার প্রমাণ দিতে বাধ্য থাকে।

অস্ট্রেলিয়ায় এই নিষেধাজ্ঞা চালুর পর থেকে এ পর্যন্ত ১৬ বছরের কম বয়সীদের ৫০ লাখেরও বেশি অ্যাকাউন্ট নিষ্ক্রিয় বা সীমিত করা হয়েছে। তবে বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, প্রযুক্তি সংস্থাগুলোর তৈরি করা বয়স যাচাইয়ের সাধারণ ব্যবস্থাগুলো (যেমন : সেলফি তোলা) শিশুরা সহজেই ফাঁকি দিচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে শিশুদের বয়স প্রমাণ করতেও বলা হচ্ছে না। সিডনির সাধারণ নাগরিক ও অভিভাবকরাও সন্দেহ প্রকাশ করে বলছেন, কঠোর শাস্তি দিয়েও লাভ নাও হতে পারে, কারণ এই প্ল্যাটফর্মগুলো ব্যবহারকারীদের মাধ্যমেই প্রচুর অর্থ উপার্জন করে।

তরুণদের মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যের ওপর সোশ্যাল মিডিয়ার ক্ষতিকর প্রভাব কমাতে অস্ট্রেলিয়ার নেওয়া এই পদক্ষেপ বিশ্বজুড়ে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। ব্রিটেনও গেম ও লাইভ-স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মসহ আরো কঠোর বিধিনিষেধ আরোপের পরিকল্পনা করছে। এদিকে, মেসেজ বোর্ড ওয়েবসাইট ‘রেডিট’ বাকস্বাধীনতার যুক্তি দেখিয়ে এই নিষেধাজ্ঞা বাতিলের জন্য অস্ট্রেলিয়ার সর্বোচ্চ আদালতে মামলা করেছে। তবে সরকার জানিয়েছে, তারা আদালতে এই মামলার বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নেবে।

মোদি ও ট্রাম্পের নেতৃত্বের ধরণে দারুণ মিল, আগামী বছরের শুরুতে ভারত সফরে আসছেন ট্রাম্প

অনলাইন ডেস্ক
মোদি ও ট্রাম্পের নেতৃত্বের ধরণে দারুণ মিল, আগামী বছরের শুরুতে ভারত সফরে আসছেন ট্রাম্প
সংগৃহীত ছবি

রাশিয়া থেকে ভারতের তেল কেনা, প্রতিক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চ শুল্ক আরোপ, যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ওমান উপকূলে তিন ভারতীয় নাবিকের মৃত্যু ইত্যাদি নানা ইস্যুতে ভারতের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কে টানাপড়েন সৃষ্টি হয়েছিল। তবে সম্প্রতি ফ্রান্সে জি-৭ সম্মেলনের ফাঁকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বৈঠক দুই দেশের সম্পর্কে উষ্ণতা এনেছে। ভারত-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক স্বাভাবিক ছন্দে ফেরাতে পর্দার আড়ালে দারুণ ভূমিকা রেখেছেন ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোর। ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত সার্জিও গোর অবশ্য দুই দেশের সম্পর্কে কোনো ধরনের টানাপড়েনের কথা অস্বীকার করেছেন। 

শনিবার প্রকাশিত এক সাক্ষাতকারে সার্জিও গোর বলেন, নেতৃত্বের ধরন এবং চিন্তাভাবনার দিক থেকে নরেন্দ্র মোদি এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে দারুণ মিল রয়েছে। তারা দুজনেই স্রেফ ভাবেন না, হাতে-কলমে মাঠপর্যায়ে কাজ করে সুনির্দিষ্ট ফলাফল এনে দিতে ভালবাসেন। তিনি উল্লেখ করেন, ’আমি মনে করি এটিই তাদের সম্পর্কের অন্যতম প্রধান ভিত্তি— তারা একইভাবে চিন্তা করেন। তারা কাজের ফলাফল দিতে চান।’ 

ট্রাম্প এবং মোদির ব্যক্তিগত সম্পর্কও ভারত-যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের অন্যতম ভিত্তি বলে উল্লেখ করেন সার্জিও গোর। তিনি বলেন, ‘দুই নেতার মধ্যকার নিয়মিত যোগাযোগ সম্পর্ককে ইতিবাচক রাখতে সাহায্য করেছে।’ ভারতের প্রতি ট্রাম্পের দৃষ্টিভঙ্গি কেমন, জানতে চালে গোর বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রধানমন্ত্রী মোদি এবং ভারত উভয়কেই অত্যন্ত উচ্চ মর্যাদায় দেখেন। তিনি বলেন, ’ভারতের প্রতি প্রেসিডেন্টের মনোভাব খুবই আন্তরিক। তিনি সবসময়ই প্রধানমন্ত্রীকে তার ব্যক্তিগত একজন ঘনিষ্ঠ বন্ধু হিসেবে উল্লেখ করে আসছেন।’

ট্রাম্প এখনো তার প্রথম ভারত সফরের কথা স্মরণ করেন বলে উল্লেখ করে গোর বলেন, ’তিনি (ট্রাম্প) আমাকে তার প্রথম ভারত সফরের কথা মনে করিয়ে দেন এবং সেখানে যে প্রাণচাঞ্চল্য তিনি দেখেছিলেন, তা উল্লেখ করেন। এটি এমন কিছু যা তিনি কখনোই ভুলে যাননি।’ হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে প্রেসিডেন্টের সঙ্গে দেখা করার পর গোর জানান, ’আমি এইমাত্র প্রেসিডেন্টের কাছ থেকে এলাম। প্রেসিডেন্ট যে বিষয়টি জানতে চেয়েছেন তা হলো— 'তাহলে আমি কবে আসছি?' তিনি ভারতে আসার জন্য অত্যন্ত আগ্রহী। প্রধানমন্ত্রী তাকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।’

এদিকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, আগামী বছরের  ‍শুরুতে ভারত সফর করবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ট্রাম্পের সফরের প্রস্তুতি চূড়ান্ত করতে রুবিও এ বছরের শেষের দিকে ভারত সফর করবেন। মার্কো রুবিওও যুক্তরাষ্ট্র-ভারতের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কথা উল্রেখ করে বলেন, ‘ভারত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ একজন অংশীদার ও মিত্র এবং প্রধানমন্ত্রী ও প্রেসিডেন্টের মধ্যকার সম্পর্ক এর চেয়ে বেশি ঘনিষ্ঠ হতে পারত না, যা আমি মনে করি কূটনীতির ক্ষেত্রে সত্যিই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’
 

বিবিসি-র প্রতিবেদন

মায়ের পরিচয় কেন গোপন রাখেন কিম জং উন?

অনলাইন ডেস্ক
মায়ের পরিচয় কেন গোপন রাখেন কিম জং উন?
ছবি : রয়টার্স

উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উনকে ঘিরে থাকা শত রহস্যের মধ্যে সবচেয়ে বড় গোপন বিষয়টি হলো তার মায়ের পরিচয়। গত ১৫ বছরের শাসনামলে কিম একবারও জনসমক্ষে নিজের মায়ের নাম উচ্চারণ করেননি। উত্তর কোরিয়ার কট্টর সমাজব্যবস্থায় এই পরিচয় প্রকাশ পাওয়া খোদ কিম রাজবংশের টিকে থাকার জন্যই এক বিরাট হুমকি বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা।

উত্তর কোরিয়ার একনায়কতন্ত্রের মূল ভিত্তি হলো ‘মাউন্ট প্যাকতু’ বা প্যাকতু পর্বতের পবিত্র রক্তধারা। দেশটির পৌরাণিক বিশ্বাস ও প্রচারণায় বলা হয়, এই বংশধারা সম্পূর্ণ বিশুদ্ধ। কিম জং উন কোনো বড় অর্জন ছাড়াই কেবল এই বংশপরিচয়ের কারণে তরুণ বয়সে ক্ষমতার উত্তরাধিকারী হয়েছিলেন। তবে বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। কিমের মা কো ইয়ং হুই উত্তর কোরিয়ার পবিত্র মাটির কেউ ছিলেন না। ১৯৫২ সালে তিনি জাপানের ওসাকা শহরে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা-মা ছিলেন বর্তমান দক্ষিণ কোরিয়ার জেজু দ্বীপের বাসিন্দা। ১৯১০ থেকে ১৯৪৫ সাল পর্যন্ত জাপানি ঔপনিবেশিক শাসনের সময় তারা জাপানে চলে যান এবং সেখানে ‘জাইনিচি কোরিয়ান’ (জাপানের বাসিন্দা কোরীয়) হিসেবে পরিচিত হন।

কো ইয়ং হুই-এর বয়স যখন ১০ বছর, তখন একটি পুনর্বাসন প্রকল্পের প্রলোভনে তার পরিবার উত্তর কোরিয়ায় চলে আসে। উত্তর কোরিয়ার কঠোর সামাজিক শ্রেণীবিভাগে এই ধরনের ফিরে আসা অভিবাসীদের ‘জ্যায়েপো’ বা বিদেশি মতাদর্শে কলুষিত দল হিসেবে নিচু চোখে দেখা হতো। এরা সব সময় কড়া নজরদারিতে থাকতেন এবং ভালো চাকরি বা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পেতেন না। শাসকগোষ্ঠীর নিয়ম অনুযায়ী, একজন ‘জ্যায়েপো’র সন্তান দেশের সর্বোচ্চ নেতা হওয়া সম্পূর্ণ অকল্পনীয়।

তবে নিজের রূপ ও নৃত্য দক্ষতার কারণে কো দেশটির তৎকালীন নেতা কিম জং ইলের নজর কাড়েন। কিম জং ইল তার প্রেমে পড়েন এবং তাদের ঘরে তিনটি সন্তান (যার মধ্যে কিম জং উন একজন) জন্ম নেয়। তবে উত্তর কোরিয়ায় বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক বড় সামাজিক কলঙ্ক হওয়ায় কো এবং তার সন্তানদের রাজধানী পিয়ংইয়ং থেকে দূরে ওনসান শহরে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল। কিম জং ইলের বাবা ও দেশের প্রতিষ্ঠাতা কিম ইল সুং বেঁচে থাকাকালীন কো-কে কখনোই পুত্রবধূ হিসেবে স্বীকৃতি দেননি।

২০০৪ সালে প্যারিসের একটি হাসপাতালে স্তন ক্যান্সারে মারা যান কো। তার মৃত্যুর পর এবং কিম জং ইলের অন্য উপপত্নীদের সন্তানদের নানা বিতর্কের কারণে কিম জং উনের ভাগ্য খুলে যায়। কিমের সৎ বড় ভাই কিম জং নাম বিলাসবহুল জীবন এবং সরকারবিরোধী মতামতের কারণে উত্তরাধিকার থেকে বাদ পড়েন (যিনি পরবর্তীতে ২০১৭ সালে মালয়েশিয়ায় বিষপ্রয়োগে নিহত হন)। মেজো ভাই কিম জং চুল তীব্র আফিম আসক্তির কারণে বাদ পড়েন। ফলে কিম জং উন ২০১১ সালে বাবার মৃত্যুর পর ক্ষমতার শীর্ষে বসেন।

কিম জং উন তার বোন কিম ইয়ো জং-কে ক্ষমতার বড় দায়িত্ব দিলেও, নিজের মায়ের পরিচয় আড়াল করতে সবসময় সচেষ্ট থাকেন। এমনকি তার নিজের জন্মদিনকেও জাতীয় ছুটির দিন ঘোষণা করা হয় না, কারণ তা করলে তার শৈশব ও মায়ের ইতিহাস সামনে চলে আসতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, মায়ের নিচু সামাজিক শ্রেণির ঘাটতি ঢাকতেই কিম জং উন ক্ষমতার পরপরই দ্রুত নিজের স্ত্রী রি সোল জু ও কন্যা জু এ-কে জনসমক্ষে নিয়ে আসেন, যা উত্তর কোরিয়ার ইতিহাসে বিরল। উত্তর কোরিয়ার সাবেক কূটনীতিক রিউ হিউন-উ তার এক বইয়ে লিখেছেন, ‘যদি কখনো প্রকাশ পায় যে কিমের মা জাপানে বসবাসকারী নিচু শ্রেণির কোরিয়ান ছিলেন, তবে তা দেশটির বংশানুক্রমিক শাসনব্যবস্থাকে গোড়া থেকে নাড়িয়ে দেবে। উত্তর কোরিয়ার সমাজের ওপর এর প্রভাব হবে একটি পারমাণবিক বোমার মতো।’

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগ | কালের কণ্ঠ