• ই-পেপার

প্রতারণার দায়ে বিশ্বভারতীর প্রাক্তন উপচার্যসহ দণ্ডিত ৩

বাহরাইনে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের ড্রোন হামলা, নিন্দা দেশটির

অনলাইন ডেস্ক
বাহরাইনে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের ড্রোন হামলা, নিন্দা দেশটির
ছবি : এএফপি

আবারো উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে মধ্যপ্রাচ্য। যুদ্ধবিরতি চুক্তির সময়ের মাঝেই বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানের হামলা দাবি তুলে তেহরানের বেশ কয়েকটি সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এর জবাবে বাহারাইনে একাধিখ ড্রোন হামলা চালায় ইরান। এতে হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির পরিমান জানা যায়নি।  শনিবার (২৭ জুন) ভোরে তাদের ভূখণ্ডে চালানো একাধিক ইরানি ড্রোন হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বাহরাইনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থার বরাতে আল আরাবিয়া জানিয়েছে, এই হামলাকে বাহরাইন তাদের সার্বভৌমত্ব, আঞ্চলিক অখণ্ডতা এবং আন্তর্জাতিক আইনের একটি ‌‘গুরুতর ও নগ্ন লঙ্ঘন’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। একই সাথে বাহরাইন স্পষ্ট করেছে, নিজের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা রক্ষায় দেশটির পূর্ণ আত্মরক্ষার অধিকার রয়েছে।

বাহরাইনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বেশ কয়েকটি ইরানি ড্রোন তাদের আকাশসীমা লঙ্ঘন করে দেশের ভেতরে আঘাত হানে। যা বেসামরিক নাগরিকদের জীবনকে ঝুঁকির মুখে ফেলেছে। তবে সুনির্দিষ্টভাবে কোন জায়গায় হামলা হয়েছে তা জানানো হয়নি।

মধ্যপ্রাচ্যে যখন উত্তেজনা প্রশমনের আন্তর্জাতিক চেষ্টা চলছে। ঠিক সেই মুহূর্তে এই হামলা চালানোর জন্য বাহরাইন এককভাবে তেহরানকে দায়ী করেছে। এই পদক্ষেপ চলমান আঞ্চলিক শান্তি প্রক্রিয়াকে মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত করবে বলে বাহরাইন সতর্ক করেছে।

এর আগে ইরান জানিয়েছিল, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন বাহিনীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে তেহরান। তবে কোন লক্ষ্যবস্তুগুলো হামলা চালানো হয়েছে তা নির্দিষ্ট করে জানায়নি দেশটি।

মূলত হরমুজ প্রণালীতে সিঙ্গাপুরের পতাকাবাহী একটি মালবাহী জাহাজে ইরানি ড্রোন হামলার প্রতিক্রিয়া হিসেবে মার্কিন সামরিক বাহিনী দক্ষিণ ইরানে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ও রাডার সাইটে বিমান হামলা চালায়। ইরান সেটিরই পাল্টা জবাব হিসেবে বাহরাইনে (যেখানে মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহর অবস্থিত) ড্রোন হামলা চালায়।

নিজের ছবিযুক্ত নতুন পাসপোর্ট উন্মোচন করলেন ট্রাম্প

অনলাইন ডেস্ক
নিজের ছবিযুক্ত নতুন পাসপোর্ট উন্মোচন করলেন ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার ছবি সংবলিত একটি বিশেষ স্মারক পাসপোর্টের নকশা প্রকাশ করেছেন। এর ফলে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম জীবিত প্রেসিডেন্ট, যার ছবি এমন একটি স্মারক পাসপোর্টে স্থান পেয়েছে।

বিশেষ পাসপোর্টটির এক পাশে ট্রাম্পের একটি প্রতিকৃতি ব্যবহার করা হয়েছে। তার পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রের লেখা দেখা যায়। ছবিটির নিচে কালো রঙে ট্রাম্পের স্বাক্ষরও যুক্ত করা হয়েছে। পাসপোর্টের অন্য পাশে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাতা নেতাদের একটি চিত্র রয়েছে।

তাদের নিচে বড় করে ‘২৫০’ সংখ্যা লেখা আছে, যা দেশটির স্বাধীনতার ২৫০ বছর পূর্তি উদযাপনের প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে।

ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে পাসপোর্টের একটি ছবি প্রকাশ করে লিখেছেন, ‘এটাই যুক্তরাষ্ট্রের নতুন পাসপোর্ট। যেখানে বার্তা দেওয়া হয়েছে, ‘স্বাগতম, তবে ভালো ব্যবহার করবেন।’

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ৪ জুলাই স্বাধীনতা দিবসের আগে ওয়াশিংটন পাসপোর্ট অফিসে ২৫ হাজার থেকে ৩০ হাজার নতুন পাসপোর্ট সরবরাহ করা হবে। ওয়াশিংটন অফিসে যারা পাসপোর্টের জন্য আবেদন করবেন, তারা স্বাভাবিকভাবে এই নতুন সংস্করণের পাসপোর্ট পাবেন। তবে অনলাইনে বা দেশের অন্য অঞ্চল থেকে আবেদনকারীরা চাইলে সাধারণ পাসপোর্টও নিতে পারবেন।

এই পাসপোর্টে ট্রাম্পের ছবি তার প্রেসিডেন্টের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও বহু বছর ব্যবহৃত হতে পারে। কারণ মার্কিন পাসপোর্ট সাধারণত ১০ বছর পর্যন্ত বৈধ থাকে। বর্তমান মার্কিন পাসপোর্টে শুধু মাউন্ট রাশমোর স্মৃতিস্তম্ভের ছবির মাধ্যমে সাবেক চার প্রেসিডেন্ট, জর্জ ওয়াশিংটন, টমাস জেফারসন, থিওডোর রুজভেল্ট ও আব্রাহাম লিংকনের প্রতিকৃতি রয়েছে।

সরকারি বিভিন্ন প্রকল্প ও প্রতিষ্ঠানে ট্রাম্পের নাম ও ছবি যুক্ত করার ধারাবাহিকতায় এবার স্মারক পাসপোর্টেও তার প্রতিকৃতি ও স্বাক্ষর ব্যবহার করা হয়েছে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের ইউএস ইনস্টিটিউট অব পিস এবং জন এফ কেনেডি সেন্টার ফর দ্য পারফর্মিং আর্টসের সঙ্গেও ট্রাম্পের নাম যুক্ত করা হয়। তবে একটি ফেডারেল আদালত পরে কেনেডি সেন্টার থেকে তার নাম সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেয়।

এ ছাড়া শিশুদের জন্য ‘ট্রাম্প অ্যাকাউন্ট’ নামে একটি সঞ্চয় কর্মসূচি, প্রেসক্রিপশন ওষুধসংক্রান্ত সরকারি ওয়েবসাইট ‘ট্রাম্পআরএক্স’ এবং অভিবাসীদের জন্য ‘ট্রাম্প ভিসা কার্ড’ কর্মসূচিতেও তার নাম ব্যবহার করা হয়েছে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর নতুন একটি যুদ্ধজাহাজ বহরের নামও ‘ট্রাম্প ক্লাস’ রাখার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

জর্জিয়ার পার্লামেন্টে সরকারি ও বিরোধী দলের মধ্যে হাতাহাতি

অনলাইন ডেস্ক
জর্জিয়ার পার্লামেন্টে সরকারি ও বিরোধী দলের মধ্যে হাতাহাতি
ছবি : সংগৃহীত

জর্জিয়ার সংসদে তুমুল হট্টগোল ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। গতকাল শুক্রবার ( ২৬ জুন) বসন্তকালীন অধিবেশনের শেষ বৈঠকে ক্ষমতাসীন জর্জিয়ান ড্রিম পার্টি ও বিরোধী দল ফর জর্জিয়ার সংসদ সদস্যদের মধ্যে এই সংঘর্ষ হয়। ওই বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী ইরাকলি কোবাখিদজে তার বার্ষিক প্রতিবেদন উপস্থাপন করছিলেন।

নির্বাসিত সাবেক প্রধানমন্ত্রী জর্জি গাখারিয়ার নেতৃত্বাধীন বিরোধী দল ‘ফর জর্জিয়া’-এর সংসদ সদস্য জর্জি শারাশিদজে প্রশ্নোত্তর পর্বে আজারবাইজানের প্রেসিডেন্ট ইলহাম আলিয়েভের সাম্প্রতিক জর্জিয়া সফর নিয়ে প্রধানমন্ত্রী ইরাকলি কোবাখিদজের ভূমিকার সমালোচনা করেন। তার এই মন্তব্যের পর সংসদ কক্ষে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং একপর্যায়ে ক্ষমতাসীন ও বিরোধী দলের সদস্যদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।

পরে পরিস্থিতি হাতাহাতিতে রূপ নেয় এবং কয়েক মিনিট ধরে ধাক্কাধাক্কি ও বাকবিতণ্ডা চলতে থাকে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে সংসদের নিরাপত্তা কর্মীরা বিরোধী দলের কয়েকজন সদস্যকে অধিবেশন কক্ষ থেকে বের করে দেন।

ভিডিওগুলোতে দেখা যায়, প্রথমে দুই এমপির মধ্যে মারামারি শুরু হয়। জানা গেছে, তারা হলেন জর্জিয়ান ড্রিমের ইরাকলি খেলাদজে এবং ফর জর্জিয়ার গিগা পারুলাভা। এরপর এতে আরো পুরুষ ও নারী আইনপ্রণেতারা জড়িয়ে পড়েন।

হাতাহাতি-মারামারি যখন চলছিল, তখন কোবাখিডজে এবং তার মন্ত্রিসভার সদস্যদের দূর থেকে নিজেদের চেয়ারে বসে তা পর্যবেক্ষণ করতে দেখা যায়।

প্রশ্নোত্তর পর্বের সময় পোডিয়াম থেকে দেওয়া বক্তব্যে ফর জর্জিয়ার জর্জি শারাশিডজে আলিয়েভের এপ্রিল সফর এবং জর্জিয়ান ড্রিমের প্রতিষ্ঠাতা ও অনারারি চেয়ারম্যান বিদজিনা ইভানিশভিলির সঙ্গে তার বৈঠকের কথা উল্লেখ করেন। 

প্রশ্নোত্তর পর্বে বক্তব্য দিতে গিয়ে বিরোধী দলের সংসদ সদস্য জর্জি শারাশিদজে প্রধানমন্ত্রী ইরাকলি কোবাখিদজের সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, আজারবাইজানের প্রেসিডেন্ট ইলহাম আলিয়েভের জর্জিয়া সফরের সময় প্রকাশিত ছবিগুলোতেই সরকারের ভেতরে কোবাখিদজের প্রকৃত অবস্থান স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

শারাশিদজের ভাষায়, ‘প্রেসিডেন্ট আলিয়েভ যখন জর্জিয়ায় ছিলেন, তখন পুরো দেশ সেই ছবিগুলো দেখেছে। সেখানে আপনি এক পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন, যা এই সরকারের মধ্যে আপনার প্রকৃত ভূমিকা ও অবস্থানকে তুলে ধরে।’ তার এই মন্তব্যের পর সংসদ কক্ষে হট্টগোল শুরু হয়। তিনি আরো বলেন, ‘জর্জিয়ায় অনেক প্রধানমন্ত্রী এসেছেন, কিন্তু এমন দৃশ্য আগে কখনও দেখা যায়নি।’

এরপর তিনি ক্ষমতাসীন দলের সংসদ সদস্যদের উদ্দেশে বলেন, ‘আপনাদের নির্লজ্জতা ও অভদ্রতা অন্য কোথাও নিয়ে যান।’ শারাশিদজের বক্তব্যের পর ক্ষমতাসীন দলের সংসদ সদস্যরা উচ্চস্বরে প্রতিবাদ জানাতে শুরু করেন। এতে সংসদ কক্ষের পরিবেশ দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

একপর্যায়ে শারাশিদজে মঞ্চ থেকে নামার সময় ক্ষমতাসীন ও বিরোধী দলের সদস্যদের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা শুরু হয়, যা পরে হাতাহাতিতে রূপ নেয়। কয়েক মিনিট ধরে উভয় পক্ষের সদস্যদের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি ও সংঘর্ষ চলতে থাকে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে সংসদের নিরাপত্তা কর্মীরা হস্তক্ষেপ করেন। এ সময় সরাসরি সম্প্রচার সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হয়।

প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, সংঘর্ষে জড়িতদের মধ্যে ক্ষমতাসীন জর্জিয়ান ড্রিম দলের কয়েকজন সংসদ সদস্যও ছিলেন। তাদের মধ্যে লাশা তালাখাদজেকে স্পষ্টভাবে দেখা যায়। তিনি ভারোত্তোলনে তিনবারের অলিম্পিক স্বর্ণজয়ী হিসেবে পরিচিত। এ ছাড়া সংসদের আইনি বিষয়ক কমিটির চেয়ারম্যান আর্চিল গোরদুলাদজেকেও সংঘর্ষে জড়িত থাকতে দেখা যায়।

হাতাহাতির ঘটনার পর পরিস্থিতি সামাল দিতে সংসদ ভবনে জরুরি চিকিৎসা সেবা দলকে ডাকা হয়। পরে চিকিৎসাকর্মীদের ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকতে দেখা যায়।

মার্কিন হামলার কড়া নিন্দা, সমঝোতা ভঙ্গের অভিযোগ ইরানের

অনলাইন ডেস্ক
মার্কিন হামলার কড়া নিন্দা, সমঝোতা ভঙ্গের অভিযোগ ইরানের
সংগৃহীত ছবি

সমঝোতা স্মারক সইয়ের মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যে আবারও একে অপরের ওপর হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। দুই দেশের মধ্যে পরবর্তী দফার বৈঠক হওয়ার কয়েক দিন আগে এই পাল্টাপাল্টি হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালির কাছে একটি বাণিজ্যিক পণ্যবাহী জাহাজে ড্রোন হামলার জবাব হিসেবে তারা ইরানের কয়েকটি সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ওই জাহাজে হামলার জন্য সরাসরি ইরানকে দায়ী করেন। অন্যদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালির কাছে সিরিক শহরের একটি জেটির পাশে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। পাশাপাশি কেশম দ্বীপেও হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করেছে তেহরান। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে তারা ওই অঞ্চলে অবস্থানরত মার্কিন বাহিনীর লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো মার্কিন স্থাপনায় ক্ষয়ক্ষতির তথ্য পাওয়া যায়নি।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সংরক্ষণাগার এবং উপকূলীয় রাডার কেন্দ্রগুলোতে হামলা চালানো হয়েছে। তাদের দাবি, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার জবাব দিতেই এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। হামলার কয়েক ঘণ্টা পর মার্কিন সেনাবাহিনী অভিযানের ভিডিও প্রকাশ করে। এদিকে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেন, সহিংসতার জবাব সহিংসতার মাধ্যমেই দেওয়া হবে। ইরানে হামলার পর তিনি এই মন্তব্য করেন। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর একই দিনে লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া একটি কাঠামোগত চুক্তির পূর্ণ বিবরণ প্রকাশ করেছে। এতে বলা হয়েছে, হিজবুল্লাহর মতো রাষ্ট্রের বাইরে থাকা সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো নিরস্ত্র হওয়ার পর ধাপে ধাপে লেবানন থেকে সেনা সরিয়ে নেবে ইসরায়েল।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যুক্তরাষ্ট্রের হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। তাদের দাবি, উপকূলীয় নজরদারি স্থাপনায় হামলা করে যুক্তরাষ্ট্র দুই দেশের মধ্যে হওয়া সমঝোতা স্মারকের প্রথম ধারা লঙ্ঘন করেছে। আইআরজিসি এক বিবৃতিতে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের এই হামলার জবাবে তারা ওই অঞ্চলে মার্কিন সেনাদের অবস্থান লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। সংস্থাটি আরো দাবি করেছে, সমঝোতা অনুযায়ী হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোর নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব ইরানের হাতে রয়েছে। বিশ্বের তেল ও গ্যাস পরিবহনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জলপথগুলোর একটি হলো হরমুজ প্রণালি। ইরানের সংসদের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি কমিশনের প্রধান ইব্রাহিম আজিজি অভিযোগ করেন, আলোচনা চলার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালিয়ে প্রমাণ করেছে যে তারা কূটনীতি ও যুদ্ধবিরতির বিষয়ে আন্তরিক নয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র আবারও আলোচনার মধ্যেই ইরানে হামলা চালিয়েছে। এদিকে হরমোজগান প্রদেশের বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হামলার পরও সিরিক বন্দরে উল্লেখযোগ্য কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক অলাভজনক সংগঠন ন্যাশনাল ইরানিয়ান আমেরিকান কাউন্সিল (এনআইএসি) এই সংঘাত নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সংগঠনটির মতে, দুই দেশ যখন কূটনৈতিক আলোচনায় ফিরেছে, তখন মতপার্থক্য সমাধানে সামরিক হামলার পরিবর্তে আলোচনার পথই অনুসরণ করা উচিত।
 
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইসরায়েল ও লেবানন একটি কাঠামোগত চুক্তিতে সই করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, এই চুক্তির মাধ্যমে দীর্ঘদিনের সংঘাতের অবসানের পথ তৈরি হবে। তবে ইরান-সমর্থিত সংগঠন হিজবুল্লাহ চুক্তিটি প্রত্যাখ্যান করেছে। সংগঠনটির দাবি, এই চুক্তি শুধু ইসরায়েলের স্বার্থ রক্ষা করবে। লেবাননের রাজধানী বৈরুতেও চুক্তির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ হয়েছে। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, চুক্তিতে দক্ষিণ লেবানন থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের বিষয়ে স্পষ্ট কোনো প্রতিশ্রুতি নেই। এদিকে লেবাননের জাতীয় বার্তা সংস্থা জানিয়েছে, শনিবার রাতে সীমান্তবর্তী মারকাবা শহরের কাছে ইসরায়েলি বাহিনী নতুন করে বোমা হামলা চালিয়েছে।

হরমুজ প্রণালির কাছে একটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনায় শুক্রবার ট্রাম্প বলেন, এই হামলা দুই দেশের মধ্যে হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তির স্পষ্ট লঙ্ঘন। তার ভাষায়, এটি ছিল একটি ‘বোকামিপূর্ণ’ পদক্ষেপ। ট্রাম্পের বক্তব্যের জবাবে ইরানের সংসদের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি কমিশনের প্রধান ইব্রাহিম আজিজি বলেন, হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ইরানের হাতে রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানান, এই পথে চলাচলকারী সব জাহাজকে নির্ধারিত নিয়ম মেনে চলতে হবে এবং নিরাপদ পথ ব্যবহার করতে হবে। এদিকে জাতিসংঘ হরমুজ প্রণালিকে সব সময় আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত রাখার আহ্বান জানিয়েছে। সংস্থাটির মুখপাত্র স্টিফেন দুজারিক নিউ ইয়র্কে সাংবাদিকদের বলেন, যেকোনো চুক্তিতে দেওয়া প্রতিশ্রুতি সব পক্ষেরই মেনে চলা জরুরি। এতে উত্তেজনা কমবে এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যও স্বাভাবিক থাকবে। এদিকে তেহরান থেকে আলজাজিরার সাংবাদিক রেসুল সারদার আতাস জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা কমাতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি বিশেষ যোগাযোগব্যবস্থা চালুর বিষয়ে আলোচনা হয়েছিল। তবে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) জানিয়েছে, এমন কোনো ব্যবস্থা বর্তমানে নেই। ভবিষ্যতেও এটি চালুর পরিকল্পনা নেই বলেও তারা জানিয়েছে।

আতাস আরো বলেন, ইরান হরমুজ প্রণালিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় নিজেদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত হাতিয়ার হিসেবে বিবেচনা করে। তার মতে, এই প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখা তেহরানের জন্য শুধু নিরাপত্তার বিষয় নয়, বরং আন্তর্জাতিক আলোচনায় চাপ সৃষ্টি করার অন্যতম প্রধান উপায়ও। তাই হরমুজ প্রণালির ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখাকে ইরান কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মনে করে।
 

প্রতারণার দায়ে বিশ্বভারতীর প্রাক্তন উপচার্যসহ দণ্ডিত ৩ | কালের কণ্ঠ