kalerkantho


কাশ্মীরে সন্ত্রাসী হামলা, নিহত ৩৪ ভারতীয় সেনা

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ২২:৫৯



কাশ্মীরে সন্ত্রাসী হামলা, নিহত ৩৪ ভারতীয় সেনা

ভারত শাসিত কাশ্মীরে এক জঙ্গী হানায় দেশটির কেন্দ্রীয় সামরিক বাহিনী সেন্ট্রাল রিজার্ভড পুলিশ ফোর্স (সিআরপিএফ) এর অন্তত ৩৪ জন সদস্য নিহত হয়েছেন।

মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। এতে গুরুতর আহত হয়েছেন আরো অন্তত ৫০ জন।

বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলওয়ামা জেলার অবন্তীপুরায় এই হামলা হয়। ৭০টি ট্রাক আর বাসে করে আধাসামরিক বাহিনী সিআরপিএফের প্রায় আড়াই হাজার সদস্য জম্মু থেকে শ্রীনগরে যাওয়ার সময় যানবহরটির ওপর হামলা চালায় সন্দেহভাজন জঙ্গীরা।

পাকিস্তান-ভিত্তিক নিষিদ্ধ জঙ্গী সংগঠন জৈশ-এ মোহাম্মদ এই হামলার দায় স্বীকার করেছে।

পুলিশ আর সিআরপিএফ কর্তৃপক্ষ জানাচ্ছেন, এটা ছিল একটা আত্মঘাতী হামলা এবং হামলাকারীর নাম আদিল আহমেদ। তিনি পুলওয়ামা জেলারই বাসিন্দা এবং গত বছর জঙ্গী সংগঠন জৈশ এ মোহাম্মদে যোগ দিয়েছিলেন - বলছে পুলিশ।

প্রাচীন শহর অবন্তীপুরার কাছে লেথপোড়া নামের একটি জায়গায় এই হামলা হয়।

সিআরপিএফের আই জি অপারেশন জুলফিকার হাসান জানিয়েছেন, প্রায় ২৫০০ সদস্য ৭০টি ট্রাক আর বাসে করে জম্মু থেকে শ্রীনগরের দিকে যাচ্ছিলেন।

লেথপোড়ার কাছে একটি বিস্ফোরক বোঝাই এসইউভি কনভয়ে ঢুকে পড়ে বিস্ফোরণ ঘটায় ৫৪ নম্বর ব্যাটালিয়নের একটি গাড়িতে, আর তার সঙ্গে সঙ্গেই আশপাশ থেকে জঙ্গীরা বেরিয়ে এসে বৃষ্টির মতো গুলি চালাতে শুরু করে।

ঘটনার যে ছবি পাওয়া যাচ্ছে, তা দেখে বিশ্লেষকরা বলছেন সম্ভবত শুধু গুলি নয়, রকেটচালিত গ্রেনেড বা আরপিজিও ব্যবহার করা হয়ে থাকতে পারে।

কারণ যে আকারের গর্ত দেখা যাচ্ছে, তা সাধারণ গুলির চিহ্ন নয়।

একটি বাস সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়ে গেছে, আর কনভয়ে থাকা অন্য গাড়িগুলিতে গুলি লেগেছে।

ঘটনাস্থলে পৌঁছনো সাংবাদিকরা বলছেন, অনেকটা এলাকা জুড়ে যেন যুদ্ধক্ষেত্রের মতো চেহারা।

চারদিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে দেহাবশেষ, সিআরপিএফ সদস্যদের ব্যাগ ও অন্যান্য সামগ্রী, বিধ্বস্ত সেনা ট্রাকগুলি রাস্তায় দাঁড়িয়ে রয়েছে।

জম্মু শ্রীনগর হাইওয়ে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। হামলাকারীদের খোঁজে এলাকায় চিরুণি তল্লাশি চলছে।

আট-দশদিন আগেই একটা সাধারণ সতর্ক বার্তা জারী করা হয়েছিল যে এধরণের একটা হামলা হতে পারে, তবুও যে সতর্ক হন নি আধা সামরিক বাহিনীর সদস্যরা, সেটা অনেক নিরাপত্তা বিশ্লেষকই বলছেন।

আর গোয়েন্দারাই বা কেন নির্দিষ্টভাবে সতর্ক করতে পারেন নি, সেই প্রশ্নও উঠছে, বিশেষ করে যখন এর আগেও কাশ্মীরের উরিতে সেনাছাউনিতে হামলা হয়েছে, তারও আগে পাঠানকোটের একটি ছাউনিতে হামলা হয়েছে।

যেভাবে হামলা হয়েছে, সেটা নির্দিষ্ট পরিকল্পনা করেই চালানো হয়েছে, সেটাও পরিষ্কার।

জঙ্গীদের কাছে সিআরপিএফ বাহিনীর চলাচলের যে নির্দিষ্ট তথ্য ছিল, সেটাও বোঝা যাচ্ছে। সেই তথ্য জঙ্গীদের হাতে কী করে গেল, সেটাও একটা প্রশ্ন।

২০১৮ সালে অন্তত ২৫০ জঙ্গী নিহত হয়েছে কাশ্মীরে আর এবছরে এখনও পর্যন্ত ২০ জন জঙ্গী মারা গেছে। তাই জঙ্গী সংগঠনগুলি যে এরকম একটা প্রত্যাঘাত হানবে, এরকম আশঙ্কা ছিলই।

বিজেপি, কংগ্রেস, ন্যাশনাল কনফারেন্স, পিডিপি থেকে শুরু করে সব রাজনৈতিক দলই এই হামলাকে কাপুরুষোচিত বলে বর্ণনা করেছেন।



মন্তব্য