• ই-পেপার

ইরানে আত্মঘাতী বোমায় ২৭ সেনা নিহত

খামেনির বিদায় অনুষ্ঠানে কান্নায় ভেঙে পড়লেন ইরানের স্পিকার ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক
খামেনির বিদায় অনুষ্ঠানে কান্নায় ভেঙে পড়লেন ইরানের স্পিকার ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী
সংগৃহীত ছবি

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় নিহত ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শেষ বিদায় অনুষ্ঠান ঘিরে তেহরানে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। শুক্রবার (৩ জুলাই) তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লায় আয়োজিত শোকানুষ্ঠানে ইরানের সংসদ স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবফ ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি আবেগে আপ্লুত হয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন

কয়েক দিনব্যাপী চলা এই বিদায় অনুষ্ঠানে প্রায় ১৫ থেকে ২০ মিলিয়ন (দেড় থেকে দুই কোটি) মানুষের সমাগম ঘটবে বলে ধারণা করছে দেশটির প্রশাসন তেহরানের গভর্নর মোহাম্মদ সাদেক মোতামাদিয়ান জানিয়েছেন, শহীদ নেতার বিদায় ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠান সফল করতে সর্বোচ্চ স্তরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। রবিবার (৫ জুলাই)
সকাল ৬টায় তেহরানের প্রার্থনা ময়দানের (মোসাল্লা) ফটক জনসাধারণের জন্য খুলে দেওয়া হবে। তবে পরিস্থিতি বিবেচনায় এর আগেও দরজা খোলা হতে পারে। লোকজনকে সময় মেনে প্রার্থনা স্থলে আসার জন্য বলা হয়েছে।

খামেনির মৃত্যুর পর এটিই ইরানে আয়োজিত অন্যতম বৃহত্তম আন্তর্জাতিক সমাবেশ। এই অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শীর্ষ কর্মকর্তা, রাষ্ট্রপ্রধান ও প্রতিনিধিদল। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ইরানের রাষ্ট্রপতি মাসুদ পেজেশকিয়ান, বিচার বিভাগের প্রধান গোলাম-হোসেন মোহসেনি এজেই এবং এক্সপেডিয়েন্সি কাউন্সিলের চেয়ারম্যান আয়াতুল্লাহ সাদেক আমোলি লারিজানি। এ ছাড়া রাশিয়ার নিরাপত্তা পরিষদের ডেপুটি চেয়ারম্যান দিমিত্রি মেদভেদেভ, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ ও সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনির, ইরাকের রাষ্ট্রপতি নিজার আমেদি, আর্মেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী নিকোল পাশিনিয়ান এবং তাজিকিস্তানের রাষ্ট্রপতি ইমোমালি রাহমনসহ আরো অনেকে উপস্থিত ছিলেন। 

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানিয়েছেন, বিশ্বের প্রায় ১০০টি দেশ থেকে সরকারি প্রতিনিধিদল ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা এই অনুষ্ঠানে যোগ দিচ্ছেন। তবে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক আগ্রাসনকে সমর্থন করা ইউরোপীয় দেশগুলোকে এই অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি।

ইরানের দুই নেতাকে হত্যার ষড়যন্ত্র ইসরায়েলের, রক্ষা করল যুক্তরাষ্ট্র

অনলাইন ডেস্ক
ইরানের দুই নেতাকে হত্যার ষড়যন্ত্র ইসরায়েলের, রক্ষা করল যুক্তরাষ্ট্র

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েলের উসকানিতে ইরানে হামলায় সামিল হয় যুক্তরাষ্ট্র। পরে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের সঙ্কট, অর্থনৈতিক মন্দার আশঙ্কা, অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ও জনমতের চাপে যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসতে মরিয়া চেষ্টা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। যুদ্ধের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের লক্ষ্য অভিন্ন থাকলেও যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ বন্ধের চেষ্টা চালালে বিপাকে পড়ে ইসরায়েল। তারা বরাবরই যুদ্ধ চালিয়ে যেতে মরিয়া ছিল। তাই যুদ্ধ বন্ধের যেকোনো চেষ্টা ভণ্ডুল করতে তাদের চেষ্টার কমতি ছিল না। এমনকি যুদ্ধ বন্ধে গত ১৭ জুন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পরও ইসরায়েল লেবাননে হামলা চালিয়ে শান্তি প্রচেষ্টা নস্যাতের চেষ্টা করে। 

গত এপ্রিলে শান্তি আলোচনার শুরুর দিকেও ইরানের দুই শীর্ষ নেতাকে হত্যার ষড়যন্ত্র করছিল ইসরায়েল। এ ষড়যন্ত্রের খবর গোপনে ইরানকে জানিয়ে দেয় যুক্তরাষ্ট্র এবং হত্যার তালিকা থেকে দুই নেতার নাম বাদ দিতে ইসরায়েলকে বাধ্য করে।

যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যেতে শুরু থেকেই সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এবং পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্ততায় সব ধরনের শান্তি আলোচনায় সক্রিয় ও ইতিবাচক অংশগ্রহণ ছিল এ দুই নেতার। তাই ইসরাইল এ দুই নেতাকে হত্যার মাধ্যমে শান্তি আলোচনা নস্যাতের মরিয়া চেষ্টা চালায়। মার্কিন প্রশাসনের বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে নিউইয়র্ক টাইমস এ খবর প্রকাশ করে। 

যুদ্ধের শুরু থেকেই ইসরায়েলের মূল লক্ষ্য ছিল ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বকে হত্যা করে সরকার পরিবর্তন ঘটানো। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধের শুরুতেই প্রাণ হারান ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। পরে বিভিন্ন সময়ে ইসরায়েলের হামলায় মারা যান ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ক শীর্ষ কর্মকর্তা আলি লারিজানি এবং সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী কামাল খারাজি। তারা দুজনেই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় যুক্ত ছিলেন।

ইসরায়েল আরাঘচি এবং গালিবাফকে হত্যার ষড়যন্ত্র করছে, এ খবর পেয়ে শঙ্কিত হয় মার্কিন প্রশাসন। তাদের ধারণা ছিল, এ দুজন মারা গেলে শান্তি আলোচনা ভেস্তে যাবে এবং যুদ্ধ প্রলম্বিত হবে। তাই তারা মধ্যপ্রাচ্যের অন্য দেশের মাধ্যমে ইরানকে এ ষড়যন্ত্রের কথা জানিয়ে সতর্ক করে। একই সঙ্গে ইসরায়েলকে চাপ দিয়ে তাদের হত্যার তালিকা থেকে এ দুজনের নাম বাদ দিতে বাধ্য করে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মার্কিন শীর্ষ কর্মকর্তা নিউইয়র্ক টাইমসকে বলেন, ‘অন্তত গালিবাফকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল বলে জানতে পারে ওয়াশিংটন ইসরায়েলকে এ ধরনের পদক্ষেপ থেকে বিরত থাকতে বলে।’

ফেব্রুয়ারিতে যুদ্ধ শুরুর পর গত এপ্রিলে ইসলামাবাদে প্রথম যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের নেতারা মুখোমুখি বৈঠকে বসেন। সে আলোচনায় ইরানের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন স্পিকার গালিবাফ। 

নিউইয়র্ক টাইমস জানায়, তেহরান তখনই আশঙ্কা করেছিল, আলোচনা ব্যাহত করার জন্য ইসরায়েল এই সুযোগে গালিবাফ বা আরাঘচিকে হত্যা করতে পারে। এ কারণে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে তাদের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা চায় ইরান। যাওয়ার পথে পাকিস্তানের যুদ্ধবিমান ইরানি প্রতিনিধিদলের বিমানটিকে পাহারা দিয়ে নিয়ে যায়। কিন্তু বিপদ তখনও কাটেনি। ফেরার পথেও তাদের টার্গেট করা হয়। 

ইরানি গোয়েন্দা সূত্রের বরাতে নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়, দুটি ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান ইরাক সীমান্ত ঘেঁষে ইরানের আকাশসীমায় প্রবেশ করেছে এবং গালিবাফের বিমানে হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে, এমন খবর পেয়ে প্রতিনিধিদলকে বহনকারী বিমানটি সরাসরি তেহরানে না গিয়ে পাকিস্তান সীমান্তের কাছে মাশহাদ বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করে। ঝুঁকি এড়াতে ৭০ সদস্যের ইরানি প্রতিনিধিদল দলটি সড়ক পথে তেহরানে পৌঁছায়।

তবে ঝুঁকি সত্ত্বেও ইরান শান্তি আলোচনা অব্যাহত রাখে। এপ্রিলে শুরু হওয়া আলোচনা শেষ পর্যন্ত জুনে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের মাধ্যমে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফের ওপর এর আগেও অন্তত দুইবার হামলা চালিয়েছে ইসরাইল। দুইবারই পাহাড়ের নিচে একটি গোপন বাঙ্কারে আটকা পড়েন গালিবাফ এবং ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে তাকে জীবিত উদ্ধার করা হয়।

ফ্রান্সে নন-ইইউ শিক্ষার্থীদের আবাসন ভাতা নিয়ে বড় দুঃসংবাদ

ফ্রান্স থেকে তানভীর আহমদ তোহা
ফ্রান্সে নন-ইইউ শিক্ষার্থীদের আবাসন ভাতা নিয়ে বড় দুঃসংবাদ
সংগৃহীত ছবি

ফ্রান্সে উচ্চশিক্ষার জন্য যেতে আগ্রহী বাংলাদেশিসহ ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরের (নন-ইইউ) আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন দুশ্চিন্তার খবর এসেছে। দেশটির সরকার আবাসন সহায়তা নীতিতে পরিবর্তন এনে নন-ইইউ শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশকে সরকারি আবাসন ভাতা কর্মসূচির বাইরে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর ফলে আগামী দিনে ফ্রান্সে পড়তে যাওয়া বহু শিক্ষার্থীর মাসিক জীবনযাত্রার ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যেতে পারে।

ফরাসি সরকারের ঘোষিত নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ইউরোপীয় অর্থনৈতিক এলাকা (ইইএ) ও সুইজারল্যান্ডের বাইরের যেসব আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী সামাজিক মানদণ্ডভিত্তিক বৃত্তি পান না, তারা আর আগের মতো আবাসন ভাতা পাওয়ার সুযোগ পাবেন না। এতদিন ফ্রান্সে পড়তে যাওয়া বহু বিদেশি শিক্ষার্থী বাসাভাড়ার একটি অংশ সরকারি সহায়তা হিসেবে পেতেন, যা তাদের জন্য বড় ধরনের আর্থিক স্বস্তি এনে দিত। নতুন নীতি কার্যকর হওয়ায় সেই সুবিধা হারিয়ে তাদের মাসিক খরচে বাড়তি চাপ পড়বে।

ফরাসি সরকারের ভাষ্য, সামাজিক সহায়তা ব্যবস্থাকে আরো কার্যকর করা এবং সরকারি ব্যয় প্রকৃত প্রয়োজনভিত্তিক খাতে কেন্দ্রীভূত করতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সরকারের মতে, এ ব্যবস্থার মাধ্যমে সীমিত সম্পদ বেশি অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত ও আর্থিকভাবে ঝুঁকিতে থাকা শিক্ষার্থীদের জন্য সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে।

তবে নতুন নিয়ম সবার ক্ষেত্রে একভাবে প্রযোজ্য হচ্ছে না। ইইউ, ইইএ ও সুইজারল্যান্ডভুক্ত দেশের শিক্ষার্থীরা আগের মতোই আবাসন সহায়তার আওতায় থাকবেন। একই সঙ্গে সামাজিক বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থী, শরণার্থী মর্যাদাপ্রাপ্ত বা রাষ্ট্রহীন শিক্ষার্থী এবং কিছু নির্দিষ্ট পারিবারিক বা সামাজিক অবস্থার আওতায় থাকা শিক্ষার্থীদের জন্য সহায়তার সুযোগ বহাল থাকতে পারে। অর্থাৎ, নীতিগত কড়াকড়ি মূলত সেসব আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর ওপর বেশি প্রভাব ফেলবে, যারা নিজস্ব অর্থায়নে ফ্রান্সে পড়তে যান এবং কোনো বিশেষ সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থার আওতায় পড়েন না।

শিক্ষা-সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্তের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়বে বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, নেপালসহ এশিয়া ও আফ্রিকার দেশগুলোর শিক্ষার্থীদের ওপর। কারণ এসব দেশের অনেক শিক্ষার্থী পারিবারিক বা ব্যক্তিগত অর্থায়নে ফ্রান্সে পড়তে যান এবং আবাসন ব্যয় সামাল দিতে সরকারি সহায়তার ওপর আংশিকভাবে নির্ভরশীল থাকেন। বিশেষ করে প্যারিস, লিওঁ, তুলুজ, লিল বা বোর্দোর মতো শহরে ভাড়া তুলনামূলক বেশি হওয়ায় নতুন নীতির আর্থিক অভিঘাত আরো বেশি অনুভূত হতে পারে।

ফ্রান্সে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য আবাসন ব্যয় সবসময়ই একটি বড় চ্যালেঞ্জ। বিশ্ববিদ্যালয়ের টিউশন ফি তুলনামূলক সহনীয় হলেও বাসাভাড়া, পরিবহন, স্বাস্থ্যবিমা, খাবার ও নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ মিলিয়ে মাসিক বাজেট অনেক শিক্ষার্থীর জন্য চাপের হয়ে দাঁড়ায়। এমন পরিস্থিতিতে আবাসন ভাতা অনেকের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক হিসেবে কাজ করত। ফলে এই সহায়তা সীমিত হয়ে যাওয়ায় নতুন শিক্ষার্থীদের ফ্রান্সে যাওয়ার আগে আগের চেয়ে বেশি আর্থিক প্রস্তুতি নিতে হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিশেষজ্ঞদের ধারণা, এই সিদ্ধান্তের ফলে ভবিষ্যতে ফ্রান্সে উচ্চশিক্ষার পরিকল্পনা করা আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের একটি অংশ বিকল্প গন্তব্য হিসেবেও অন্য ইউরোপীয় দেশগুলোকে বিবেচনায় নিতে পারেন। কারণ সামগ্রিক জীবনযাত্রার ব্যয়, বিশেষ করে আবাসন খরচ, উচ্চশিক্ষা বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে এখন আরও গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য হয়ে উঠবে।

তবে ফরাসি সরকার জানিয়েছে, আবাসন ভাতার নিয়মে পরিবর্তন এলেও আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য ক্রুস পরিচালিত আবাসন, স্বল্পমূল্যের খাবার এবং অন্যান্য সামাজিক সহায়তা কর্মসূচি চালু থাকবে। ফলে আবাসন ভাতায় কড়াকড়ি এলেও আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য বিদ্যমান সব ধরনের সহায়তা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাচ্ছে না। তবু নতুন বাস্তবতায় ফ্রান্সে পড়তে আগ্রহী নন -ইইউ শিক্ষার্থীদের জন্য বাড়তি আর্থিক পরিকল্পনা এখন আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি জরুরি হয়ে উঠেছে।

রাশিয়ার হুমকিতে সামনে ‘সংকটময় সময়’ দেখছেন পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক
রাশিয়ার হুমকিতে সামনে ‘সংকটময় সময়’ দেখছেন পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী
পোলিশ প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্ক। সংগৃহীত ছবি

রাশিয়ার সম্ভাব্য হুমকির মুখে বিভিন্ন পরিস্থিতি মোকাবেলার প্রস্তুতি নিচ্ছে পোল্যান্ড। দেশটির প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্ক বলেছেন, আগামী কয়েক মাস নিরাপত্তার দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

শুক্রবার (৩ জুলাই) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে টাস্ক বলেন, আমি কাউকে ভয় দেখাতে চাই না। তবে যুদ্ধের পরিবর্তিত বাস্তবতার কারণে আগামী কয়েক মাস সত্যিই সংকটপূর্ণ হতে পারে। বিশেষ করে বাল্টিক অঞ্চলের দেশগুলোতে এ উদ্বেগ আরো বেশি করে দেখা দিচ্ছে।

মার্কিন গোয়েন্দা তথ্যের বরাত দিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে, ন্যাটোর প্রতিক্রিয়া দেখতে পোল্যান্ডে সশস্ত্র উসকানিমূলক হামলার পরিকল্পনা করছে রাশিয়া। এ প্রতিবেদন প্রসঙ্গে প্রতিক্রিয়া জানাতেই এসব কথা বলেন পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী। বিবিসির এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানা যায়।

পোল্যান্ডের সংবাদমাধ্যম ওনেটের এক প্রতিবেদনে প্রেসিডেন্ট কারোল নাভরোৎস্কির ঘনিষ্ঠ সূত্রের বরাতে বলা হয়েছে, মস্কো আগামী কয়েক মাসের মধ্যে এমন পদক্ষেপ নিতে পারে। এর মূল উদ্দেশ্য হবে ইউরোপে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করা এবং ইউক্রেনকে দেওয়া পশ্চিমা সামরিক ও আর্থিক সহায়তা কমাতে চাপ তৈরি করা।

পোল্যান্ডের প্রেসিডেন্টের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানিয়েছে, ন্যাটোর পূর্বাঞ্চল ঘিরে রাশিয়ার সম্ভাব্য সামরিক পরিকল্পনা সম্পর্কে যুক্তরাষ্ট্র নিয়মিতভাবে ওয়ারশকে গোয়েন্দা তথ্য দিয়ে আসছে।

ইরানে আত্মঘাতী বোমায় ২৭ সেনা নিহত | কালের কণ্ঠ