kalerkantho


ভারতের নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল এবার রাজ্যসভায়

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ১৭:১৪



ভারতের নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল এবার রাজ্যসভায়

সাম্প্রদায়িকভাবে বৈষম্যমূলক ভারতের বিতর্কিত নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল আজই রাজ্যসভায় পাস করা হবে বলে জানিয়েছে বিজেপি। তবে যে কোনো মূল্যে বিলটি রুখে দেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন বিরোধীরা। লোকসভার পর রাজ্যসভায়ও এটি পাস হলে, বিজেপি জোট ছাড়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে মেঘালয় সরকার।

এদিকে, বিলের বিরোধিতা করে বনধ কর্মসূচিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে আসাম। উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বাকি রাজ্যগুলোতেও চলছে তীব্র আন্দোলন।

১২ ফেব্রুয়ারি, মঙ্গলবার রাজ্যসভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল পাস করতে প্রস্তাব উত্থাপন করছেন, এ খবর ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে ওঠে আসামের রাজপথ। রাজ্যের আদিবাসী সংগঠনের ব্যানারে ১১ ফেব্রুয়ারি, সোমবার দিনব্যাপী বনধ কর্মসূচি পরিণত হয় জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে আমজনতার প্রতিবাদ কর্মসূচিতে। বন্ধ হয়ে যায় রাস্তাঘাট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ব্যবসা-বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান।

প্রতিবাদকারী জানান, তারা বিজেপি’র সিদ্ধান্তের সম্পূর্ণ বিরুদ্ধে। তারা বলেন, নির্বাচনে বিজেপি’র সাপোর্ট আর করবো না। আসাম সরকার প্রতারণা করেছে। প্রতিবাদে তাই রাস্তায় নেমেছি।

একই পরিস্থিতি মনিপুর, মেঘালয়, ত্রিপুরা, মিজোরাম, অরুণাচল ও নাগাল্যান্ডে। ওই রাজ্যগুলোতে আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ না থাকলেও অঘোষিত বন্ধ পালিত হয়। মঙ্গলবারও সেখানে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি বিরাজ করে।

নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলের তীব্র বিরোধিতা করে নয়া দিল্লিতে অবস্থানরত মেঘালয়ের মুখ্যমন্ত্রী কনরাড সাংমা জানান, বিলটি রাজ্যসভায় পাস হলে সরকার ছেড়ে বেরিয়ে আসবেন তারা। ৬০ সদস্যের মেঘালয় বিধানসভায় সাংমার এনপিপি ও বিজেপি জোটবদ্ধ সরকার চালাচ্ছে। যেখানে ২০ জন বিধায়ক রয়েছেন এনপিপি'র। আর বিজেপির মাত্র দু'জন। এছাড়া বিরোধী কংগ্রেসের রয়েছে আরও ২০ জন। এতে সরকার ছেড়ে বেরিয়ে নতুন করে এনপিপি ও কংগ্রেসের জোট সম্ভাবনাও বড় হতে শুরু করেছে।

গত ৮ই জানুয়ারি লোকসভায় বিতর্কিত বিলটি পাস হয়। এখন রাজ্যসভায় পাস হলেই বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান থেকে ভারতে যাওয়া মুসলিম বাদে অন্য সম্প্রদায়ের লোকেরা নাগরিকত্ব পাবেন।

এমন পরিস্থিতিতে নাগরিকত্ব বিলের প্রতিবাদে প্রখ্যাত সংগীত শিল্পী ভূপেন হাজারিকার মরণোত্তর ভারতরত্ন সম্মান গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকার কথা জানিয়েছে তার পরিবার। আসামের একটি দৈনিকে ভূপেন হাজারিকার ছেলে জানান, তিনি সাম্প্রতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে ওয়াকিবহাল। ভারত সরকারের পক্ষ থেকে প্রস্তাব দেওয়া মরণোত্তর সম্মাননা গ্রহণ করবেন না বলে জানিয়েছেন তিনি।



মন্তব্য