বিশ্ব উইঘুর কংগ্রেস (ডব্লিউইউসি) জানিয়েছে, তারা আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মঞ্চে চীনের বিরুদ্ধে উইঘুর মুসলিমদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগ আরো জোরালোভাবে তুলে ধরছে। সংগঠনটির সাপ্তাহিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাপান ও ইউরোপের গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলোতে তারা চীনের বিরুদ্ধে গণহত্যা, জোরপূর্বক শ্রম এবং সীমান্ত পেরিয়ে উইঘুরদের দমন-পীড়নের অভিযোগ উত্থাপন করেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, বিশ্ব উইঘুর কংগ্রেস এবং উইঘুর সেন্টার ফর ডেমোক্রেসি অ্যান্ড হিউম্যান রাইটস (ইউজেডডিএম)-এর একটি প্রতিনিধিদল সপ্তাহজুড়ে বিভিন্ন কূটনীতিক, জাতিসংঘের কর্মকর্তা, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি এবং অভিবাসীদের মানবাধিকারবিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিবেদক গেহাদ মাদির সঙ্গে বৈঠক করেছে। প্রতিনিধিদলে ছিলেন বিশ্ব উইঘুর কংগ্রেসের সভাপতি তুরগুনজান আলাউদুন, সহসভাপতি জুমরেতায় আরকিন এবং ইউজেডডিএমের সভাপতি দোলকুন ইসা। বৈঠকগুলোতে উইঘুরদের জোরপূর্বক গুম, সীমান্ত পেরিয়ে দমন-পীড়ন, বিভিন্ন দেশে আশ্রয় নেওয়া উইঘুর শরণার্থীদের অবস্থা এবং মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এ ছাড়া প্রতিনিধিদলটি তিব্বতি সংগঠনগুলোর আয়োজিত একটি পার্শ্ব-অনুষ্ঠানেও অংশ নেয়। সেখানে তিব্বত, তাইওয়ান এবং অংশগ্রহণকারীদের ভাষায় আন্তর্জাতিক নিয়মভিত্তিক ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়ার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা হয়।
জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদে এক উন্মুক্ত সংলাপে বিশ্ব উইঘুর কংগ্রেসের সহসভাপতি জুমরেতায় আরকিন বলেন, চীনের বিভিন্ন নীতির কারণে উইঘুর নারী ও পরিবারগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তিনি বলেন, বিচার ছাড়া আটক, পরিবারের সদস্যদের আলাদা করে রাখা এবং সীমান্ত পেরিয়ে ভয়ভীতি দেখানোর কারণে অনেক মাকে জোর করে তাদের সন্তানদের থেকে বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। বিশ্ব উইঘুর কংগ্রেস আরো অভিযোগ করেছে, পুরো অধিবেশনজুড়ে চীনা সরকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংগঠন তাদের প্রতিনিধিদের ওপর নজরদারি করেছে। তাদের ছবি তোলা হয়েছে এবং ভিডিও ধারণ করা হয়েছে। সংগঠনটির দাবি, এটি বিদেশে অবস্থানরত উইঘুর অধিকারকর্মীদের ভয়ভীতি দেখানোর একটি উদাহরণ।
এদিকে, উইঘুর হিউম্যান রাইটস প্রজেক্ট (ইউএইচআরপি) একটি নতুন প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এতে বলা হয়েছে, সরবরাহ ব্যবস্থায় নজরদারির দুর্বলতার কারণে অস্ট্রেলিয়া ও জাপান এখনো উইঘুরদের জোরপূর্বক শ্রমের সঙ্গে যুক্ত পণ্য আমদানির ঝুঁকিতে রয়েছে। প্রতিবেদনটিতে আরো বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন জোরপূর্বক শ্রমে তৈরি পণ্যের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরো কঠোর করছে। তবে অন্য কিছু দেশে নজরদারি দুর্বল থাকায় এসব পণ্যের জন্য নতুন বাজার তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
অন্যদিকে, কানাডার মন্ট্রিয়ালে উইঘুর নারীদের অধিকার রক্ষায় অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে বিশ্ব উইঘুর কংগ্রেসের নির্বাহী কমিটির চেয়ার রুশান আব্বাসকে 'উইমেনস ইনিউজ চ্যাম্পিয়ন ফর হিউম্যান রাইটস ২০২৬' পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। পুরস্কার গ্রহণের সময় রুশান আব্বাস তার বোন গুলশান আব্বাসের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। তিনি অভিযোগ করেন, ২০১৮ সাল থেকে তার বোনকে জোর করে গুম করে রাখা হয়েছে।







