• ই-পেপার

শেষ হলো প্রিন্স সালমানের দুর্নীতিবিরোধী অভিযান

১২ লাখ ইউরোর গহনা জব্দ, তদন্তের মুখে স্পেনের সাবেক প্রধানমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক
১২ লাখ ইউরোর গহনা জব্দ, তদন্তের মুখে স্পেনের সাবেক প্রধানমন্ত্রী
ছবি : স্প্যানিশ ন্যাশনাল পুলিশ

স্পেনের সাবেক প্রধানমন্ত্রী হোসে লুইস রদ্রিগেজ সাপাতেরো নতুন একটি তদন্তের মুখে পড়েছেন। তার কাছ থেকে বিলাসবহুল ঘড়ি ও গহনা উদ্ধারের পর তিনি নতুন এই তদন্তের মুখে পড়েছেন।  

সাপাতেরো ২০০৪ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত সমাজতান্ত্রিক সরকারের নেতৃত্ব দেন এবং বর্তমানে ক্ষমতাসীন দলে প্রভাবশালী। এর আগে ২০২১ সালে স্প্যানিশ বিমান সংস্থা প্লাস আলট্রাকে দেওয়া সরকারি আর্থিক সহায়তা (বেইলআউট) নিয়ে প্রভাব খাটানোর অভিযোগেও তিনি তদন্তের মুখে পড়েছিলেন।

সেই তদন্তের অংশ হিসেবে গত মাসে তার অফিসে অভিযান চালানো হয়। স্প্যানিশ গণমাধ্যম জানায়, সেখানে প্রায় ১.২ মিলিয়ন ইউরো মূল্যের নেকলেস, ব্রেসলেট, আংটি ও কানের দুল পাওয়া যায়। তার মুখপাত্র লুইস আরোয়ো জানিয়েছেন, তিনি বিচারকের সামনে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দেবেন।

গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, এসব গহনা জিম্বাবুয়ে বা থাইল্যান্ড থেকে আসা স্বর্ণ, নীলকান্তমণি ও পান্না দিয়ে তৈরি। তদন্তকারীদের দাবি, এসব গহনার শুল্ক পরিশোধের প্রমাণ দেখাতে না পারার কারণে সাপাতেরোকে কর ফাঁকি ও চোরাচালানের সন্দেহে তদন্ত করা হচ্ছে। তার ঘনিষ্ঠরা আগে জানিয়েছিলেন, এসব জিনিস পারিবারিক উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া।
তিনি এ মাসের শেষ দিকে আদালতে সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য তাকে তলব করা হয়েছে।

স্পেনের সাম্প্রতিক ইতিহাসে এই প্রথম কোনো সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে আনুষ্ঠানিকভাবে তদন্তের আওতায় আনা হলো। এর আগে অন্য কয়েকজন সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে দুর্নীতির মামলায় সাক্ষ্য দিতে তলব করা হলেও তাদের বিরুদ্ধে এ ধরনের আনুষ্ঠানিক তদন্ত হয়নি। এই ঘটনা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজের সোশ্যালিস্ট পার্টিকে ঘিরে চলমান বিতর্কের সর্বশেষ সংযোজন। জাপাতেরো দলটির একজন প্রভাবশালী ও ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত। 

প্লাস আলট্রা মামলায় জাপাতেরোর বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি ২০২১ সালে বিমান সংস্থাটির জন্য ৫৩ মিলিয়ন ইউরোর সরকারি বেইলআউট অনুমোদনে নিজের প্রভাব খাটিয়েছিলেন এবং এর বিনিময়ে কমিশন নিয়েছিলেন। তবে তিনি বরাবরই এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন এবং দাবি করেছেন, প্লাস আলট্রা থেকে তিনি কখনো কোনো অর্থ গ্রহণ করেননি।

কোভিড-১৯ মহামারিতে ক্ষতিগ্রস্ত কৌশলগত প্রতিষ্ঠানগুলোকে সহায়তা করার জন্য গঠিত একটি সরকারি তহবিল থেকে ওই বেইলআউট অনুমোদন করা হয়েছিল। গত মাসে কথিত দুর্নীতির তদন্তের অংশ হিসেবে পুলিশ সোশ্যালিস্ট পার্টির মাদ্রিদ সদর দপ্তরে অভিযান চালিয়ে বেশ কিছু নথি জব্দ করে।

এ ছাড়া দলের এক শীর্ষ নেতা এবং এক প্রভাবশালী ব্যবসায়ীর বাসভবনেও তল্লাশি চালানো হয়। প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজের স্ত্রী ও ভাইসহ আরো কয়েকজনের বিরুদ্ধেও অভিযোগ উঠেছে। তবে সংশ্লিষ্ট সবাই কোনো ধরনের অনিয়ম বা অন্যায় করার কথা অস্বীকার করেছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি খাতে সাইবার হামলায় শীর্ষে উত্তর কোরিয়া

অনলাইন ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি খাতে সাইবার হামলায় শীর্ষে উত্তর কোরিয়া
সংগৃহীত ছবি

উত্তর কোরিয়ার হ্যাকাররা গত এক বছরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি খাতের বিরুদ্ধে চালানো রাষ্ট্র-সমর্থিত সাইবার হামলার প্রায় অর্ধেকের সঙ্গে জড়িত ছিল বলে জানিয়েছে সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান ক্রাউডস্ট্রাইক। প্রতিষ্ঠানটির সাম্প্রতিক বার্ষিক সাইবার নিরাপত্তা প্রতিবেদনে এ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হ্যাকার গোষ্ঠীগুলো আগের চেয়ে আরো বেশি সংগঠিত ও দক্ষ হয়ে উঠেছে। তারা এখন শুধু কম্পিউটার সিস্টেমে অনুপ্রবেশই করছে না, বরং ভুয়া পরিচয়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরিও নিচ্ছে। এ কাজে তারা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি ছবি ও ভিডিও ব্যবহার করছে। পাশাপাশি ক্রিপ্টোকারেন্সি চুরির ঘটনাতেও তাদের সম্পৃক্ততা বাড়ছে।

ক্রাউডস্ট্রাইকের তথ্য অনুযায়ী, 'ফেমাস চোল্লিমা' নামে পরিচিত একটি উত্তর কোরীয় হ্যাকার গোষ্ঠী ২০২৫ সালের এপ্রিল থেকে ২০২৬ সালের মে পর্যন্ত প্রযুক্তি খাতের বিরুদ্ধে পরিচালিত রাষ্ট্র-সমর্থিত সাইবার কার্যক্রমের ৪৭ শতাংশের জন্য দায়ী। প্রতিষ্ঠানটি এই গোষ্ঠীকে বিশ্বের প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর জন্য সবচেয়ে সক্রিয় সাইবার হুমকিগুলোর একটি হিসেবে উল্লেখ করেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উত্তর কোরিয়ার হ্যাকাররা প্রায়ই যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ ও এশিয়ার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দূর থেকে কাজ করার চাকরির জন্য আবেদন করে। তারা নিজেদের সফটওয়্যার ডেভেলপার, প্রোগ্রামার বা তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ হিসেবে পরিচয় দেয়।

এই পরিচয়কে বিশ্বাসযোগ্য করতে তারা এআই প্রযুক্তিতে তৈরি ছবি ব্যবহার করে। অনেক ক্ষেত্রে চুরি করা পাসপোর্ট, জাল পরিচয়পত্র এবং ভুয়া নথিও কাজে লাগানো হয়। চাকরি পাওয়ার পর তারা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নেটওয়ার্ক, সফটওয়্যার এবং গুরুত্বপূর্ণ ব্যবস্থায় প্রবেশের সুযোগ পায়। বাইরে থেকে তাদের সাধারণ কর্মী মনে হলেও ভেতরে তারা গোপনে তথ্য সংগ্রহ করে।

ক্রাউডস্ট্রাইক বলছে, এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে উত্তর কোরিয়া আর্থিক ও কৌশলগত- দুই ধরনের সুবিধাই পায়। হ্যাকারদের বেতন শেষ পর্যন্ত দেশটির সরকারের কাছে পৌঁছায় বলে ধারণা করা হয়। একই সঙ্গে তারা কোম্পানির গোপন তথ্য, প্রযুক্তিগত নকশা, মেধাস্বত্ব এবং ব্যবসায়িক তথ্য সংগ্রহ করে।

কিছু ক্ষেত্রে চুরি করা তথ্য পরে চাঁদাবাজির হাতিয়ার হিসেবেও ব্যবহার করা হয়। হ্যাকাররা প্রতিষ্ঠানের কাছে অর্থ দাবি করে এবং অর্থ না দিলে সংবেদনশীল তথ্য প্রকাশ করে দেওয়ার হুমকি দেয়।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, উত্তর কোরিয়ার হ্যাকারদের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য এখনো ক্রিপ্টোকারেন্সি ও ব্লকচেইন খাত। বিশেষ করে ক্রিপ্টোকারেন্সি কোম্পানি, ডিজিটাল সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান এবং ব্লকচেইন ডেভেলপারদের তারা নিয়মিত লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছে।

ক্রাউডস্ট্রাইকের মতে, আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এবং বৈশ্বিক আর্থিক ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার কারণে উত্তর কোরিয়া এখন ক্রমেই সাইবার চুরি ও ডিজিটাল সম্পদ হাতিয়ে নেওয়ার ওপর বেশি নির্ভরশীল হয়ে উঠছে।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সাইবার অপরাধীরা প্রায় ২০০ কোটি ডলারের সমপরিমাণ ক্রিপ্টোকারেন্সি চুরি করেছে। এর আগেও বিশ্বের বিভিন্ন বড় ক্রিপ্টোকারেন্সি চুরির ঘটনায় উত্তর কোরিয়ার নাম উঠে এসেছে।

ক্রাউডস্ট্রাইক আরো জানিয়েছে, বর্তমানে 'হ্যান্ডস-অন-কিবোর্ড' ধরনের সাইবার হামলার ব্যবহার বাড়ছে। এ ধরনের হামলায় শুধু স্বয়ংক্রিয় ক্ষতিকর সফটওয়্যারের ওপর নির্ভর করা হয় না। বরং হামলাকারীরা সরাসরি কম্পিউটার নিয়ন্ত্রণ করে প্রতিষ্ঠানের নেটওয়ার্কে দীর্ঘ সময় ধরে সক্রিয় থাকে।

চুরি করা ব্যবহারকারীর নাম ও পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে তারা প্রতিষ্ঠানের ভেতরে আগে থেকেই থাকা বৈধ সফটওয়্যার ও সরঞ্জাম কাজে লাগায়। ফলে অনেক সময় তাদের কার্যক্রম স্বাভাবিক ব্যবহারকারীর কাজের মতো দেখায় এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার নজর এড়িয়ে যায়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের হামলা শনাক্ত করা তুলনামূলকভাবে কঠিন। কারণ হামলাকারীরা দীর্ঘ সময় ধরে গোপনে তথ্য সংগ্রহ করতে পারে এবং প্রতিষ্ঠানের ভেতরের বিভিন্ন সিস্টেমে প্রবেশের সুযোগ পায়।
 

ইউরোপীয় ইউনিয়নের নতুন অভিবাসন নীতি কার্যকর

অনলাইন ডেস্ক
ইউরোপীয় ইউনিয়নের নতুন অভিবাসন নীতি কার্যকর
সংগৃহীত ছবি

মাইগ্রেশন অ্যান্ড রিফিউজি প্যাক্ট বা অভিবাসন ও শরণার্থী সংক্রান্ত নতুন চুক্তি সব সদস্য রাষ্ট্রে কার্যকর করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। শুক্রবার (১২ জুন) থেকে এই নীতি কার্যকর হয়। 

ইইউ কমিশনের মুখপাত্র মার্কাস লামার্ট এক ব্রিফিংয়ে বলেন, দুই বছরের প্রস্তুতির পর এখন নতুন নিয়ম পুরোপুরি বাস্তবায়ন হয়েছে। এটি ইউরোপীয় ইউনিয়নের জন্য একটি বড় অর্জন।

তিনি জানান, নতুন নীতিমালায় বহির্বিশ্ব সীমান্ত আরো নিরাপদ করা, সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে দায়িত্ব ভাগাভাগি এবং আশ্রয় ও প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া আরো দ্রুত ও কার্যকর করার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

ইইউ কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েনের বক্তব্য উদ্ধৃত করে তিনি বলেন, অভিবাসন একটি যৌথ ইউরোপীয় সমস্যা। এর জন্য একটি কার্যকর ও ন্যায়সংগত সমাধান প্রয়োজন।

তবে হাঙ্গেরির মতো কয়েকটি দেশ এই চুক্তির বাধ্যতামূলক ‘সলিডারিটি মেকানিজম’ নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে। এ বিষয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে লামার্ট বলেন, হাঙ্গেরির কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বিভিন্ন ইস্যুতে আলোচনা চলছে।

তিনি আরো জানান, হাঙ্গেরিতে সম্প্রতি নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ব্রাসেলস তাদের সঙ্গে সব বিষয়ে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ বজায় রেখেছে।

তবে চুক্তি বাস্তবায়ন না করলে ইইউ তহবিল বন্ধ করা হবে কি না—এ প্রশ্নের সরাসরি উত্তর দেননি তিনি।

২০১৫ সালের শরণার্থী সংকটের পর তৈরি এই প্যাক্টে সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ জোরদার, দ্রুত আশ্রয় প্রক্রিয়া এবং সদস্য দেশগুলোর মধ্যে দায়িত্ব ভাগাভাগির বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। দীর্ঘ আলোচনার পর এটি ২০২৪ সালের মে মাসে গৃহীত হয়।

মহাবিশ্বের বৃহত্তম কাঠামোগুলোর একটি ধরা পড়ল নাসার হাবলে

অনলাইন ডেস্ক
মহাবিশ্বের বৃহত্তম কাঠামোগুলোর একটি ধরা পড়ল নাসার হাবলে
ছবি: নাসা

মহাবিশ্বের সবচেয়ে বড় ও ঘনসন্নিবিষ্ট গঠনগুলোর একটি নতুন ছবিতে প্রকাশ করেছে মার্কিন মহাকাশ সংস্থা নাসা। ছবিটি তুলেছে নাসার পরিচালিত হাবল মহাকাশ দূরবীন। এতে দেখা গেছে হাজার হাজার গ্যালাক্সির এক বিশাল সমাবেশ, যেখানে মহাকর্ষের শক্তিশালী প্রভাবও স্পষ্টভাবে ধরা পড়েছে। সেখানকার মহাকর্ষ বল এর আড়ালে লুকিয়ে থাকা অনেক দূরবর্তী বস্তু থেকে আসা আলোকে বাঁকিয়ে দেয় এবং বিবর্ধিত করে।

ছবির কেন্দ্রে রয়েছে 'গ্যালাক্সি ক্লাস্টার এমএসি এস০৩২৯-০২১১'। এটি এমন একটি বিশাল গ্যালাক্সির সমষ্টি, যেখানে অসংখ্য গ্যালাক্সি মহাকর্ষের টানে একসঙ্গে যুক্ত হয়ে রয়েছে। নাসা জানিয়েছে, এই ধরনের গ্যালাক্সি ক্লাস্টার বা ছায়াপথের গুচ্ছ মহাবিশ্বের সবচেয়ে বড় কাঠামোগুলোর মধ্যে অন্যতম।

প্রথম দেখায় পুরো ছবিটি বেশ জটিল ও এলোমেলো মনে হয়। বিভিন্ন আকারের গ্যালাক্সি পুরো দৃশ্যজুড়ে ছড়িয়ে আছে। তবে এই বিশৃঙ্খল সৌন্দর্যের মধ্যেই লুকিয়ে আছে মহাবিশ্বের গঠন ও বিবর্তনের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। নাসার বিজ্ঞানীরা বলছেন, এমএসি এস০৩২৯-০২১১-এর মতো গ্যালাক্সি ক্লাস্টারগুলো মহাবিশ্ব কীভাবে কোটি কোটি বছরে তৈরি হয়েছে, তা বোঝার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই ক্লাস্টারের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো এর শক্তিশালী মহাকর্ষীয় প্রভাব। এই মহাকর্ষ শুধু গ্যালাক্সিগুলোকে একসঙ্গে ধরেই রাখে না, বরং এর আশপাশের আলোকে বাঁকিয়ে দেয় এবং অনেক সময় দূরের গ্যালাক্সিকে বড় করে দেখায়। এই ঘটনাকে বলা হয় মহাকর্ষীয় লেন্সিং। এর মাধ্যমে বিজ্ঞানীরা এমন দূরের বস্তু দেখতে পান, যা সাধারণভাবে দেখা সম্ভব নয়। কারণ, সেগুলোর আলো অনেক সময় অত্যন্ত দুর্বল হয়ে আসে বা দূরত্বের কারণে হারিয়ে যায়।

হাবলের ছবিতে দেখা গেছে, ক্লাস্টারের ভেতরে বিভিন্ন ধরনের গ্যালাক্সি ছড়িয়ে রয়েছে। এর মধ্যে বড় ও উজ্জ্বল উপবৃত্তাকার গ্যালাক্সি যেমন আছে, তেমনি সর্পিল গ্যালাক্সিও রয়েছে, যেগুলোর ঘূর্ণায়মান বাহু স্পষ্টভাবে দেখা যায়। কিছু গ্যালাক্সি পাশ থেকে দেখা যাওয়ায় সরু রেখার মতো মনে হচ্ছে। এছাড়া ছবিতে লেন্টিকুলার গ্যালাক্সিও দেখা গেছে, যেগুলো উপবৃত্তাকার ও সর্পিল, দুই ধরনের বৈশিষ্ট্যই বহন করে। সব মিলিয়ে এটি একটি অত্যন্ত ঘন ও বৈচিত্র্যপূর্ণ মহাজাগতিক দৃশ্য তৈরি করেছে।

ছবির কিছু অংশে আমাদের নিজস্ব গ্যালাক্সির সামনের দিকের কয়েকটি তারকাও দেখা গেছে। এগুলো তাদের আলোর বিশেষ বিচ্ছুরণ বৈশিষ্ট্যের কারণে দূরের গ্যালাক্সিগুলোর থেকে আলাদা করে চিহ্নিত করা যায়।

সবচেয়ে আকর্ষণীয় বিষয় হলো মহাকর্ষীয় লেন্সিংয়ের প্রভাব। ছবির কিছু জায়গায় বাঁকানো আলোর রেখা দেখা যায়, যা আসলে কোনো আলাদা গঠন নয়। এগুলো অনেক দূরের গ্যালাক্সি, যাদের আলো বিশাল ক্লাস্টারের মহাকর্ষীয় টানের কারণে বাঁকিয়ে গেছে। একটি জায়গায় মোচড়ানো আটের মতো একটি আকৃতিও দেখা গেছে। বিজ্ঞানীদের ধারণা, এটি একটি দূরের গ্যালাক্সি, যার চেহারা মহাকর্ষীয় লেন্সিংয়ের কারণে বিকৃত হয়ে গেছে। নাসা জানিয়েছে, এই ধরনের বিকৃতি শুধু দৃশ্যমান সৌন্দর্য নয়, বরং এটি বৈজ্ঞানিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আলো কীভাবে বাঁকছে তা বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা ক্লাস্টারের ভেতরে থাকা অদৃশ্য পদার্থের বণ্টন সম্পর্কেও ধারণা পান।

হাবল এই ক্লাস্টারটি পর্যবেক্ষণ করেছে একটি বিশেষ গবেষণা কর্মসূচির অংশ হিসেবে, যেখানে শক্তিশালী এক্স-রে বিকিরণ ছড়ানো গ্যালাক্সি ক্লাস্টারগুলোকে অধ্যয়ন করা হয়। এসব ক্লাস্টার মহাবিশ্বের সবচেয়ে বড় ও সক্রিয় অঞ্চলগুলোর মধ্যে অন্যতম। পর্যবেক্ষণে হাবল তার দুটি প্রধান যন্ত্র- অ্যাডভান্সড ক্যামেরা ফর সার্ভে এবং ওয়াইড ফিল্ড ক্যামেরা থ্রি ব্যবহার করেছে। এগুলো দৃশ্যমান আলো ও অবলোহিত তরঙ্গদৈর্ঘ্যে তথ্য সংগ্রহ করেছে, যা ক্লাস্টারের গঠন আরো বিস্তারিতভাবে বুঝতে সাহায্য করেছে।

শেষ হলো প্রিন্স সালমানের দুর্নীতিবিরোধী অভিযান | কালের কণ্ঠ