kalerkantho


দুই পাত্রে রয়েছে ২০ কোটি টাকার 'সাপের বিষ'

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২০ নভেম্বর, ২০১৮ ১৯:০০



দুই পাত্রে রয়েছে ২০ কোটি টাকার 'সাপের বিষ'

দু’টি কাচের পাত্র ভর্তি সাপের বিষ-সহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে ভারতের ওয়াইল্ড লাইফ ক্রাইম কন্ট্রোল ব্যুরো এবং সিআইডির যৌথ তদন্তকারী দল।

সিআইডি সূত্রে জানা গেছে, ওয়াইল্ড লাইফ ক্রাইম কন্ট্রোল ব্যুরোর কর্মকর্তারা খবর পান, বাংলাদেশ সীমান্ত দিয়ে সাপের বিষ পাচার হয়ে ভারতে ঢুকেছে। কয়েকজন পাচারকারী সেই বিষ উত্তর ২৪ পরগনার বারাসাতে নিয়ে আসবেন। সেখানেই ক্রেতা এবং বিক্রেতাদের মধ্যে হাতবদল হবে ওই বিষের।

সেই খবর অনুযায়ী যৌথ তদন্তকারী দল রাতে বারাসাতের ময়না এলাকায় হানা দেয় এবং তিন যুবককে গ্রেপ্তার করে। তদন্তকরীদের দাবি, তাদের কাছ থেকে দু’টি কাচের জারে সাপের বিষ পাওয়া গেছে।

সিআইডি কর্মকর্তারা জানান, আটকরা হলেন গাইঘাটার অমিয় দাস, হরিণঘাটার দীপক রায় এবং অরুপ বিশ্বাস। তদন্তকারীদের দাবি, ইউরোপ থেকে চোরা পথে এই সাপের বিষ বাংলাদেশের চট্টগ্রাম বন্দরে এসে পৌঁছায়। সেখান থেকে বনগাঁ সীমান্ত দিয়ে সেই বিষ এ রাজ্যে নিয়ে আসা হয়।

তাদের দাবি, চীনে ওষুধ তৈরির জন্য এই সাপের বিষের ব্যাপক চাহিদা। আন্তর্জাতিক বাজারে সেই বিষের দাম প্রায় ২০ কোটি টাকা।

যদিও ওয়াউল্ড লাইফ ট্রাস্টের মতো স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা বন্যপ্রাণী নিয়ে কাজ করেন, তারা এই বিষের সত্যতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। তারা আন্তর্জাতিক বাজার সাপের বিষের দাম প্রসঙ্গে বলেন, চীনে প্রতি গ্রাম কেউটের বিষের দাম সাড়ে চার হাজার টাকা। সেখানে ইউরোপ, বিশেষ করে ফ্রান্সে যে বিষ তৈরি করা হয় তার দাম প্রতি গ্রাম প্রায় ১৫০ মার্কিন ডলার। যা চীনের বিষের থেকে অনেক বেশি দামি। চীনে যেখানে এই বিষের ব্যবহার এবং বেচা-কেনা আইনসিদ্ধ সে ক্ষেত্রে কেন চোরা বাজার থেকে বেশি দামে এই বিষ কিনবে চীন?

তদন্তকারীরা এই সম্ভাবনা উড়িয়ে দিতে পারেননি। সিআইডি কর্মকর্তারা বলেন, ওই বিষ ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হচ্ছে।

তাদের একজন বলেন, বাজারে প্রচলিত ধারণা আছে, এই সাপের বিষ‌ে ভালো নেশা হয়। সে কারণে বেশ কিছু জায়গায় রেভ পার্টিতে সাপের বিষের কদর আছে।

তিনি আরো জানান, সাধারণ মাদককে সাপের বিষের মোড়কে বিক্রি করার চক্রও থাকতে পারে এর পেছনে। ফরেন্সিক রিপোর্টে বোঝা যাবে জব্দ করা ‘বিষ’ আসলে কীসের।



মন্তব্য