kalerkantho


ভারত-পাকিস্তান থেকে কাশ্মীরের স্বাধীনতা চাইলেন আফ্রিদি

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৫ নভেম্বর, ২০১৮ ২২:৪০



ভারত-পাকিস্তান থেকে কাশ্মীরের স্বাধীনতা চাইলেন আফ্রিদি

কাশ্মীর ইস্যুতে মন্তব্য করে নতুন আলোচনার ঝড় তুলেছেন পাকিস্তান ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক শহীদ আফ্রিদি। পাকিস্তান সরকারকে প্রবল কটাক্ষ করলেন দেশের প্রাক্তন ক্রিকেট তারকা শাহিদ আফ্রিদি। নাম না করে প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সমালোচনা করলেন বিদেশ থেকে। আফ্রিদির মন্তব্যের পরেই আন্তর্জাতিক মহল সরগরম। বিশেষ করে ভারত ও পাকিস্তানের কূটনৈতিক মহলে ছড়িয়েছে শোরগোল।

বিদেশের মাটিতে এক বক্তৃতায় তিনি কাশ্মীর বিষয়ে ভূমিকার জন্য পাকিস্তানের নীতি-নির্ধারকদের যেন তোপ দাগলেন। সাবেক এ তারকা অলরাউন্ডার বলেছেন, ‘পাকিস্তান কাশ্মীর চায় না…পাকিস্তানতো নিজের চারটি প্রদেশই ঠিকভাবে সামলাতে পারে না।’

তবে তিনি কাশ্মীরকে ভারতের হাতে ছেড়ে দিতেও নারাজ। তার মতে কাশ্মীরকে এই দুই দেশ থেকে স্বাধীন হতে দেওয়া উচিত।

ব্রিটিশ পার্লামেন্টে সেখানকার শিক্ষার্থীদের নিয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করছিলেন ৩৮ বছর বয়সী আফ্রিদি। তার বক্তৃতাটি ভিডিও আকারে পোস্ট হয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। বক্তব্যের অনেকখানিই ছিল স্বদেশি সরকারের নীতি-নির্ধারকদের সমালোচনা।

আফ্রিদি বলেন, ‘আমি বলবো পাকিস্তান কাশ্মীরকে চায় না। এটা ভারতকেও ছেড়ে দেবেন না। কাশ্মীরকে স্বাধীন হতে দিন। তাতে অন্তত মানবতা বেঁচে থাকবে। মানুষকে মরতে দেবেন না…পাকিস্তান কাশ্মীর চাইবে কোত্থেকে…? দেশটিতো তার নিজের চারটি প্রদেশই সামলাতে পারে না…।’

ইনসানিয়াতই (মানবতা) দুনিয়ায় সবচেয়ে বড় বিষয় মন্তব্য করে সাবেক এ ক্রিকেটার বলেন, ‘সেখানে মানুষ মারা পড়ছে, এটা যন্ত্রণাদায়ক। যেকোনো জনপদে যেকোনো মৃত্যুই যন্ত্রণার।’

বিতর্কিত দ্বিজাতি তত্ত্বের ভিত্তিতে ১৯৪৭ সালে ভারতবর্ষ বিভাজনের পর থেকেই কাশ্মীর নিয়ে ভারত, পাকিস্তান ও চীনের মধ্যে ত্রিমুখী বিবাদ চলে আসছে। তবে এই বিবাদ বেশি স্পষ্ট ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে। এ নিয়ে চিরবৈরী দুই দেশ যুদ্ধেও জড়িয়েছে।

২০১০ সালের হিসাব পর্যন্ত, ভারত কাশ্মীরের ৪৩ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করছে। পাকিস্তান নিয়ন্ত্রণ করছে ৩৭ শতাংশ এবং ২০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে চীনের। ভারতের অংশ প্রশাসিত হচ্ছে ‘জম্মু ও কাশ্মীর’ রাজ্য হিসেবে। পাকিস্তানের অংশ পরিচিত ‘আজাদ কাশ্মীর’ ও ‘গিলগিত-বালতিস্তান’ নামে, আর চীনের অংশ পরিচিত ‘শাকসগম উপত্যকা’ ও ‘আকসাই চীন’ নামে।

ভারতনিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে প্রায়ই নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায় স্থানীয়রা। নয়াদিল্লি মনে করে, ভারতনিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে রাজনৈতিক অস্থিরতার জন্য সন্ত্রাসীদের মদত দেয় পাকিস্তান। আর ইসলামাবাদ মনে করে, ‘স্বাধীনতাকামীদের’ দমিয়ে দিতে সেখানে শক্তিপ্রয়োগ করছে ভারত।

কাশ্মীরে গত এপ্রিলে কয়েক দফায় সংঘর্ষের পর এমন আরেকটি মন্তব্য করেছিলেন আফ্রিদি। তিনি তার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে টুইট করে বলেন, ‘কাশ্মীরে আতঙ্কজনক ও উদ্বেগজনক পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। এজন্য জাতিসংঘের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।’

তারও আগে ২০১৬ সালে আফ্রিদি আরেকটি মন্তব্যে বিতর্কের ঝড় তোলেন। তিনি বলেন, ‘কাশ্মীরের অনেক ভক্তই পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের সমর্থন করে।’

যদিও এজন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আফ্রিদিকে ধুয়ে দেন ভারতীয় সমর্থক ও ক্রিকেটাররা। এমনকি পাকিস্তানের মাটিতে সন্ত্রাস বন্ধে দেশটির ব্যর্থতার কথাও আফ্রিদিকে স্মরণ করিয়ে দেন তারা। 



মন্তব্য