kalerkantho


শ্রীলঙ্কার পার্লামেন্টে এমপিদের হাতাহাতি!

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৫ নভেম্বর, ২০১৮ ২২:২২



শ্রীলঙ্কার পার্লামেন্টে এমপিদের হাতাহাতি!

শ্রীলঙ্কার পার্লামেন্টে এমপিদের মধ্যে আজ হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। দেশটির বহিষ্কার করা প্রধানমন্ত্রী রনিল বিক্রম সিংহের এমপিদের সাথে প্রেসিডেন্ট মাইথ্রিপালা সিরিসেনার নিযুক্ত নতুন প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা রাজাপক্ষ সমর্থিত এমপিদের মধ্যে এ হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে।

খবরে বলা হয়, গতকাল বুধবার অনাস্থা ভোটে হেরে যান শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা রাজাপক্ষ। প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে অনাস্থা ভোটের একদিন পরে আজ বৃহস্পতিবার এ ঘটনা ঘটল। অন্যদিকে সংসদের বাইরেও যুদ্ধাবস্থা বিরাজ করছিল।

শুধুমাত্র কণ্ঠ ভোটের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি অনাস্থা জানিয়ে ক্ষমতাচ্যুত করার অধিকার স্পিকারের নেই বলে শ্রীলঙ্কার বিতর্কিত প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দ রাজাপাকসে দাবি করার পর লঙ্কাকাণ্ড ঘটলো দেশটির পার্লামেন্টে। বৃহস্পতিবার পার্লামেন্টে রাজাপাকসের এই দাবির পর দেশটির সরকারি ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা হাতাহাতি, কিল-ঘুষি ও বোতল ছোড়াছুড়িতে জড়িয়ে পড়েন।

রাজাপাকসে সরকারের বিরুদ্ধে পার্লামেন্টে অনাস্থা ভোট পাস হওয়ার একদিন পর সংসদ সদস্যদের হাতাহাতির এ ঘটনা ঘটলো। বৃহস্পতিবার পার্লামেন্ট অধিবেশন শুরুর পর স্পিকার কারু জয়াসুরিয়া বলেন, দেশে বর্তমানে কোনো সরকার নেই। কোনো প্রধানমন্ত্রীও নেই সেটা রাজাপাকসে অথবা তার কোনো প্রতিদ্বন্দী যিনিই হন না কেন।

স্পিকারের এই মন্তব্যের বিরোধীতা করে রাজপাকসে বলেন, দেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়া উচিত ছিল। এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় শুধুমাত্র কণ্ঠভোটে পাস হওয়া উচিত নয়। তিনি বলেন, দেশের প্রধানমন্ত্রী অথবা মন্ত্রিসভার সদস্য নিয়োগ অথবা ক্ষমতাচ্যুত করার ক্ষমতা স্পিকারের নেই। বুধবার দেশটির পার্লামেন্টে ২২৫ সংসদ সদস্যের মধ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠরা তার বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রকাশ করে।

প্রধানমন্ত্রী রাজাপাকসের বিরুদ্ধে অনুষ্ঠিত ওই অনাস্থা ভোট মেনে নিতে রাজি নন প্রেসিডেন্ট মাইথ্রিপালা সিরিসেনা। 

স্পিকারের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে সিরিসেনা জানিয়েছেন, সংবিধান ও পার্লামেন্টের রীতিনীতি উপেক্ষা করে পার্লামেন্টে ওই অনাস্থা ভোটের আয়োজন করা হয়েছে। তিনি এটি মেনে নেবেন না।

স্পিকারের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ আনেন রাজাপাকসে। তিনি বলেন, স্পিকার তার রাজনৈতিক দল ইউনাইটেড ন্যাশনাল পার্টির প্রতিনিধিত্ব করছেন। ইউনাইটেড ন্যাশনাল পার্টির নেতৃত্বে রয়েছেন দেশটির ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী রনিল বিক্রমা সিংহে।

সঙ্কট নিরসনে নির্বাচনই সর্বোত্তম উপায় উল্লেখ করে দেশটিতে নতুন নির্বাচনের ব্যবস্থা নেয়ার আহ্বান জানান রাজাপাকসে। তার এই আহ্বানের পর বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্যরা পার্লামেন্টে ভোটাভুটির দাবি জানালে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। এসময় রাজাপাকসের দলের সংসদ সদস্যরা পার্লামেন্ট কক্ষের মাঝের দিকে এগিয়ে যান, অনেকে স্পিকারকে গালাগালি করে তার দিকে তেড়ে যান।

পরিস্থিতি সংঘর্ষে রূপ নেয় ইউনাইটেড ন্যাশনাল পার্টির সংসদ সদস্যরা এগিয়ে এলে। সরকারি ও বিরোধীদলীয় প্রায় ৩ ডজন সংসদ সদস্য আঘা ঘণ্টা ধরে হাতাহাতি, কিল-ঘুষিতে জড়িয়ে পড়েন। এসময় রাজাপাকসের পক্ষের সদস্যরা স্পিকার জয়াসুরিয়াকে লক্ষ্য করে পানির বোতল, বই ও ক্যান ছুড়ে মারেন। তবে ইউনাইটেড ন্যাশনাল পার্টির সদস্যরা ঘিরে রাখায় কোনো ধরনের আঘাত পাননি স্পিকার। পরে সংসদ অধিবেশন মূলতবি ঘোষণা করেন জয়াসুরিয়া।

গত ২৬ অক্টোবর প্রেসিডেন্ট মাইথ্রিপালা সিরিসেনা রনিল বিক্রমা সিংহেকে সরিয়ে প্রধানমন্ত্রী পদে রাজাপাকসেকে বসিয়ে দেয়ার পর শ্রীলঙ্কায় গভীর রাজনৈতিক সঙ্কট শুরু হয়।

গত শুক্রবার প্রেসিডেন্ট মাইথ্রিপালা সিরিসেনা সংসদ ভেঙে আগামী ৫ জানুয়ারি আগাম নির্বাচন অনুষ্ঠানের ঘোষণা দিয়েছিলেন। তার এই ঘোষণার পর শ্রীলঙ্কার তিনটি রাজনৈতিক দল প্রেসিডেন্টের সিদ্ধান্তে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টে রিট পিটিশন দায়ের করেছিলেন। মঙ্গলবার সংসদ ভেঙে দিয়ে আগাম নির্বাচন অনুষ্ঠানে প্রেসিডেন্টের নেয়া সিদ্ধান্ত বাতিল করে দিয়েছেন দেশটির সুপ্রিম কোর্ট।



মন্তব্য