kalerkantho


শত বছর আগেও প্লাস্টিক সার্জারি করা হতো

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১২ নভেম্বর, ২০১৮ ১৮:০৫



শত বছর আগেও প্লাস্টিক সার্জারি করা হতো

পছন্দসই নাক, ঠোঁট এমনকি নিতম্বও আজকাল পাল্টে ফেলা যায় ‘প্লাস্টিক সার্জারি’ করে। হলিউড কিংবা বলিউড; তারকাদের কারা কারা ভোল পাল্টাতে ‘লিপ’ বা ‘নোজ জব’ করালেন, তা নিয়ে পেজ থ্রি-তে চর্চাও হয় বিস্তর।

তবে ইতিহাস বলছে, এ ধরনের অস্ত্রোপচার একেবারেই হালের ফ্যাশন নয়। এর শেকড় রয়েছে শত বছর গভীরে।

১১ নভেম্বর, ১৯১৮। আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হয়েছিল প্রথম বিশ্বযুদ্ধ। যুদ্ধ সমাপ্তির সেই শতবর্ষকে স্মরণ করেছেন চিকিৎসক রবার্ট কারবি।

ইংল্যান্ডের কিল বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ক্লিনিকাল এডুকেশন এবং সার্জারি’র এই অধ্যাপক জানান, শত বছর আগে সেই প্রথম বিশ্বযুদ্ধের আমলেই শুরু হয়েছিল এ ধরনের অস্ত্রোপচারের প্রচলন। পরবর্তীকালে ‘প্লাস্টিক সার্জারি’ বা ‘প্রস্টেথিকস’ প্রযুক্তিও এসেছে সেই প্রাচীন গবেষণারই হাত ধরে।

কারবি বলছেন, মূলত যুদ্ধে আহত সেনাদের ক্ষতবিক্ষত চেহারা ঠিক করতেই এ ধরনের অস্ত্রোপচার শুরু হয় ইংল্যান্ডে। অধ্যাপক বলছেন, প্রথম বিশ্বযুদ্ধের শেষে প্রায় সাড়ে সাত লাখ ব্রিটিশ সেনা হাসপাতালে নানা ধরনের চিকিৎসার পরে ছাড়া পেয়ে বাড়ি ফিরেছিলেন।

তাদের মধ্যে প্রায় ১৬ শতাংশের মুখে ছিল ভয়াবহ ক্ষত। মূলত শার্পনেল বা শেলের টুকরো অনেকেরই চেহারার একটা বড় অংশকে পুরোপুরি চেনার অযোগ্য করে দিয়েছিল। হ্যারল্ড গিলিজ নামে নিউজিল্যান্ডের এক ইএনটি চিকিৎসক আহত এই ধরনের সেনার চিকিৎসা করছিলেন ‘ওয়েস্টার্ন ফ্রন্ট’-এ।

তিনিই প্রথম এ ধরনের পুড়ে যাওয়া বা একেবারে ক্ষতবিক্ষত মুখগুলোর উপরে ‘কসমেটিক সার্জারি’ করার প্রয়োজন অনুভব করেন। ১৯১৬ সালে অলডারশটে তৈরি হয় ব্রিটেনের প্রথম প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিট।

কেমব্রিজ সেনা হাসপাতালে আহত ব্রিটিশ সেনাদের মুখে সেই প্রথম ‘স্কিন গ্রাফটিং’ শুরু করেন চিকিৎসক গিলিজ। একেবারে শুরুতে দতুই শতাধিক রোগী আশা করেছিলেন গিলিজ।

কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, সংখ্যাটা তখনই দু’হাজার ছাড়িয়েছে। কোনো আহত সেনার ক্ষতবিক্ষত মুখে দেহের অন্য অংশ থেকে চামড়া নিয়ে মুখে জোড়ার কাজ শুরু হয় সেই সময় থেকেই।



মন্তব্য