kalerkantho


বিশ্বের দীর্ঘতম সেতুর যাত্রা শুরু হলো চীনে

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২৩ অক্টোবর, ২০১৮ ২০:১৫



বিশ্বের দীর্ঘতম সেতুর যাত্রা শুরু হলো চীনে

অবশেষে আনুষ্ঠানিকভাবে খুলে দেওয়া হলো বিশ্বের দীর্ঘতম সেতু। আজ মঙ্গলবার সাগরের ওপর নির্মিত সেতুটির উদ্বোধন করেছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। ফলে ৯ বছর ধরে নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পর আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হলো বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসেতু। এটি তৈরিতে খরচ হয়েছে ২ হাজার কোটি ডলার। সেতুটি শুধু সমুদ্রেরই নয় বরং বিশ্বের স্থলভাগের সেতুগুলোর মধ্যেও দীর্ঘতম। জল ও স্থলে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় সেতু েএটি।

কাল বুধবার থেকে সেতুটি যাতায়াতের জন্য ২৪ ঘণ্টা খোলা থাকবে। এই সেতু দিয়ে ম্যাকাও ও হংকংয়ের যাত্রী ও যানবাহনগুলো সরাসরি বিভিন্ন গন্তব্যে যাতায়াত করতে পারবে। চীনের নদী পার্ল রিভারের ওপর দিয়ে সেতুটি সমুদ্র পার হয়ে চলে গেছে ওপারে।

হংকং থেকে ম্যাকাওয়ে সড়কপথে যাতায়াতে তৈরি এ সেতু ৫৫ (৩৪ মাইল) কিলোমিটার দীর্ঘ। যাত্রাপথে সেতুটি আরও ১১টি বড় শহরকে যুক্ত করেছে। দক্ষিণ চীনের ৫৬ হাজার ৫০০ বর্গকিলোমিটার এলাকার ৬ কোটি ৮০ লাখ মানুষ এ সেতুর সুবিধা পাবে।

এ সেতু চালু হওয়ায় হংকং ও ম্যাকাওয়ের মধ্যে দূরত্ব আড়াই ঘণ্টা কমে এসেছে। আগের তিন ঘণ্টার পথ এখন আধা ঘণ্টায় যাতায়াত করা যাবে।

শক্তিশালী মাত্রার টাইফুন কিংবা ভূমিকম্প প্রতিরোধী এ সেতুটি তৈরি করতে ব্যবহার করা হয়েছে চার লাখ টন স্টিল যা দিয়ে ৬০টি আইফেল টাওয়ার নির্মাণ করা সম্ভব। সেতুটির প্রায় ৩০ কিলোমিটার পার্ল নদীর ওপর দিয়ে গেছে আর জাহাজ চলাচল অব্যাহত রাখার সুবিধার্থে ছয় দশমিক সাত কিলোমিটার রাখা হয়েছে সাগরের নীচে টানেলে এবং এর দু অংশের মধ্যে সংযোগস্থলে তৈরি করা হয়েছে একটি কৃত্রিম দ্বীপ। আর বাকী অংশ সংযোগ সড়ক, ভায়াডাক্ট আর ভূমিতে টানেল যা ঝুহাই ও হংকংকে মূল সেতুর সাথে যুক্ত করেছে।


 
আসলে হংকং, ম্যাকাও এবং আরও নয়টি শহরকে যুক্ত করে একটি বৃহত্তর সাগর সংযোগ এলাকা তৈরি প্রকল্পের অংশ হিসেবে এ সেতু নির্মাণ করেছে চীন।

এর আগে ঝুহাই থেকে হংকং যেতে সময় লাগতো চার ঘণ্টার মতো। সেখানে নতুন এ সেতুর কারণে সেখানে লাগবে মাত্র আধা ঘণ্টা।

তবে চাইলেই সবাই সেতুটি অতিক্রম করতে পারবে না। যারা সেতু পাড়ি দিতে চান তাদের বিশেষ অনুমতি নিতে হবে আর সব যানবাহনকেই টোল দিতে হবে। এ সেতুতে কোনো গণপরিবহণ থাকবে না। তবে যাত্রী ও পর্যটকদের জন্য শাটল বাস থাকবে। কর্তৃপক্ষ আশা করছেন দিনে প্রায় নয় হাজার দুশো যানবাহন এ সেতু দিয়ে চলাচল করবে।

এই সেতুতে চলতে হলে প্রাইভেট কারকে বিশেষ অনুমতি নিতে হবে। সেতুটি ব্যবহারের ক্ষেত্রে পর্যটকদের সুবিধার কথা চিন্তা করে ম্যাকাও ও ঝুহাইয়ের মধ্যে কাস্টমস ক্লিয়ারেন্স বা ছাড়পত্র নিতে হবে। শুল্কের মাধ্যমে এই ব্রিজ থেকে প্রতিবছর আয় হবে ৮ কোটি ৬০ লাখ ডলার।

সেতুটি অতিক্রম করার সময় গাড়ি চালকদের হার্টরেট ও রক্তচাপ মনিটর করা হবে সেতুটির কন্ট্রোল সেন্টার থেকে। সেতুটিতে পর্যবেক্ষণ ক্যামেরাও লাগানো আছে। কোনো চালক যদি গাড়ি চালানো অবস্থায় ২০ সেকেন্ডের মধ্যে তিনবারের বেশি হাই তোলে তখন ‘ইয়োন ক্যাম’ এর মাধ্যমে সতর্ক করা হবে ওই চালককে।

সেতুটি চীনের স্বায়ত্ত্বশাসিত দুটি দ্বীপরাষ্ট্র হংকং এবং ম্যাকাউকে চীনের ১১টি শহরের সঙ্গে যুক্ত করেছে। এর কয়েক সপ্তাহ আগে হংকংয়ের সঙ্গে উচ্চগতির রেললাইন উদ্বোধন করা হয়েছে। ফলে অনেকে বলছেন, চীনের এই সেতুর পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যও আছে। আর তা হলো হংকং ও ম্যাকাউ যাতে স্বাধীনতা ঘোষণা করে বিচ্ছন্ন হয়ে যেতে না পারে।



মন্তব্য