kalerkantho


যুবরাজের নির্দেশেই খাশোগিকে হত্যা : নিউইয়র্ক টাইমস

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৯ অক্টোবর, ২০১৮ ১৮:৫৪



যুবরাজের নির্দেশেই খাশোগিকে হত্যা : নিউইয়র্ক টাইমস

জেনারেল আহমেদ আল-আসিরি

সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের নির্দেশেই জেনারেল আহমেদ আল-আসিরির নেতৃত্ত্বে সাংবাদিক জামাল খাশোগিকে হত্যা করা হয়েছে। এমনটাই খবর প্রকাশ করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস। সৌদি কর্তৃপক্ষও বিষয়টি স্বীকার করে নিতে চলেছে বলে দাবি করেছে মার্কিন পত্রিকাটি।

এ অবস্থায় রাজপরিবারের সুনাম ক্ষুণ্ণ হওয়ায় যুবরাজ সালমানকে সরিয়ে তার ছোট ভাই খালিদকে দায়িত্ব দেয়ার কথা ভাবা হচ্ছে। 

এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলছেন, খাশোগি হত্যায় জড়িতদের চরম পরিণতি ভোগ করতে হবে।

তুরস্কের পত্রিকাগুলোর প্রথম পাতায় সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের ঘনিষ্ঠ এক সহযোগীর ছবি প্রকাশ পেয়েছে। 

শিরোনামে লেখা হয়েছে, সাংবাদিক জামাল খাশোগি ইস্তাম্বুলের সৌদি কনস্যুলেটে প্রবেশের সময় ওই ব্যক্তিকে সেখানে দেখা গেছে। এ নিয়েই এখন থমথমে পরিস্থিতি বিরজ করছে পুরো ইস্তাম্বুলে।

এক তুর্কি নাগরিক বলেন, ‘একমাত্র সৌদি আরব সরকারই বলতে পারবে কীভাবে সাংবাদিক জামাল খাশোগিকে হত্যা করা হলো। আমরা সাধারণ মানুষ এ নিয়ে চিন্তিত।’

এ অবস্থায় খাশোগিকে হত্যার পেছনে যুবরাজের আরেক ঘনিষ্ঠজন জেনারেল আহমেদ আল-আসিরির নাম প্রকাশ করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস।

তাদের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, সৌদি কর্তৃপক্ষ দ্রুতই খাশোগি হত্যায় আসিরির সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি স্বীকার করবে। জেনারেল আহমেদ আল-আসিরি ইয়েমেনে হামলা চালানো সৌদি জোটের মুখপাত্র হিসেবে ইতোপূর্বে দায়িত্ব পালন করেছেন। যুবরাজ সালমানের নির্দেশেই খাশোগিকে তিনি হত্যা করেন বলে ওই প্রতিবেদনটিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

খাশোগির হত্যাকাণ্ডে সৌদি যুবরাজ সালমানের নাম জোরালোভাবে উঠে আসায় রাজপরিবারের সুনাম ক্ষুন্ন হচ্ছে, ফলে তাকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়া হতে পারে বলে জানিয়েছে ফরাসি সংবাদপত্র ‘লি ফিগারো’।

রাজপরিবার কর্মকর্তাদের সূত্রে সংবাদমাধ্যমটি এ-তথ্য প্রকাশ করে। বর্তমান যুবরাজ সালমানের ছোট ভাই খালিদকে এ-পদের জন্য ভাবা হচ্ছে বলেও জানায় তারা। খালিদকে সালমানের চেয়ে কম উচ্চাভিলাষী বলে ওই প্রতিবেদনে আখ্যা দেয়া হয়েছে।

এর মধ্যেই দুইদিনের রিয়াদ ও আঙ্কারা সফর শেষে ওয়াশিংটনে ফিরেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও। সফরে তিনি সৌদিকে খাশোগি ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর অবস্থানের কথা জানান। আর তুর্কি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে জানেন। 

পাশাপাশি মৃত্যুর পূর্বে খাশোগির অডিও রেকর্ডও শুনেছেন পম্পেও। এসব বিষয়ে তিনি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে খোলামেলা আলাপ করেছেন। পরে ট্রাম্প সাংবাদিকদের কাছে খাশোগির বিষয়ে কথা বলেন।

ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘আমার কাছেও এখন মনে হচ্ছে ওই সাংবাদিককে হত্যা করা হয়েছে। এটা খুবই দুঃখজনক ঘটনা। যারা এ-জন্য দায়ী তাদের চরম পরিণতি ভোগ করতে হবে। যা হয়েছে খুব খারাপ হয়েছে। তবে আসলেই কী ঘটেছে তা আমরা দেখবো। আলাদা আলাদা তদন্ত কার্যক্রম চলছে। এর আলোকে যুক্তরাষ্ট্র শিগগিরই তাদের অবস্থান পরিষ্কার করে বিবৃতি দেবে। সেটুকু সময় পর্যন্ত আমাদের অপেক্ষা করতে হবে।’

তদন্ত কার্যক্রম জারি থাকায় আগামী সপ্তাহে রিয়াদে অনুষ্ঠেয় বিনিয়োগকারীদের সম্মেলন বয়কট করেছে যুক্তরাষ্ট্র। সম্মেলনে না যাওয়ার ঘোষণা এসেছে ব্রিটেন, ফ্রান্স ও নেদারল্যান্ডসের পক্ষ থেকেও।

এরমধ্যেই তুরস্কের তদন্ত দল আশঙ্কা প্রকাশ করেছে, খাশোগিকে হত্যার পর তার মরদেহ ৯০ কিলোমিটার দূরের জঙ্গলে কিংবা কোনো খামার বাড়িতে পুঁতে রাখা হয়েছে। সম্ভাব্য ওই সব এলাকায় তল্লাশি অব্যাহত রেখেছে পুলিশ। তবে অমন্যাস্টি ইন্টারন্যাশনাল, হিউম্যান রাইটস ওয়াচ, রিপোর্টার্স ইউথাউট বডার্সসহ বেশ কয়েকটি মানবাধিকার সংগঠন খাশোগির হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে জাতিসংঘকে স্বাধীন তদন্ত করার আহ্বান জানিয়েছে।



মন্তব্য