kalerkantho


কলকাতায় সেতুধস নিয়ে সাধারণের মধ্যে আতঙ্ক

অনিতা চৌধুরী, কলকাতা প্রতিনিধি   

১৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ১৯:১২



কলকাতায় সেতুধস নিয়ে সাধারণের মধ্যে আতঙ্ক

ফাইল ছবি।

চলতি বছরের ৪ সেপ্টেম্বর কলকাতার মাঝেরহাট উড়ালসড়ক ধসের ঘটনার পর বেশ কয়েকদিন পেরিয়ে গেলেও সেখানকার পথ চলতি মানুষের মনে সেতু নিয়ে শঙ্কার যেন শেষ নেই।

সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ঘুরছে অনেক জোকস, যা নিয়ে হাসাহাসি চলছে। কিন্তু যে কোনো সেতুতে উঠলে কিংবা নীচ দিয়ে যাওয়ার সময় অনেক মানুষেরই বুক কাঁপছে।

শিয়ালদহ উড়ালসড়কের নীচে বসে থাকা ফল বিক্রেতা কালের কণ্ঠকে বলেন, ভয় তো একটু করই ... উপরের ব্রিজ দিয়ে ট্রাক যাওয়ার সময় যেভাবে আওয়াজ হয়, তাতে মাঝে মাঝে মনে হয় ভেঙে পড়বে না তো?

শহরের অদূরে সোদপুরের বাসিন্দা বিমল মণ্ডল প্রায় গত ১৫ বছর ধরে শিয়ালদহ উড়ালসড়কের নীচে বসে ফল বিক্রি করেন। কিন্তু মাঝেরহাট সেতু ধসের পরে তার মাঝেমাঝেই ভয় হয়, যদি মাথার উপরে ভেঙে পড়ে এই সেতু।

গত কয়েক বছরে কলকাতায় ভেঙেছে তিনটি সেতু। উল্টোডাঙ্গার নব নির্মিত উড়ালসড়ক, পোস্তাতে নির্মায়মান উড়ালসড়ক এবং অতি সম্প্রতি মাঝেরহাট উড়ালসড়ক।

মাঝেরহাট সেতু ধসের পর পশ্চিমবঙ্গের পূর্তদপ্তর একটি সমীক্ষা চালায় এবং তাতে বলা হয় শহর এবং তার আশেপাশে ২০টি সেতুর অবস্থা ভালো নয়। এগুলোর মধ্যে সাতটি সেতু 'মোস্ট ভালনারেবল' হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

এই সাতটি হলো বিজন সেতু, গৌরিবাড়ি অরবিন্দ সেতু, বেলগাছিয়া সেতু, টলিগঞ্জ সার্কুলার রোড ব্রিজ, ঢাকুরিয়া ব্রিজ, তালাহ ব্রিজ এবং সাঁতরাগাছি ব্রিজ।

বেসরকারি একটি সংস্থায় কর্মরত সুবর্ণ সাহা বলেন, শহরের উত্তর দক্ষিণ বা পশ্চিম, যে দিকেই যান না কেন, আপনাকে এই উড়ালসড়ক ব্যবহার করতেই হবে। ভয় কেন করবে না?
 
এই ভয় এমন আকার ধারণ করেছে যে, অনেক জায়গাতেই অটোরিক্সা চালকরা উড়ালসড়কের নিচে অটোরিক্সা রাখছেন না। শহরের অনেক জায়গায় যারা উড়ালসড়কের নীচে গাড়ি পার্ক করতেন, তারাও অন্য জায়গা খুঁজছেন।

সেতু নিয়ে এই ভয় কিন্তু বিশেষজ্ঞদের অবাক করছে না। উন্নত দেশগুলোতেও অনেক মানুষ এই ভয়ে থাকেন। পোশাকিভাষায় সেতু নিয়ে ভয়ের একটা নাম আছে, জেফিরোফবিয়া; গ্রিক ভাষায় 'জেফিরো' অর্থ ব্রিজ, আর 'ফবোস' অর্থ ভয়।
 
'ব্রিজ ভাঙার ঘটনা সদ্য ঘটেছে, আর লোকজন এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করছেন, তাই কিছু মানুষ  ভয় পাচ্ছেন ... কিন্তু আর কোনো অঘটন না ঘটলে, কিছুদিনের মধ্যে এই ভয় অনেকটাই কেটে যাবে' বলেছেন এক মনোরোগ বিশেষজ্ঞ।

বিষয়টি বেশ ভালোভাবেই দেখছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। এই ঘটনা নিয়ে রাজনৈতিক টানাপোড়নও চলছে। বিরোধী দলগুলো আক্রমণ করছে তৃনমূল সরকারকে।

তাই রাজ্য সরকারের তরফ থেকে জোর কদমে এই ব্রিজগুলোকে ঠিক করার কাজ শুরু হয়েছে। সরকার ইতোমধ্যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, মাঝেরহাট সেতুটি সম্পূর্ণ ভেঙে ফেলা হবে এবং এক বছরের মধ্যে একটি নতুন সেতু তৈরি করা হবে।



মন্তব্য