kalerkantho


বিদেশে পড়ছে মেয়ে, ১৩ জন ব্যক্তিগত কর্মী চেয়ে বিজ্ঞাপন

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ২২:৫৫



বিদেশে পড়ছে মেয়ে, ১৩ জন ব্যক্তিগত কর্মী চেয়ে বিজ্ঞাপন

কয়েক মাস আগের এক বিজ্ঞাপন নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়েছিল সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে। ওই বিজ্ঞাপনে বলা হয়েছিল, মালিককে ঘুম থেকে তোলার জন্য কর্মী চাই!

কিন্তু কার জন্য এমন বিজ্ঞাপন, সেই প্রশ্নেই সরগরম ছিল। জানা গেছে, এক ভারতীয় কোটিপতির মেয়ে সবে ভর্তি হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ে। তার যেন কোনো রকম অসুবিধা না-হয়, সে জন্যই এত আয়োজন!

স্কটল্যান্ডের সেন্ট অ্যান্ড্রুজ বিশ্ববিদ্যালয়ে পা রেখেছে ওই মেয়ে। এক সময় এই বিশ্ববিদ্যালয়েরই শিক্ষার্থী ছিলেন ডিউক ও ডাচেস অব কেমব্রিজ উইলিয়াম ও কেট। কিন্তু সেই সময় উইলিয়ামও আর পাঁচজনের মতো খুব সাধারণভাবেই থাকতেন। তাই ভারতীয় কোটিপতি-কন্যার জন্য এমন আয়োজনে হতভম্ব অনেকেই।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষের ওই ছাত্রী বরাবরই বিলাসবহুল জীবনে অভ্যস্ত। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার  জন্য কি সেসব ছাড়তে হবে তাকে? এটা তো আর কয়েক মাসের ব্যাপার নয়! পুরো চার বছর বিশ্ববিদ্যালয়ে কাটাতে হবে। কিন্তু এতদিন থাকতে গেলে সহপাঠীদের সঙ্গে তো ঘর শেয়ার করতে হবে! এমনকি নিজের কাজ নিজেকেই করতে হবে!

মেয়ের এ রকম অসুবিধায় এগিয়ে আসে পরিবারই। বাড়ির আদরের মেয়ের যেন কষ্ট না-হয়, সে জন্যই বিলাসবহুল জীবন যাপনের এলাহি আয়োজন। প্রথমেই সেন্ট অ্যান্ড্রুজ বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছাকাছি একটি বিশাল বাড়ি কিনে ফেলেছে পরিবারটি। মাঝেমধ্যে সেখানে গিয়ে মেয়েকে সঙ্গ দেবেন তার বাবা-মা-ভাই।

কিন্তু মেয়ের কাজ কে করবে? তার জন্যই তো নিয়োগ করা হয়েছে ১৩ জন কর্মীকে। আর এই কর্মী নিয়োগ করার জন্যই যোগাযোগ করা হয়েছিল এক অভিজাত নিয়োগকারী সংস্থা ‘সিলভার সোয়ান’-এর সঙ্গে। তারা একটি বিজ্ঞাপন দিয়েছিল, শহরতলিতে ঘরের কাজের জন্য ১৩ জন অভিজ্ঞতাসম্পন্ন কর্মী চাই। বেতন বছরে ৩০ হাজার পাউন্ড।

এখানেই শেষ নয়, বিজ্ঞাপনে বলা হয়, ঘরের কাজের নারীকর্মীকে কর্মশক্তিতে ভরপুর, উচ্ছল হতে হবে। ওই নারীকর্মীর কাজ হলো রুটিন অনুযায়ী অন্য কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ করা, ওয়ারড্রোব গ্রুমিং ও মেয়েটির ব্যক্তিগত শপিংয়ে সাহায্য করা। শুধু তা-ই নয়, মেয়েটির ঘুম থেকে উঠে ক্লাসে যেতে দেরি না-হয়ে যায়, সে কারণে তাকে ঠিক সময়ে ঘুম থেকে উঠিয়ে দেওয়াটাও নারীকর্মীর কাজের মধ্যে পড়বে।

আর খাওয়া-দাওয়া? সে বিষয়েও অভিজ্ঞতা সম্পন্ন শেফ খুঁজেছে পরিবারটি। বিজ্ঞাপনে বলা হয়েছিল, ওই ছাত্রীর জন্য রান্না করতে যারা ইন্টারভিউ দেবেন, তাদের ভারতীয় খাবার রান্না করতে জানতে হবে। বিশেষ করে, দক্ষিণ ভারতীয় খাবার। এ ছাড়াও, চাইনিজ ও ইতালীয় খাবারদাবার বানানোতে দক্ষ হতে হবে শেফকে। এ ছাড়া, সাহায্যকারী কর্মীদের দলে থাকছেন এক জন মালি, এক জন গাড়ির চালক ও এক বাটলার।

কে সেই কোটিপতি কন্যা, তা নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমেও। কারণ কোনো সংবাদমাধ্যমেই এখনো মেয়েটি বা তার কোটিপতি বাবার নাম প্রকাশ হয়নি। তবে কয়েকটি সংবাদমাধ্যম মজা করেই পাঠকদেরই প্রশ্ন করছে, কে ওই ছাত্রী? আপনারাই অনুমান করে দপ্তরে ই-মেইল করুন।



মন্তব্য