kalerkantho


জেলায় জেলায় হ্যান্ডবিল বিতরণ

'বাংলাদেশি মুসলিম' তাড়াতে নাগরিক তালিকার দাবি বিজেপির

অনিতা চৌধুরী, কলকাতা প্রতিনিধি   

১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ১৬:২০



'বাংলাদেশি মুসলিম' তাড়াতে নাগরিক তালিকার দাবি বিজেপির

লোকসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে পশ্চিমবঙ্গে ন্যাশনাল রেজিস্ট্রার ফর সিটিজেনস (এনআরসি) বা নাগরিক তালিকার দাবি তুলে ধরতে এবার জেলায় জেলায় হ্যান্ডবিল বিতরণ শুরু করেছে ভারতের ক্ষমতাসীন পার্টি বিজেপি।

চার পাতার হ্যান্ডবিলটির মূল বক্তব্য হলো 'বাংলাদেশ থেকে আসা' মুসলিমদের ফেরত পাঠাতে হবে।

হ্যান্ডবিলে বলা হয়েছে, ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও উত্তরবঙ্গকে যদি ইসলামি মৌলবাদী আধিপত্য ও দখলের হাত থেকে বাঁচাতে হয় তবে এনআরসি করে 'বাংলাদেশি মুসলমান'দের চিহ্নিত করে তাদেরকে বিতাড়িত করতে হবে।

এতে আরও বলা হয়েছে, বিজেপি উদ্বাস্তু এবং অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের মধ্যে ফারাক বোঝে,  তাই বাংলাদেশ, আফগানিস্তান বা পাকিস্তান থেকে আসা হিন্দু, শিখ, খ্রিস্টান, জৈন বা পারসিদের কোনোভাবেই ক্ষতি হবে না, কারণ ২০১৫ সালে পাসপোর্ট ও বিদেশি আইন সংশোধন করা হয়ে গেছে । খুব শিগগির নাগরিকত্ব বিল পার্লামেন্টে পাস করানো হবে।

বিজেপি নেতা রাহুল সিংহ বলেন, 'আমরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে হ্যান্ডবিল বিলি করছি এবং মানুষকে বোঝাচ্ছি পশ্চিমবঙ্গে কেন এনআরসি দরকার।'

এই ধরনের হ্যান্ডবিল পশ্চিমবঙ্গে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে কি-না এমন প্রশ্নের জবাবে রাহুল সিংহ বলেন, 'আমরা পশ্চিমবঙ্গের মুসলিমদের বোঝাচ্ছি 'বাংলাদেশ থেকে' আরও বেশি মুসলিম আসলে আপনাদের ক্ষতি, কারণ আপনাদের জন্য কেন্দ্রীয় সরকার যে প্রকল্প পরিচালনা করে তার দাবিদার হয়ে যাবে আরও বেশি মানুষ।'

যদিও বিজেপির হ্যান্ডবিলে পশ্চিমবঙ্গে এনআরসি চালু করার পক্ষে অনেক যুক্তি দেখানো হয়েছে। এক রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকের মতে, এই প্রচার আসলে ভোটের আগে মমতা ব্যানার্জিকে বিপদে ফেলার চেষ্টা।

উত্তরপূর্ব রাজ্য আসামে নাগরিকদের তালিকা থেকে ৪০ লাখ মানুষের নাম বাদ যাওয়ার পর এনআরসি নিয়ে প্রতিবাদ শুরু হয়েছে যার নেতৃত্ব দিচ্ছেন মমতা। পশ্চিমবঙ্গের মানুষকে তিনি অভয় দিয়ে বলেছেন, এই রাজ্যে এনআরসি চালু করতে দেবেন না তিনি। মমতা আরও বলেছেন, বাঙালিদের ওপর এই অবিচারের বিরুদ্ধে তাঁর দল দেশব্যাপী আন্দোলন করবে।

কলকাতার এক রাষ্ট্রবিজ্ঞানী বলেন, 'এনআরসি নিয়ে মমতার অবস্থান তাঁকে বাঙালিদের কাছে বিশেষত মুসলিমদের কাছে আরও বেশি জনপ্রিয় করে তুলছে। সেই জনপ্রিয়তা বিজেপির মাথাব্যথার কারণ। এ কারণে বাঙ্গালিদের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টির জন্য বিজেপি এই এনআরসির জিগির তুলেছেন।

ইতোমধ্যে বিজেপির নেতৃত্ব লোকসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গে ৪২টি আসনের মধ্যে ২২টি আসন পাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে, আর অনেক নেতাই মনে করেন যে হিন্দু-মুসলিম বিভাজন করতে পারলেই সেই লক্ষ্য পূরণ হবে।

ওই রাষ্ট্রবিজ্ঞানী আরও বলেন, 'আসামের নাগরিক তালিকা  প্রকাশের পর যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, সেই পরিস্থিতিতে বিভাজনের রাজনীতি করার চেষ্টা চালাচ্ছে বিজেপি।'

বিজেপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এনআরসি'র বিরোধিতার অর্থ হলো বাংলাদেশ থেকে অবৈধ অনুপ্রবেশ সমর্থন করা। আর অবৈধ অনুপ্রবেশের বিষয়টি প্রচার করেছে বিজেপি। দলটির পক্ষ থেকে যদিও অবৈধ অনুপ্রবেশকারীর সংখ্যা কত তা নিয়ে কোনও  হিসেব দেওয়া হয়নি।

তবে পশ্চিমবঙ্গে এনআরসি'র কাজ কীভাবে শুরু হবে তা নিয়ে হ্যান্ডবিলে কিছু বলা নেই।

তৃণমূলের এক মন্ত্রী বলেন, আসামের নাগরিক তালিকার কাজ সুপ্রিম কোর্টের তত্ত্বাবধানে হয়েছিল। বিজেপি চাইলেই এনআরসি'র কাজ পশ্চিমবঙ্গে শুরু করতে পারবে না। তাঁরা এনআরসি'র কথা বলে শুধু রাজনৈতিক ফায়দা আদায়ের চেষ্টা করছেন।



মন্তব্য