kalerkantho


সরকারের পছন্দ নয় এমন ওয়েবসাইটে ভিজিট করলেও শাস্তি!

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৯ আগস্ট, ২০১৮ ১৮:০০



সরকারের পছন্দ নয় এমন ওয়েবসাইটে ভিজিট করলেও শাস্তি!

মিশরে রাস্তার আন্দোলন একেবারেই বন্ধ। মানুষ ইন্টারনেটে যা একটু ভিন্ন মত প্রকাশ করতে পারত। এখন সেখানেও হাত দিয়েছে দেশটির সরকার।

ইন্টারনেটের ওপর সরকারি নিয়ন্ত্রণ নিরঙ্কুশ করতে দেশটির সেনাপ্রধান থেকে প্রেসিডেন্ট হওয়া আব্দেল ফাত্তাহ আল সিসি নতুন একটি আইনে সম্মতি দিয়েছেন। ‘সাইবার ক্রাইম ঠেকাতে’ বানানো ওই আইনের বলে ‘জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে’ যে কোনও ওয়েবসাইট ব্লক করতে পারবে মিশর সরকার।

আর যারা এসব ওয়েবসাইট পরিচালনায় জড়িত তাদের জন্য শাস্তির বিধান তো রয়েছেই, সেই সঙ্গে যারা সংশ্লিষ্ট সাইট ভিজিট করেছেন তাদের জন্যও দণ্ডের বিধান রাখাহয়েছে নতুনআইনে!

ফেসবুকের জনপ্রিয় পেজ পর্যবেক্ষণে রাখার বিষয়েও সিসি সরকার আইন পাস করেছে।

নতুন আইনের বিষয়ে সিসি সরকারের বক্তব্য, অস্থিরতা ও জঙ্গিবাদ ঠেকানোর জন্য এমন আইনের দরকার।

অপরদিকে মানবাধিকার কর্মীরা অভিযোগ করেছেন, সরকার রাজনৈতিক ভিন্নমত দমনের হাতিয়ার হিসেবে প্রণয়ন করেছে ওই আইন।

কায়ররোভিত্তিক সংগঠন ‘ফ্রিডম অব থটস অ্যান্ড এক্সপ্রেশন’ জানিয়েছে, আইনটি পাস হওয়ার আগেই ৫০০ ওয়েবসাইট ব্লক করে দিয়েছে মিশর সরকার।

ওয়েবসাইটের পাশাপাশি ফেসবুক পেজ নিয়ন্ত্রণ করতেও আগ্রহী মিশরেরে সিসি সরকার।

দেশটির সংসদে পাস হওয়া আরেকটি যে আইন প্রেসিডেন্টের সম্মতির অপেক্ষায় রয়েছে তাতে বলা হয়েছে, পাঁচ হাজার ফলোয়ার থাকা পেজকে নজরদারির মধ্যে রাখা হবে।

মিশরে কর্মরত বিবিসির সংবাদদাতারা মন্তব্য করেছেন, দেশটিতে রাস্তার আন্দোলন একেবারেই বন্ধ। মানুষ ইন্টারনেটে যা একটু ভিন্ন মত প্রকাশ করতে পারে। এখন সেখানেও হাত দিয়েছে সরকার।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচ মিসর সরকারের কর্মকাণ্ডের বিষয়ে গত মাসে দেওয়া এক বিবৃতে বলেছে, শান্তিপূর্ণভাবে সমালোচনা করলেও সাংবাদিক, অধিকার কর্মী এবং সমালোচকদের বিরুদ্ধে  সরকার জরুরি আইন এবং আদালতকে অনৈতিকভাবে ব্যবহার করছে। 

সম্প্রতি মিসরে যারা গ্রেপ্তার হয়েছেন তাদের মধ্যে রয়েছেন, বিখ্যাত ব্লগার এবং মানবাধিকার কর্মী ওয়ায়েল আব্বাস, আমাল ফাতেহ এবং সাদি আবু জেইদ।



মন্তব্য