kalerkantho


নিজ বাড়িতে ঘুম ভাঙল থাইল্যান্ডের 'গুহা-বালকদের'

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৯ জুলাই, ২০১৮ ১৬:৫৪



নিজ বাড়িতে ঘুম ভাঙল থাইল্যান্ডের 'গুহা-বালকদের'

মন্দিরে প্রার্থনারত অবস্থায় তারা

এমন দিনের আশা হয়তো একটা সময় স্বপ্ন বলে ভাবতে শুরু করে তারা। অন্ধকার এক গুহায় দিনের পর দিন আটকে থাকলে বাড়ি ফেরার আশা সাহসী প্রাপ্তবয়স্কের কাছেই স্বপ্ন মনে হবে। আর ওরা তো বাচ্চা ছেলে। তবে অনেক অজানা ঘটনা আর উত্তেজনাকর সময় পার করে তারা আলোর মুখ দেখেছে। শুধু তাই নয়, গত তিন সপ্তাহেরও বেশি সময় পর এই প্রথম নিজ বাড়িতে ঘুম ভাঙল তাদের। এদের অনেকেই আবার ভোরে উঠে প্রার্থনাও সেরেছে। 

গত বুধবার তাদের সবাইকে উত্তর প্রদেশের চিয়াং রাই শহরের এক হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেয়া হয়েছে। ১১ থেকে ১৬ বছর বয়সী ১২ জন কিশোর আর তাদের ২৫ বছর বয়সী কোচকে চিকিৎসা দেয়া হয়। এর পর তারা প্রথমবারের মতো জনসমক্ষে আসে। 

টেলিভিশন ব্রডকাস্টে তারা হেসেছে, কৌতুক করেছে এবং একের প্রতি অন্যের আস্থা ও ভালোবাসা প্রকাশ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। বন্যায় ভাসা থাম লুয়াং গুহায় তারা যে ভয়ংকর অভিজ্ঞতা লাভ করেছে তা শেয়ার করেন সবার সঙ্গে। 

বাড়িতে ফেরার পর সবাই যার পর নাই খুশি। বাড়ির ছেলে বাড়ি ফিরেছে বলে কথা। কেউ জড়িয়ে ধরেছেন। কেউ চোখের পানি ফেলেছেন। কেউ হাসিমুখে বরণ করেছেন তাদের। কেউবা বাড়িতে ঢোকার সময় পবিত্র পানি দিয়ে তাদের আগমণকে শুভ করেছেন। 

বৃহস্পতিবার ছেলেদের বেশ কয়েকজন এবং তাদের আত্মীয়-স্বজনরা প্রাচীন মন্দির মায়ে সাইয়ের ওয়াট ফা থাট দোই ওয়াও-এ প্রার্থনায় যান। শহরের বাইরে অসাধারণ প্রাকৃতিক দৃশ্য এই মন্দিরকে ঘিরে। সেখানে তাদের কাছে ভিড়তে দেয়া হয়নি সাংবাদিকদের। তারা একান্তে সময় কাটিয়েছেন সেখানে। 

গুহায় আটকা পড়েছিলেন মোট ১৩ জন। শেষের দলকে বের করে আনা হয় গত মঙ্গলবার। এক টানটান উত্তেজনাকর উদ্ধারাভিযানের পর তারা নতুন জীবন ফিরে পায়। কিন্তু এতে সাবেক থাই নেভি সিল এবং স্বেচ্ছাসেবী ডাইভার হিসেবে উদ্ধারাভিযানে অংশ নেয়া সামার্ন কুনানকে জীবন দিতে হয়। গুহার গভীরে অক্সিজেন সিলিন্ডার পৌঁছানোর মিশনে নেমে গত ৬ জুলাই জ্ঞান হারান এবং মৃত্যুবরণ করেন। 

টেলিভিশন অনুষ্ঠানে বসে ছেলেরা জানায়, ফুটবল প্র্যাকটিসের পর গত ২৩ জুন এক ঘণ্টার জন্যে গুহায় ঘুরতে যায় তারা। কিন্তু বর্ষা মৌসুম তখন। গুহায় পানি জমে আটকা পড়ে সবাই। তাদের কাছে কোনো খাবার ছিল না। বেঁচে থাকার একমাত্র অবলম্বন খাবার পানি। গুহার দেয়ালের এখানে-সেখানে খোঁড়ার চেষ্টা করে তারা। যদি কোনো পথ বেরিয়ে আসে। 

'আমরা গুহার স্ট্যালাকটাইট (পাথুরে ছাদ থেকে পানি চুইয়ে পড়তে পড়তে তা একসময় বরফের মতো জমে যায়, ক্যালসিয়াম লবণের কারণে এই অবস্থা হয়) থেকে পানি খেয়েছি, বললো ১৬ বছর বয়সী প্রঞ্চাই কামলুয়াং। তখন তাদের কোচ একাপোল চ্যানথাওং তাদের শক্তি সঞ্চয়ের জন্যে বেশি চলাফেরা করতে না করেন। 

'এই অভিজ্ঞতা আমাকে আরো শক্তিশালী করে তোলে এবং নতি স্বীকার না করার শিক্ষা দিয়েছে', বলে এই খুদে বীর। তার নাম দেয়া হয়েছে টাইটান। 

ইতিমধ্যে উদ্ধারাভিযানে প্রাণ দেয়া ডুবুরির সম্মানে নির্দিষ্ট সময়ের জন্যে তারা নব্য বৌদ্ধ সন্নাসী হিসেবে জীবনযাপন করছে। 
সূত্র: রয়টার্স    



মন্তব্য