kalerkantho


ইমরান খানকে সহায়তার অভিযোগ অস্বীকার পাকিস্তান সেনাবাহিনীর

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৯ জুলাই, ২০১৮ ১৬:৪৫



ইমরান খানকে সহায়তার অভিযোগ অস্বীকার পাকিস্তান সেনাবাহিনীর

দেশটির সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপেই হতে চলেছে পাকিস্তানের সাধারণ নির্বাচন। অন্যতম বিরোধী নেতা ইমরান খানকে সাহায্য করছে সেনাবাহিনী। এমনই বিস্ফোরক মন্তব্য করে ফের বিতর্ক শুরু করলেন পাকিস্তানের সংবাদপত্র ‘দ্য ডন’-এর সিইও। এই সংবাদপত্র পাকিস্তানের জাতীয় পত্রিকার মর্যাদা পায়। ফলে পত্রিকার কার্যনির্বাহী কর্মকর্তা হামিদ হারুনের মন্তব্যে রাজনৈতিক মহল প্রবলভাবে আলোড়িত হচ্ছে। ২৫ শে জুলাই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে পাকিস্তানে।

বিবিসির বিখ্যাত ‘হার্ড টক’ অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয় হারুন হামিদকে। সেখানে তিনি বলেন, সেনাবাহিনী প্রাক্তন ক্রিকেটার ইমরান খান এবং তার দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফকে সাহায্য করছে। আগেই অভিযোগ উঠেছে, সাধারণ নির্বাচনের আগে ডন সহ কয়েকটি পত্রিকা সেনাবাহিনীর হুমকি পেয়েছে। অভিযোগ, ডন সংবাদপত্র ২০১৬ সালের শেষের দিক থেকে আক্রমণের শিকার হচ্ছে।

যদিও পাল্টা অভিযোগে ডনের সিইও বিদ্ধ হতে শুরু করেছেন। বলা হয়েছে, সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে নির্বাচনে হস্তক্ষেপ সম্পর্কে তথ্যপ্রমাণ দিতে পারেননি হারুন হামিদ। তবে এই বিতর্কে তিনি পাশে পেয়েছেন দেশের আরও কয়েকজন সাংবাদিককে। বিতর্ক উসকে দিয়ে ইমরান খানের পাল্টা অভিযোগ, তার দলের বিরুদ্ধে ডন পত্রিকা বিরুদ্ধচারণ করেছে।

স্বাধীনতার পর থেকে পাক জাতীয় নির্বাচনে সেনার ভূমিকা নিয়ে বারবার প্রশ্ন উঠেছে। বলা হয়, পাকিস্তানে গণতন্ত্রকে নিয়ন্ত্রণ করে সেদেশের সেনা কর্মকর্তারা। বারবার সেনা শাসন কায়েম হয়েছে সেই দেশে।

ওদিকে সাধারণ নির্বাচনে সেনাবাহিনীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠায় যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, সেই বিতর্কে জল ঢালতে বৃহস্পতিবার সাংবাদিক সম্মেলন করল পাকিস্তান সেনাবাহিনী। তাতে দাবি করা হয়েছে, কোনও পরিস্থিতিতেই গণতন্ত্রকে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে না।

পাকিস্তান সেনাবাহিনীর জনসংযোগ বিভাগ ডিজি মেজর জেনারেল আসিফ গাফুর জানিয়েছেন, দেশজুড়ে ছড়িয়েছে গুজব। এতে সেনাবাহিনীর ভাবমূর্তি কালিমালিপ্ত হচ্ছে। নির্বাচনে সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপের বিষয়টি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।

যদিও বিভিন্ন সময়ে দেখা গিয়েছে, পাকিস্তানের নির্বাচনে সরাসরি হস্তক্ষেপ করেছে সেনাবাহিনী। আগামী ২৫ জুলাই অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে নির্বাচন।

সেনা কর্মকর্তা আসিফ গাফুর জানিয়েছেন, নির্বাচনে সেনাবাহিনীর দায়িত্বে থাকবে নিরাপত্তার বিষয়টি। জনগণ যাতে সুষ্ঠুভাবে ভোট দিতে পারেন তার জন্য অনুকূল পরিবেশ বজায় রাখার চেষ্টা করা হবে। এই দিকটি ছাড়া সেনাবাহিনী কোনওভাবেই নির্বাচন প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত থাকবে না। ইতিমধ্যেই দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে থাকা ভোটদান কেন্দ্রের নিরাপত্তায় নিযুক্ত করা হয়েছে প্রচুর সেনা সদস্যকে।



মন্তব্য