kalerkantho


কানাডায় এক মুসলিমের ওপর দুই ভাইয়ের বিদ্বেষপূর্ণ হামলা

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৯ জুলাই, ২০১৮ ১৩:২২



কানাডায় এক মুসলিমের ওপর দুই ভাইয়ের বিদ্বেষপূর্ণ হামলা

এর আশপাশেই ঘটে হামলার ঘটনা

কানাডার অন্টারিওর ঘটনা। সেখানে দুই ভাই মিলে তিনজনের ওপর হামলা করেছেন। আহতদের একজনকে হাসপাতালের নিবীড় পরিচর্যা ইউনিটে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। গত বুধবার কানাডিয়ান পুলিশ জানিয়েছে, বিদ্বেষপূর্ণ মানসিকতা থেকে এমন অপরাধ সংঘটিত হয়েছে। এখন তদন্ত চলছে। 

গত রবিবার রাতে মিসিসাওগা শহরের পুলিশ বিভাগে খবর আসে, সেখানকার এক কমিউনিটি সেন্টারের পার্কিং এরিয়ায় মারামারির ঘটনা ঘটেছে। দ্রুত সক্রিয় হয়ে ওঠে পুলিশ। পরে দুই ব্যক্তিকে আটক করা হয়। একটি মারাত্মক হামলা এবং সঙ্গে আরো দুটো হামলার ঘটনা ফাইলবদ্ধ করা হয়। 

পিল রিজিওনাল পুলিশ জানায়, হামলার সময় আক্রমণকারীরা জাতিগত বিদ্বেষপূর্ণ কথা বলছিলেন। হিংসা ও ঘৃণাপূর্ণ মানসিকতায় প্রভাবিত হয়ে এমন হামলা চালানো হয়েছে। 

এ বিষয়ে কথা বলেছেন আক্রান্তরা। সিএনএন এর নিউজ পার্টনার সিবিসি-কে ডায়ানা অ্যাটার নামের এক নারী বলেন, 'আমি এবং আমার স্বামী মোহাম্মেদ আবু মারজোক একটি পিকনিক শেষ করে আসছি। গাড়িতে উঠেছি। তখন ওই দুই ব্যক্তি পাশ দিয়েই যাচ্ছিলেন। 

ওই সময়ই তাদের ইঙ্গিত করে '... (প্রকাশযোগ্য নয়) আরব' এবং 'সন্ত্রাসী' বলে চিৎকার করতে থাকেন। তারা অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। এমন আচরণ দেখে মারজোক গাড়ি থেকে বের হন। সঙ্গে সঙ্গেই এক ব্যক্তি তার মুখে ঘুষি মারেন। এ সময় তার স্ত্রী এবং আরেক বন্ধু বাঁচাতে এগিয়ে আসলে তারাও আক্রমণের শিকার হন। 

পরে মারজোকের বন্ধু ফুয়াত ইউসেল সিবিসি-কে বলেন, 'আমি এই দেশে ৩৯ বছর ধরে বাস করছি। কোনদিন এমন ঘটনার শিকার হইনি। এটা জাতিগত বিদ্বেষপূর্ণ আচরণ, এতে কোনো সন্দেহ নেই। এটা কি ইসলামভীতি? এটা এখনো আছে'। 

বেশ আহত হয়েছেন মারজোক। তার মুখে ফ্র্যাকচার হয়েছে। মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ বন্ধ করতে সার্জারিও করতে হয়েছে। টরোন্টো হাসপাতালের নিবীড় পরিচর্যা কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন রয়েছেন তিনি। তার অবস্থা গুরুতর হলেও শঙ্কামুক্ত আছেন, জানান স্ত্রী। 

অ্যাটার বলেন, পুলিশ না আসলে আমি স্বামীকে হারাতাম। অথচ এই হামলা কোনো কারণেই নয়। ঘটনাক্রমে যেখানে হামলার ঘটনা ঘটেছে তার পাশেই পুলিশ সদস্যরা ডিউটিতে ছিলেন। খুব দ্রুত তাদের সহায়তা পান তিনি। 

অ্যাটার এবং ইউসেলের আঘাত খুব বেশি নয়। স্বামীকে বাঁচানোর জন্য যখন তিনি উপুর হয়ে আগলে রাখতে চাইছিলেন, তখন তাকে লাথি মারা হয়। 

আক্রমণকারীরা জামিনের শুনানিতে উপস্থিত হয়েছিলেন গত সোমবার। মুচলেকা দিয়ে ছাড়া পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন পিল রিজিওনাল পুলিশের কনস্টেবল বেলি সাইনি। 
সূত্র: সিএনএন 



মন্তব্য