kalerkantho


বিচারের কাঠগড়ায় সিঙ্গাপুরের বাকস্বাধীনতা

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৮ জুলাই, ২০১৮ ১৬:৩৫



বিচারের কাঠগড়ায় সিঙ্গাপুরের বাকস্বাধীনতা

সিঙ্গাপুরের পুরাতন সুপ্রিম কোর্ট ভবন

ফেসবুক পোস্ট নিয়ে অনেক দেশেই সামাজিক ও রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি হয়। সিঙ্গাপুরও ব্যতিক্রম নয়। দুটো ফেসবুক পোস্ট চলতি সপ্তাহে বিশেষজ্ঞদের মাইক্রোস্কোপের নিচে পরীক্ষিত হচ্ছে। এই দ্বীপরাষ্ট্রের হাইকোর্টের সঙ্গে বিতর্কে জড়িয়ে পড়েছেন আইনজীবীরা। আদালত অবমাননা সংক্রান্ত এক আইন নিয়ে সভার প্রথম কার্যবিবরণীতে বিতর্ক করেন আইনজীবীরা। ২০১৭ সালে প্রথমবারের মতো এই আইনের প্রয়োগ শুরু হয়। 

সংশ্লিষ্ট বিষয়ে দেশটির সংসদে এক ম্যারাথন বিতর্ক শুরু হয় ২০১৬ সাল থেকে। 'অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অব জাস্টিস (প্রোটেকশন) অ্যাক্ট'কে নিয়ে শুরু হয় বিতর্ক। এই আইনের মাধ্যমে ন্যায় প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার 'স্ক্যান্ডাল' থেকে 'সত্যিকার ঝুঁকি'র মধ্যে চলে যাবে, নাকি 'নগন্য ঝুঁকিতে' পড়বে তা নিয়ে দেখা দেয় সংশয়। 

সমালোচকদের অনেকেই মত প্রকাশ করেন যে, আইনের এমন পরিবর্তন সিঙ্গাপুরে বাকস্বাধীনতাকে বাধাগ্রস্ত করবে। প্রায় বছর দুয়েক পর যাবতীয় বিতর্ক আইনি পরীক্ষা সম্মুখীন হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার আইনজীবীরা বিতর্কে বলেন, এই পরিবর্তন আসছে সংবিধান পরিপন্থী ছিল। 

অ্যাটর্নি জেনারেলের চেম্বার (এজিসি) দুই অ্যাক্টিভিস্টকে কারাগারে প্রেরণের আবেদন করে। এদের একজন জোলোভান হোয়াম। অন্যজন বিরোধীদলীয় রাজনৈতিক কর্মী জন ট্যান। তাদের ফেসবুক পোস্টের ভিত্তিতে অভিযোগ তোলে এজিসি। অভিযোগে বলা হয়, তাদের পোস্ট সিঙ্গাপুরের আদালতের বিশুদ্ধতা এবং ন্যায়পরায়ণতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। সেই সঙ্গে সিঙ্গাপুরের বিচারব্যবস্থার প্রতি মানুষের আত্মবিশ্বাসে চিড় ধরাবে। 

হোয়াম তার পোস্টে মালয়েশিয়ার অ্যান্টি-ফেক নিউজ অ্যাক্টের প্রসঙ্গে তোলেন এবং বলেন যে রাজনৈতিক প্রভাববয়ল থেকে মালয়েশিয়ার বিচারকরা সিঙ্গাপুরের বিচারকদের চেয়ে অনেক স্বাধীন। তখন তার বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগ তোলে এজিসি। তখন বিরোধীদলীয় সিঙ্গাপুর ডেমোক্রেটিক পার্টির কর্মী ট্যান তার এক পোস্টে লেখেন, জোলেভানের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলার অর্থ তিনি যা বলেছেন তা সত্য। পরে ট্যানের বিরুদ্ধেও দাঁড়ায় এজিসি। 

এখন, তাদের পোস্টগুলো যে ভাইরাল হয়েছে তা নয়। হোয়ামের ফলোয়ার সংখ্যা ৭ হাজারের বেশি। তাছাড়া এগুলো খুব বেশি শেয়ারও হয়নি। কিন্তু এটা নিয়ে আদালতে দিনব্যাপী শুনানি চলে। 

এজিসি লিখিত বক্তব্য জানায়, হোয়াম উদ্দেশ্যমূলকভাবে তার পোস্ট প্রকাশ করেছেন। এর মাধ্যমে ইন্টারনেটে ছড়ানোর ব্যবস্থা করেছেন এবং আদালতের ওপর মানুষের আত্মবিশ্বাসে চিড় ধরিয়েছেন। 

সিনিয়র স্টেট কাউন্সেল ফ্রান্সিস এং আদালতে অভিযোগ তুলে বলেন, হোয়াম বিচারব্যবস্থাকে 'স্ক্যান্ডালের' মধ্যে ফেলে দিয়েছেন। এটা এক ধরনের আদালত অবমাননা। 

অন্যদিকে, হোয়ামের আইনজীবী চু ঝেং জি তর্কে উপস্থাপন করেন, তার মক্কেল সিঙ্গাপুরের আদালতকে পরাধীন বলেননি। তিনি কেবল দুই দেশের আদালতের মধ্যে সামান্য তুলনা করেছেন। 

এভাবেই চরছে দুই পক্ষের যুক্তি ও পাল্টাযুক্তি। তবে আইনটা কতটা বাকস্বাধীনতা পরিপন্থী তা পরীক্ষা করতে চায় সরকার। এটা কী আসলেই ঝুঁকিপূর্ণ, নাকি সামান্য ঝুঁকিপূর্ণ নাকি অন্যকিছু তা বুঝতেই এই বিতর্ক ও পরীক্ষা। ২০১৬ সালে 'অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অব জাস্টিস (প্রোটেকশন) অ্যাক্ট' পাস হয়। গত বছরের অক্টোবর থেকে তার প্রয়োগ শুরু হয়। এরপর এ আইন নিয়ে এটাই প্রথম শুনানি অনুষ্ঠিত হলো। 

এখন এ বিষয়টা আসলে আদালতের হাতে নেই। এটা চলে যাবে সংসদের হাতে। সেখানে বাকস্বাধীনতা রক্ষা এবং বিচারব্যবস্থার সুনাম ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থায় আনা হবে, এমনটাই মনে করেন সিনিয়র কাউন্সেল। 

হাইকোর্ট বিষয়টি বিবেচনায় রেখেছে এবং রুল জারির জন্য পরবর্তী দিন ধার্য করবেন। এই আইনের অধীনে আদালত অবমাননার অভিযোগ প্রমাণিত হলে দোষী সিঙ্গাপুরের মুদ্রায় এক লাখ ডলার (প্রায় ৬২ লাখ ১১ হাজার টাকা) অথবা তিন বছরের জেল কিংবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হতে পারেন। 
সূত্র: এশিয়া টাইমস 



মন্তব্য