kalerkantho


নাগরিকত্বই নেই গুহায় 'আটকা পড়া' চারজনের

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১২ জুলাই, ২০১৮ ১৮:৪৮



নাগরিকত্বই নেই গুহায় 'আটকা পড়া' চারজনের

রাশিয়া বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচ দেখার জন্য থাইল্যান্ডের গুহায় আটকা পড়া খুদে ফুটবলার ও তাদের কোচকে আগেই আমন্ত্রণ জানিয়ে রেখেছে ফিফা। কিন্তু রাশিয়া তো দূরের কথা, বিদেশে যাওয়া তাদের পক্ষে সম্ভব নয়।

থাইল্যান্ডের থাম লুয়াং গুহায় আটকে পড়া ফুটবল দলটির কোচ এক্কাপল চান্টাওং-সহ তার তিন শিষ্য ডুল, মার্ক ও টি'র নাগরিকত্ব নেই বলে জানা গেছে। তাদের পাসপোর্ট-ভিসা তো দূরের কথা, নাগরিকত্বও নেই। আশ্রয়হীন ভবঘুরে তারা চারজন।

২৫ বছর বয়সী এক্কাপল এখন দেশের হিরো। ধন্য ধন্য পড়ে গেছে তার শিষ্যদের নামেও। ১৭ দিন পর সবাইকে উদ্ধার করার পরে এক ডুবুরি যেমন বলেন, ভাবা যায় না, এতগুলো দিন ওই পরিস্থিতিতে থেকেও ওরা কী শান্ত রয়েছে! কী ঠান্ডা মাথা। এত মনের জোর ওরা পেল কোথা থেকে!

সমস্ত কৃতিত্ব এক্কাপলকেই দিতে চান থাইল্যান্ডের বাসিন্দারা। তাদের ভাষায়, তিনি শক্ত না থাকলে, এই অসাধ্য সাধন হত না। ব্রিটিশ উদ্ধারকারী দল গুহায় ফুটবল দলের খোঁজ পাওয়ার আগে নয় দিন পাতালের অন্ধকারে কাটিয়ে ফেলেছিল তারা। ঘুম নেই, খাওয়া নেই, অন্ধকারে পানির উপরে জেগে থাকা চ্যাপ্টা পাথরে বসে কাটিয়ে দেওয়া ঘণ্টার পর ঘণ্টা। দিনরাতের হিসেব নেই। কেউ আদৌ তাদের খুঁজতে আসবে কি না, তা-ও জানা নেই। শুধুই অপেক্ষা।

গত ৭ জুলাই এক্কাপলের উদ্দেশে চিঠি লিখেছিলেন খুদে ফুটবলারদের মা-বাবারা। তারা লেখেন, নিজেকে দোষ দেবেন না। আমাদের ছেলেদের একটু দেখবেন, তা হলেই হবে।

জবাবে ক্ষমা চেয়ে নিয়ে এক্কাপল জানান, তার পক্ষে যতটা সম্ভব, তিনি করবেন। গত ২৩ জুন দলের ছেলেদের নিয়ে ওই গুহায় ঢুকেছিলেন এক্কাপল। মঙ্গলবার সবার শেষে গুহা থেকে বের হন তিনি।

স্কুলে পড়াকালীন সন্ন্যাসী হবেন বলে স্থির করেছিলেন এক্কাপল। কিন্তু পরে দাদির দেখাশোনা করতে সন্ন্যাসব্রত ছাড়েন। ফুটবল কোচ হন। তাদের ফুটবল ক্লাবের কর্তা নপারাত খানথাভং বলেন, ছেলেগুলোর কাছে নাগরিকত্ব পাওয়া স্বপ্নের মতো। ওরা তো চিয়াং রাইয়ের বাইরে কোথাও খেলতে যেতে পারে না। সামনের মওসুমে ওদের আমন্ত্রণ জানিয়েছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। কিন্তু পাসপোর্ট ছাড়া তো যাওয়া সম্ভব নয়।

 



মন্তব্য