kalerkantho


অভিবাসন প্রত্যাশী শিশুদের কান্নায় মুখরিত মার্কিন বন্দিশিবির

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২০ জুন, ২০১৮ ১০:৪৬



অভিবাসন প্রত্যাশী শিশুদের কান্নায় মুখরিত মার্কিন বন্দিশিবির

ছবি অনলাইন

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সীমান্ত পেরিয়ে কোনো পরিবার যদি দেশটিতে প্রবেশ করতে চায় তাহলে তাদের আটক করে বন্দি শিবিরে রাখা হয়। তবে মার্কিন নীতি অনুযায়ী শিশুদের পরিবারের বড় সদস্যদের থেকে আলাদা করে রাখা হয়। আর এতে তৈরি হচ্ছে রীতিমতো হৃদয়বিদারক পরিবেশের। কারণ শিশুরা হঠাৎ করেই বাবা-মা ছাড়া নতুন পরিবেশে বিপদে পড়ে যাচ্ছে।

চলতি বছরের ৮ এপ্রিল ‘জিরো টলারেন্স নীতি’ ঘোষণা করে ট্রাম্প প্রশাসন। এরপর থেকে অভিবাসীদের আটক অভিযান জোরদার করা হয়।

অভিবাসীদের আটকে রাখার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সীমান্তজুড়ে ৯৬১টি বন্দিশিবির তৈরি করা হয়েছে। এ শিবিরগুলোর বেশির ভাগই অস্থায়ী। যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের চেষ্টাকালে অভিবাসীদের আটকে রাখার জন্য এগুলো ব্যবহার হয়ে থাকে।
 
শিশুদের জন্য পৃথক বন্দিশিবির তৈরি করা হয়েছে  যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকো সীমান্তজুড়ে। ১৭টি রাজ্যে শিশুদের জন্য অন্তত ১০০টি বন্দিশিবির রয়েছে। প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার আমল থেকে এসব বন্দিশিবির নির্মাণ শুরু হয়। তবে বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে বন্দিশিবিরগুলোর নির্মাণকাজ দ্রুত শেষ করা হয়।

জানা গেছে, গত ছয় সপ্তাহে প্রতিদিন গড়ে ৪৬ জন নিরপরাধ অভিবাসী শিশুকে বন্দি করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি রাজ্যের সীমান্তজুড়ে প্রায় ৯৬১টি বন্দিশিবির রয়েছে। এসব শিবিরে বর্তমানে ১১ হাজার ৭৮৫ শিশু বন্দি অবস্থায় রয়েছে।

বন্দিশিবিরে আটক শিশুরা তাদের বাবা-মাকে কোথায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে, তারা তার বিন্দুবিসর্গও জানে না। জানে না, মা-বাবার সঙ্গে তাদের আর কোনোদিন দেখা হবে কিনা। এমনকি অপরিচিত স্থানে তাদের কেউই একে অন্যকে চেনে না।
 
বন্দি এই শিশুদের জীবন যন্ত্রণার কথা এতদিন বাইরে আসেনি। ট্রাম্প প্রশাসন এতদিন প্রচার মাধ্যমের নজর থেকে তাদের দূরে সরিয়ে রাখতে সক্ষম হয়েছিল। কিন্তু বন্দিশিবির থেকে শিশুদের কান্নার একটি অডিও বার্তা ফাঁস হয়ে গেছে, যা অনেকেরই নজরে পড়েছে।

ফাঁস হওয়া অডিওতে শোনা যাচ্ছে, শিশুদের আর্তচিৎকার। স্প্যানিশ ভাষায় ‘মা, মা ‘ড্যাডি, ড্যাডি’ বলে কাঁদতে শোনা যাচ্ছে শিশুদের।

গোপনে সেই শিশুদের কথা রেকর্ড করে প্রকাশ করেছে অলাভজনক সাংবাদিক সংস্থা ‘প্রোপাবলিকা’। সেই গোপন রেকর্ডিং সোমবার প্রকাশ পেতেই মার্কিন সীমান্তে ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতি নিয়ে সমালোচনার ঝড় বইতে শুরু করেছে।  প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দল রিপাবলিকান পার্টির অনেক নেতাও এর সমালোচনা করেছেন। এমনকি মার্কিন ফার্স্ট লেডিও এজন্য সহানুভূতি প্রকাশ করেছেন।



মন্তব্য