kalerkantho


রমজান মাসে অশালীন পোশাক, অনুষ্ঠানেই চাকরি গেল টিভি উপস্থাপিকার

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৪ জুন, ২০১৮ ২০:১০



রমজান মাসে অশালীন পোশাক, অনুষ্ঠানেই চাকরি গেল টিভি উপস্থাপিকার

রমজান চলছে, তারই মাঝে অশালীন পোশাক পরার অপরাধে চাকরি গেল এক টেলিভিশন উপস্থাপিকার৷। সেদেশের মুসলিমদের তিনি অপমান করেছেন এই ইস্যুতে অনুষ্ঠান চলাকালীন তাঁকে বরখাস্ত করা হয়।

এই ঘটনাটি ঘটেছে কুয়েতের সরকারি টেলিভিশন চ্যানেল কুয়েত টেলিভিশনে। অন এয়ার অর্থাৎ অনুষ্ঠান সম্প্রচার হওয়ার সময়েই তাঁকে বরখাস্ত করা হয় বলে জানা গিয়েছে। তাঁর পোশাক বিতর্ক আগুন লাগিয়েছে নেটিজেনদের মধ্যেও। সোশ্যাল মিডিয়ায় উঠেছে বিতর্কের ঝড়।

উপস্থাপিকা আমল আল আওয়াধি যে পোশাকটি পরেছিলেন, তাতে সর্বাঙ্গ ঢাকা থাকলেও, বেশ আঁটোসাঁটো ছিল, দেখা যাচ্ছিল বক্ষ বিভাজিকাও। এতেই বিতর্ক চরমে ওঠে। সোশ্যাল মিডিয়ায় সম্প্রচার হওয়ার সময় আসতে থাকে একের পর এক ক্ষুব্ধ কমেন্ট।

বিতর্ক এতটাই ছড়িয়ে পড়ে যে তা পৌঁছয় কুয়েতের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের কাছে। বিতর্ক থামাতে মন্ত্রণালয় থেকে জানতে চাওয়া হয় কেন এই ধরণের পোশাক পরে টিভি অনুষ্ঠান সম্প্রচার করছিলেন তিনি।

শেষে অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার মিনিট খানেক আগে, ঘোষণা করা হয় আল আওয়াধিকে চ্যানেল থেকেই ছেঁটে ফেলা হচ্ছে। ওই অনুষ্ঠানেই এই ঘোষণা করা হয়।

বিতর্কের সূত্রপাত ইনস্টাগ্রামে তাঁর পোশাকের বিভিন্ন ভঙ্গিতে ছবি দেওয়াকে কেন্দ্র করে। সেখান থেকেই সমালোচনার ঝড় শুরু হয়। বেশ কয়েকজন দর্শক এই পোশাককে রীতিমতো অশ্লীল ও অশালীন বলে ব্যাখ্যা করেন, চ্যানেল কর্তৃপক্ষের কাছে জবাবদিহিও চান। পবিত্র রমজান মাস চলাকালীন কেন এই ধরণের পোশাক পরা হবে, তার কৈফিয়ৎ চাওয়া হয়।

তবে এই বিষয় স্বীকার করেছেন আল আওয়াধি। তাঁর আরও সতর্ক হওয়া উচিত ছিল বলে স্বীকার করেছেন তিনি।

এরআগে, টিভিতে লাইভ সম্প্রচারের সময় পুরুষ সহকর্মীকে ‘হ্যান্ডসাম’ বলে বসেন কুয়েত টিভির এক সঞ্চালিকা। তাই শেষমেশ চাকরিই খোয়াতে হয় সেই সঞ্চালিকাকে। একটি অনুষ্ঠান সম্প্রচার করছিলেন বাসিমা আল-শামার নামে ওই সঞ্চালিকা। সংবাদ সংস্থা আল আরাবিয়া ইংলিশ সূত্রে খবর, সম্প্রচার চলার সময় স্থানীয় রিপোর্টার নওয়াফ অল-শিরাকির সঙ্গে কথোপকথন শুরু হয় বাসিমার। তখনই তাঁকে হ্যান্ডসাম বলেন বাসিমা।

গোটা ঘটনাকে ‘অশালীন’ আখ্যা দিয়ে বাসিমাকে সাময়িক ভাবে বরখাস্ত করে কুয়েতের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রক। বিধায়ক মহম্মদ অল-হায়াফ টুইটারে লেখেন, একজন সরকারি টিভি চ্যানেলের সঞ্চালিকার এই ধরনের মন্তব্য কখনওই শোভনীয় নয়। ভবিষ্যতে এমন ঘটনা বরদাস্ত করা হবে না।



মন্তব্য